Category: রাজনীতি

  • ১৭ মে জনগণের ক্ষমতায়ন দিবস ঘোষণা করা উচিত: বললেন যুবলীগের চেয়ারম্যান

    ১৭ মে জনগণের ক্ষমতায়ন দিবস ঘোষণা করা উচিত: বললেন যুবলীগের চেয়ারম্যান

    শেখ হাসিনার ৩৭তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে গতকাল মহানগর নাট্যমঞ্চে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী-আমার সংবাদ

    ১৭ মে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস বাংলাদেশের জনগণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দিনটিতে বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশে না ফিরলে এ দেশের জনগণের ক্ষমতায়ন হতো না। তাই এই দিনটিকে জনগণের ক্ষমতায়ন দিবস হিসেবে ঘোষণা করা উচিত বলে মনে করেন বাংলাদেশ যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী।

    গতকাল রোববার রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ যুবলীগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি। সভাপতির বক্তব্যে যুবলীগ চেয়ারম্যান বলেন, ১৭ মে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিন। বাঙালির অধিকার আদায়, গণতন্ত্র, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশের নবজাগরণের দিন। বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ মনে করে এই দিনটি জনগণের ক্ষমতায়নের দিন। কারণ, রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনাই বিশ্বে একমাত্র নেতা যার একটি রাজনৈতিক দর্শন রয়েছে। মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, ২০১২ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশ্বশান্তির দর্শন জনগণের ক্ষমতায়ন জাতিসংঘে সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়। এটাই আজ ব্শ্বি শান্তির একমাত্র দলিল, একমাত্র পথ নির্দেশিকা। রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার যাবতীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড আবর্তিত হয় জনগণের ক্ষমতায়ন দর্শনের আলোকেই। তিনি বলেন, ১৯৮১ সালের এই দিনে তিনি যখন মাতৃভূমির পবিত্র মাটি স্পর্শ করেন তখন এই দেশ ছিলো গণতন্ত্রহীন। জিয়াউর রহমানের স্বৈরশাসনে এদেশের মানুষ ছিলো অবরুদ্ধ, সংবিধান ছিলো বন্দি, মানুষের অধিকার ছিলো বুটের তলায় পিষ্ট। দেশে ফিরে শেখ হাসিনা একটি লক্ষ্য নিয়েই কাজ করেছেন তা হলো জনগণের ক্ষমতায়ন, জনগণের অধিকার। তিনি মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারায় বাংলাদেশকে ফিরিয়ে এনেছেন। অর্থনৈতিক শৃঙ্খল থেকে জাতির পিতার বাংলাদেশকে মুক্তি দিয়েছেন। যুবলীগ চেয়ারম্যান বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায়। রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা সাগর জয় করেছেন। মহাকাশে উড়িয়েছেন বাংলাদেশের বিজয় পতাকা, বিশ্বের দরবারে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বাংলাদেশকে অনন্য মর্যাদায়। শুধু বাংলাদেশের মানুষের নেতা নন, তিনি আজ বিশ্বমানবতার কণ্ঠস্বর। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ প্রকাশিত ও যুবলীগ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী সম্পাদিত বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনুর রশীদের পরিচালনায় আরও বক্তব্য রাখেন প্রেসিডিয়াম সদস্য শহীদ সেরনিয়াবাত, মজিবুর রহমান চৌধুরী, মো. ফারুক হোসেন, মাহবুবুর রহমান হিরন, আব্দুস সাত্তার মাসুদ, মো. আতাউর রহমান, অধ্যাপক এবিএম আমজাদ হোসেন, শাহজাহান ভুইয়া মাখন, আনোয়ারুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক মহিউদ্দিন আহম্মেদ মহি, মঞ্জুর আলম শাহীন, সাংগঠনিক সম্পাদক মুহা. বদিউল আলম, সম্পাদকম-লীর সদস্য কাজী আনিসুর রহমান, মিজানুল ইসলাম মিজু, ইকবাল মাহমুদ বাবলু, আনোয়ার হোসেন, রওশন জামিল রানা, মনিরুল ইসলাম হাওলাদার, ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি মাইনুল হোসেন খান নিখিল, সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা প্রমুখ।

