Category: রাজনীতি

  • আগামীতে কোনও সিন্ডিকেটের কথায় ছাত্রলীগ চলবে না : ওবায়দুল

    আগামীতে কোনও সিন্ডিকেটের কথায় ছাত্রলীগ চলবে না : ওবায়দুল

    বাংলাদেশ ছাত্রলীগে যারা আগামী কমিটির নেতৃত্বে আসবেন, তারা কেউ কোনও সিন্ডিকেটের কথায় চলবে না বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগ চলবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে এবং শেখ হাসিনার নির্দেশে। এর বাইরে চিন্তা করার কোনও অবকাশ নেই।’

    রবিবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে ঢাবির ছাত্রলীগের সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন ৷

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ছাত্রলীগকে সুনামের ইতিহাস ফিরিয়ে আনতে হবে। আমি চাই ত্যাগী ও যোগ্য নেতৃত্ব। কারণ, কারও পকেটের ওপর নির্ভর করে ছাত্রলীগের কমিটি হবে না।’

    ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘পরগাছারা যাতে নেতৃত্বে আসতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’

    তিনি ছাত্রলীগের সভাপতি সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক জাকিরের উদ্দেশে বলেন, ‘সোহাগ-জাকির তোমরা ছাত্রলীগকে নেতৃত্ব দিয়েছো। তোমাদের বলবো ভালো এবং যোগ্য নেতৃত্ব বানিয়ে যাও, তাহলে সবাই মনে রাখবে। বাংলাদেশ অকৃতজ্ঞ নয়, যোগ্যদের মর্যাদা দিতে সবাই জানে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে ভোটার বাড়াতে হলে যোগ্য, সাহসী, চরিত্রবান নেতা দরকার। আমি বর্তমান কমিটির অর্জনকে অস্বীকার করছি না। যারা সাবেক হবে সব নেতাকে আমরা নেতা বানাবো। সব নেতাকে আমরা উপ-কমিটিতে স্থান দিবো। আমি কথা দিলাম, তোমরা কেউ যদি তাতেও স্থান না পাও, তাহলে আমার সঙ্গে কাজ করবে। কর্মীর মূল্যায়ন আওয়ামী লীগ করতে জানে। শেখ হাসিনা যতক্ষণ আছেন, যোগ্য কর্মীর মূল্যায়নও ততদিন থাকবে।’

    এ সময় সম্মেলনে কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান কমিটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্সের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন, সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ। সভাপতিত্ব করেন ঢাবি ছাত্রলীগ সভাপতি আবিদ আল হাসান।

  • সেনা মোতায়েনের এখতিয়ার নেই ইসির : ওবায়দুল কাদের

    সেনা মোতায়েনের এখতিয়ার নেই ইসির : ওবায়দুল কাদের

    গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচনকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অধীনে কাজ করবে। কিন্তু সেনাবাহিনী থাকবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে। তাই ইসি চাইলেও সেনা মোতায়েন করতে পারবে না। গতকাল রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপ-কমিটির বৈঠক শেষে তিনি একথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, তারা (নির্বাচন কমিশন) সরকারকে শুধু অনুরোধ করতে পারবে। সরকার পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রয়োজন মনে করলে সেনাবাহিনী মোতায়েন করবে।

    এ বিষয়ে সংবিধানে সব কিছু বলা আছে। কেউ চাইলেও সংবিধানের বাইরে যেতে পারবে না। তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে সেনাবাহিনী শুধু স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে। ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দেয়া হবে পরিস্থিতি বিবেচনায়। তিনি বলেন, সারা বিশ্বে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে থাকেন। তাহলে আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও এমপিরা কেন পারবে না। এ বিষয়ে আমরা ইসির সঙ্গে বসবো। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি নেতারা বেগম জিয়াকে নিয়ে একেক সময় একেক রকম বক্তব্য দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করছিলেন। তাকে জোর করে হাসপাতালে নেয়ার প্রশ্নই আসে না। তিনি হাসপাতালে যাওয়াতে অবশ্য একদিক থেকে সুবিধা হয়েছে।

    জাতি দেখেছে তিনি কতটুকু অসুস্থ। তিনি বলেন, আমার তো মনে হয় তিনি জেলে যাওয়ার আগে যতটুকু সুস্থ ছিলেন, জেলে যাওয়ার পর আরো বেশি হাস্যোজ্জ্বল ও সুস্থ মনে হয়েছে। তিনি সুস্থ থাকুক