  • যারা মাইনাস করতে চায় তারা নিজেরাই মাইনাস হয়ে যায় : রিজভী

    যারা মাইনাস করতে চায় তারা নিজেরাই মাইনাস হয়ে যায় : রিজভী

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বিএনপির নির্বাচন করা নিয়ে মন্তব্যের তুমুল সমালোচনা করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘তার এই বক্তব্য জবরদস্তিমূলক একতরফা নির্বাচনেরই ইঙ্গিতবহ। আমরা কাউকে মাইনাস করতে চাই না,কিন্তু যারা অন্যকে মাইনাস করতে চায় তারা প্রাকৃতিক নিয়মে নিজেরাই মাইনাস হয়ে যায়।’

    আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেন।

    খালেদা জিয়া কখনো পরাজিত হননি-এ কথা উল্লেখ করে বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘খালেদা জিয়া যে ক’টি আসনে দাঁড়িয়েছেন তিনি কখনোই সেই নির্বাচনে পরাজিত হননি। কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী পরাজিত হয়েছেন। সুতরাং আইন আদালতসহ সবকিছু কব্জা করে খালেদা জিয়াকে জোর করে সাজা দিয়ে আপনাদের ক্ষমতার ঝাড়বাতির রোসনাই আর বেশী দিন থাকবে না।’

    গতকাল সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গাজীপুরের মহাসড়ক পরিদর্শনে গিয়ে বলেন, ‘বিএনপি আসুক না আসুক, যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কে আসলো আর না আসলো তাতে কিছু আসে যায় না।’

    সেতুমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রিজভী বলেন, ‘খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই বিএনপি দলনিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। খালেদা জিয়াবিহীন কোনো জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি যাবে না,যাওয়ার প্রশ্নই আসে না।’

    তিনি আরও বলেন,‘আপনার বক্তব্যে পরিষ্কার হয়ে গেছে-বেগম খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তাই আপনাদের ভয়। আর সেজন্যই আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে মিথ্যা তথ্যের ওপর সাজানো মামলায় তাকে কারাবন্দী করে রেখেছেন। জামিনযোগ্য মামলায়ও আপনাদের নিষেধের কারণেই জামিন পাচ্ছেন না তিনি। তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে কষ্ট পেলেও তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না।’

    রুহুল কবির রিজভী বলেন,‘সারাদেশে বন্দুক যুদ্ধের নামে মারণযজ্ঞ চলছে। গত তিন দিনে চার জেলায় বিচার বহির্ভূত বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়েছে ৭ জন। এই মাসে যেন পোকামাকড়ের মতো বিচার বহির্ভূত মানুষ হত্যার হিড়িক চলছে। গত রাতেও বরিশালে সাদা পোশাকের পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধের নামে দু’জন নিহত হয়েছে।’

    বাংলাদেশের গুম-খুন ও বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা তীব্র নিন্দার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দেশে যেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিচার বহির্ভূত হত্যার নামে কিলিং প্র্যাকটিস করছে।’

    এ সময় তিনি অবিলম্বে বন্দুকযুদ্ধের নামে বিচার বহির্ভূতভাবে মানুষ হত্যা বন্ধের জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে সকল বিচার বহির্ভূত হত্যার তদন্ত দাবি জানান রিজভী আহমেদ।

  • জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা খালেদা জিয়ার জামিনের বিরুদ্ধে আপিলের রায় আজ

    জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের বিরুদ্ধে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের ওপর আজ বুধবার রায় ঘোষণা করা হবে। গতকাল মঙ্গলবার দিন ধার্য থাকলেও রায় ঘোষিত হয়নি। রায় ঘোষণার পূর্বে অসমাপ্ত বক্তব্য রাখার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আদালতে আবেদন জানান। আদালত বক্তব্য রাখার আবেদন মঞ্জুর করায় রায় ঘোষণা একদিন পিছিয়ে যায়। আজ প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ আপিলের ওপর রায় ঘোষণা করবেন। আদালতের দৈনন্দিন কার্যতালিকার এক নম্বর ক্রমিকে দুটি আপিল রায়ের জন্য অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়েছে।
    গতকাল সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের ওপর রায় ঘোষণার জন্য প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার বিচারপতি এজলাসে আসেন। এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, গত ৯ মে হট্টগোলের কারণে বক্তব্য শেষ করতে পারিনি। আরো শুনানি করতে চাই। কাল (বুধবার) রায়ের জন্য রাখুন। এ পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, যা বলার এখনই বলুন। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এখনই শুনানির জন্য আমি প্রস্তুত নই। রায় ঘোষণার জন্য থাকলেও তো অনেক মামলায় অধিকতর শুনানির সুযোগ দিয়ে থাকেন আপনারা। প্রধান বিচারপতি বলেন, বেঞ্চের একজন বিচারপতি কাল থাকতে পারবেন না। আজই শুনানি করতে হবে আপনাকে। এরপরই বেলা ১২টায় অসমাপ্ত বক্তব্য রাখার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলকে সময় বেধে দেন প্রধান বিচারপতি।
    বেলা ১২টায় অ্যাটর্নি জেনারেল শুনানিতে নাজমুল হুদা, মোহাম্মদ নাসিম, ইকবাল হাসান টুকুর বিরুদ্ধে দুদকের করা মামলায় আপিল বিভাগের রায়ের নজির তুলে ধরে বলেন, অসুস্থতাজনিত কারণে জীবনহানির আশঙ্কা নেই এবং মেডিক্যাল বোর্ডের যথাযথ মতামত না থাকে তাহলে শুধুমাত্র অসুস্থতার যুক্তিতে কাউকে জামিন দেওয়া ঠিক নয়। এসব মামলায় তাদের জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে মেডিক্যাল বোর্ডের যথাযথ মতামত ছিল। সকলেই গুরুতর অসুস্থ ছিল। কিন্তু খালেদা জিয়ার মামলায় মেডিক্যাল বোর্ডের কোনো রিপোর্ট নেই। অসুস্থতার বিষয়ে খবরের কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতে তুলে ধরা হয়েছে।
    জবাবে খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল যেসব মামলার নজির তুলে ধরেছেন এর সবকটিই জরুরি অবস্থা জারির পর করা হয়। জরুরি ক্ষমতা বিধিমালার বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে অসুস্থতার যুক্তিতে হাইকোর্ট ওইসব মামলায় আসামিদের জামিন দেয়। আপিল বিভাগ এসব জামিনে কোনো হস্তক্ষেপ করেনি। শুধু রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, কেননা এসব মামলার উদাহরণ টেনেছি আমরা। আজ অ্যাটর্নি জেনারেল বিস্তৃতভাবে উপস্থাপন করেছেন।
  • আরও বড় হার অপেক্ষা করছে: বিএনপিকে কাদের

    আরও বড় হার অপেক্ষা করছে: বিএনপিকে কাদের

    খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পরাজয় থেকে শিক্ষা নিতে বিএনপিকে পরামর্শ দিয়েছেন ওবায়দুল কাদের। বলেছেন, সামনে আরও বড় হার অপেক্ষা করছে দলটির জন্য।

    বিএনপি জনগণকে পড়তে ভুল করেছে বলে মনে করেন ওবায়দুল কাদের। বলেন, ‘তারা (বিএনপি) সবসময় মনে করতো জনগণ তাদের ভোট দেয়ার জন্য প্রস্তুত ও মুখিয়ে আছে।’

    ‘এখানেই নয় শুধু সামনে তাদের জন্য আরও বড় বড় হার অপেক্ষা করছে। জনবিচ্ছিন্ন হলে রাজনীতিতে কোথায় গিয়ে দাঁড়াতে পারে সেটি সামনের দিনগুলোতে আরও ভালোভাবে বুঝবে।’

    মঙ্গলবার রাতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক।

    কাদের যখন বক্তব্য রাখলিছেন তখন খুলনায় দলের প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেকের জয় নিশ্চিত হয়ে যায়। পরে তিনি বেসরকারিভাবে প্রায় ৬৮ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারান বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে।

    খুলনা শহরটি বরাবর আওয়ামী লীগের দুর্বল এলাকার একটি। স্বাধীনতাবিরোধী মুসলিম লীগ অধ্যুষিত এই শহরে ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বেশিরভাগ নির্বাচনেই জিতেছেন বিএনপির প্রার্থীরা। ২০০৮ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে খালেক সেখানে আওয়ামী লীগের সমর্থনে জিতেন। পাঁচ বছরে তিনি দৃষ্টিগ্রাহ্য উন্নয়ন করলেও ২০১৩ সালে ৬১ হাজার ভোটে হেরেছিলেন বিএনপির মনিরুজ্জামান মনির কাছে।

    কাদের বলেন, ‘খুলনার অন্য অঞ্চলে আওয়ামী লীগের বিজয়ের রেকর্ড থাকলেও শহরাঞ্চলে তেমন ছিল না। এবার দেখুন ভোটের অবস্থা। এটা হয়েছে জননেত্রীর শেখ হাসিনার উন্নয়ন ও অর্জনের কারণে।’

    বিএনপিকে কেন মানুষ ভোট দেবে, সে প্রশ্নও রাখেন আওয়ামী লীগ নেতা। বলেন, ‘মানুষ তো বোকা নয়। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে উন্নয়নের কোন দৃষ্টান্ত রয়েছে যে তার জন্য ভোট চাইতে পারে?’

    “আজকের এ দিনে মানুষ বিএনপির ‘লিপ সার্ভিস’কে ভোট দেবে? মানুষ কি তাদের ফ্রিস্টাইল বক্তব্য দেখে ভোট দেবে নাকি কাজ দেখে? খুলনা থেকে তাদের শিক্ষা নেয়া উচিত।”

    ভোটে কারচুপির বিষয়ে বিএনিপর অভিযোগ নিয়ে কাদের বলেন, ‘তারা সব সময় রেজাল্ট (ফল) পর্যন্ত কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ করে। এটা তাদের পুরানো ভাঙা রেকর্ড। হেরে গিয়ে প্রলাপ বকা ছাড়া তাদের আর কী করার  আছে?’

    ‘কোন নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক আজকের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলে নাই। নির্বাচন কমিশনও বলেছে বিএনপির অভিযোগ সঠিক নয়।’

    ‘বিএনপি ১০০ ভোট কেন্দ্র নিয়ে অহেতুক অভিযোগ তুলেছে। যার জবাব নির্বাচন কমিশন দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন যেখানে বলেছে তারা হ্যাপি সেখানে তো আমাদের কিছু বলার নাই।’

    ‘বিএনপি নেতাদের বসে বসে মিথ্যাচার করা ছাড়া কোন প্রোঅ্যাক্টিভ কাজ নেই। তারা দেশে কোন প্রোঅ্যাক্টিব মুভমেন্ট গড়ে তুলতে পারে নাই। এখন তাদের মিথ্যাচারই সম্বল। আর মাঝে মাঝে কূটনৈতিকদের কাছে ধর্ণা দিয়ে সরকারের নামে নালিশ করা। এটাই তাদের কাজ।’

    আওয়ামী লীগ জনগণের চোখে ধূলো দিয়ে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করছে বলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরু ইসলাম আলমগীরের প্রশ্নেরও জবাব দেন কাদের।

    বলেন, ‘আপনাদের (সাংবাদিক) চোখে কি ধূলো পড়েছে? আপনারা কি মিড়িয়ার বাহিরে? আপনাদের প্রতিনিধিদের কি খুলনায় নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে?’

    নির্বাচন কমিশন সরকার দলের প্রার্থীকে জেতাতে উঠেপড়ে লেগেছে বলে বিএনপির অভিযোগ নিয়েও কথা বলেন কাদের। বলেন, ‘কুমিল্লায় তো তারা এ কথা বলে নাই। আমরা তো তখন বলি নাই ইসি বিএনপির দিকে একচোখা নীতি নিয়ে অবস্থান নিয়েছে।’

    আইনজীবীদের বার কাউন্সিলে ১৪ টি পদের মধ্যে ১২টিতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর জয়ের কথাও উল্লেখ করেন কাদের। জানান, আজকে খুলনা মহানগর ছাড়াও ১২টি ইউনিয়নে ভোটে সাতটিতে আওয়ামী লীগ, তিনটিতে দলের বিদ্রোহী ও দুইটিতে বিএনপির প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে জিতেছেন। এর বাইরে একটি উপজেলা ও পৌরসভাতেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।

    কাদের বলেন, ‘এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের শতকরা ৯০ ভাগে আমরা বিজয়ী হয়েছি।’

    সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য এইচটি ইমাম, রাশিদুল আলম, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, আব্দুর রাজ্জাক, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, আহমদ হোসেন, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আবদুস সোবহান গোলাপ, দেলোয়ার হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, আব্দুস সবুর, উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য মারুফা আক্তার পপি প্রমুখ।

  • স্যাটেলাইটের মালিক বিএনপিও: ওবায়দুল

    স্যাটেলাইটের মালিক বিএনপিও: ওবায়দুল

    বাংলাদেশ যে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছে সেটির মালিকানা দেশের ১৬ কোটি মানুষের মতো বিএনপিরও রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ওবায়দুল কাদের। আর এই সাফল্য উদযাপন না করে সমালোচনার কারণে বিএনপির দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

    আগের দিন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বঙ্গবন্ধু-১ এর মালিকানা দুই জনের হাতে চলে গেছে বলে বক্তব্য দেয়ার পর এভাবেই জবাব দিলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

    শুক্রবার দিবাগত রাত দুইটা ১৪ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে উৎক্ষেপণ হয় বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১। এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পর বিএনপি নেতারা নানা নেতিবাচক মন্তব্য করে আসছেন।

    এর মধ্যে শনিবার রাজধানীতে এক আলোচনায় স্যাটেলাইটের মালিকানা নিয়ে সংশয়ের কথা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ওটার (বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট) মালিকানা চলে গেছে, জানেন তো? এই স্যাটেলাইটের মালিকানা চলে গেছে দুজন লোকের হাতে এবং সেখান থেকে আপনাদেরকে কিনে নিতে হবে।’

    স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করায় রবিবার বিকালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দেয় আওয়ামী লীগ। এ সময় ফখরুলের বক্তব্যের জবাব দেন কাদের।

    আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এই স্যাটেলাইটের মালিক বাংলাদেশ এবং দেশের ১৬ কোটি মানুষ। আমরা বিএনপিকেও এর সঙ্গে যুক্ত করি। কিন্তু কেন দুইজন মানুষের কাছে নিচ্ছে?’।

    মির্জা ফখরুলকে সেই দুই জনের পরিচয় দেয়ার চ্যালেঞ্জ দিয়ে কাদের বলেন, ‘কোন সেই দুইজন মানুষ? এর তথ্য প্রমাণ বিএনপিকে দিতে হবে। যদি না করতে পারে তার জন্যও তাদের উচ্চ মূল্য দিতে হবে।’

    মির্জা ফখরুল ছাড়াও বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতা এই প্রকল্পকে দুর্নীতিও অপচয়ের প্রকল্প বলে দাবি করেছেন। আর এসব বক্তব্যেলর সমালোচনা করে কাদের বলেন, ‘তারা দেশ জাতির সাফল্যকে মেনে নিতে পারে না, হীনমন্যতায় তাদের কোনো জুরি নেই। আমি তো আগেই বলেছি- তাদের দেশপ্রেম নিয়েও মানুষ সন্দেহ করতে শুরু করেছে।’

    বঙ্গবন্ধু-১ বাংলাদেশের টিভি সম্প্রচারের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে জানিয়ে কাদের বলেন, ‘এতদিন আমরা ভাড়া করে স্পেস নিয়ে সম্প্রচার করতাম। এখন আমরা নিজেরাই নিজেদের সামর্থ দিয়ে সম্প্রচার করতে পারব।’

    ‘আমাদের যেটা সাশ্রয় হবে সেটা এক্সপোর্ট করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের স্বর্ণদুয়ার উন্মোচিত হলো। তার মানে সমৃদ্ধির আরেকটি ধাপ আমরা অতিক্রম করলাম।’

    ‘এটা শুধু বিজয় নয়, এটা ঐতিহাসিক বিজয়। শুধু সাফল্য নয়, ঐতিহাসিক সাফল্য।’

    বর্তমান সরকার অনেক ছোট ও মাঝারি অর্জনের সঙ্গে কতগুলো বড় বড় বিজয়ও করছে বলে দাবি করেন কাদের। বলেন, ‘মোটা দাগে বলতে গেলে তিনটির কথা বলতে হয়। একটি সীমান্ত বিজয়, সমুন্দ্র বিজয়, এখন হচ্ছে মহাকাশ বিজয়।’

    ‘ফ্লোরিডার অরলেন্ডো ক্যানেডি স্পেস সেন্টার থেকে যে ঐতিহাসিক শুভযাত্রা সূচনা করলো সেটা এখন অন দ্য ওয়ে টু অরবিট। এটা আমাদের জন্য বিশাল বিষয়।’

    ভোট নিয়ে বিএনপির অভিযোগ ভাঙা রেকর্ড

    খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অভিযোগেরও জবাব দেন কাদের। গণমাধ্যম কর্মীদের এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘

    বিএনপির এ অভিযোগ পুরোনো। এটা তাদের ভাঙা রেকর্ড।’

    ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে রাজশাহী, সিলেট, বরিশালসহ পাঁচ সিটিতে জিতেছিল। কিন্তু তারপরও তারা রেজান্ট নিয়েও নালিশ করেছিল। কাজেই এটা তাদের পুরনো অভ্যাস।’

  • বিএনপিই খালেদা জিয়ার মুক্তি চায় না: হাছান

    বিএনপিই খালেদা জিয়ার মুক্তি চায় না: হাছান

    বিএনপি নেতারাই তাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চান না বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ।

    মঙ্গলবার বিএনপি নেত্রীকে দেয়া জামিন আবেদনের বিরুদ্ধে  দুদক এবং রাষ্ট্রপক্ষের আপিল শুনানির দিন মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনায় অংশ নিয়ে হাছান এ কথা বলেন। ‘কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৭৫তম জন্মজয়ন্তী’ উপলক্ষে এই আলোচনায় কথা বলছিলেন তিনি।

    ক্ষমতাসীন দলের নেতা বলেন, ‘বিএনপি নেতারা চান না বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পাক। বিএনপির যে নেতারা মনে করেন বেগম খালেদা জিয়া জেলে থাকলে তাদের ভোট বাড়ে, তারা নিশ্চয় বেগম জিয়া জেল থেকে মুক্তি পেয়ে বেরিয়ে আসুক তা চাই না।’

    ‘সুতরাং তাদের এই আদালতে যে জামিন প্রার্থনা এগুলো বিএনপির পক্ষ থেকে নাটক মঞ্চায়ন ছাড়া অন্য কোন কিছু নয়। তারা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে মোটেও আন্তরিক নয়।’

    ‘বেগম খালেদা জিয়াকে ভিন্ন কৌশলে আন্দোলন করে বের করব’- বিএনপি নেতাদের সাম্প্রতিক এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে হাছান মাহমুদ বলেন, তাহলে ভিন্ন কৌশলটা কী?’

    ‘কৌশল দুটি হতে পারে একটি হচ্ছে ২০১৩,১৪,১৫ সালে আমরা যে কৌশল দেখেছি মানুষের উপর পেট্টল বোমা নিক্ষেপ করার সেই কৌশল। আর অপরটি হচ্ছে ষড়যন্ত্র।’

    ‘গাজীপুর সিটি নির্বাচনের মতো দেশে সাধারণ নির্বাচনও স্থগিত হয়ে যেতে পারে’ ড. কামাল হোসেনের এমন মন্তব্যেরও সমালোচনা করেন হাছান। বলেন, ‘তার মানে দেশে সাধারণ নির্বাচন হোক গনতন্ত্রের যাত্রা অব্যাহত থাকুক সেটি তারা চায় না। ১/১১ কুশিলব হচ্ছে ড. কামাল হোসেনরা। তারাই দেশে নির্বাচন স্থগিত করেছিলেন।’

    ‘এই ড. কামাল হোসেন তত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদ তিন মাস যতদিন ইচ্ছা কতদিন থাকতে পারবে সেই আইনি ফতুয়া দিয়েছিলেন। সুতরাং তারা যে ভেতরে ভেতরে ষড়যন্ত্র করছে সেটি গতকাল মুখ ফসকে বেরিয়ে এসছে।’

    ‘গাজীপুর নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় আমরা নিজেরা হতাশ। কারণ আমরা এই নির্বাচনে জয়লাভের বিষয়ে শতভাগ আশাবাদী ছিলাম। এবং এই নির্বাচন স্থগিত পিছনে কাদের ষড়যন্ত্র মওদুদ আহমেদের এই মামলার পক্ষে গত এপ্রিল মাসে লড়ার মধ্যদিয়ে সেটি পরিষ্কার।’

    আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা চিত্তরঞ্জন দাশের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক সারাহ বেগম কবরী, আওয়ামী লীগ নেতা বলরাম পোদ্দার, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অরুন সরকার রানাসহ প্রমুখ এ সময় বক্তব্য রাখেন।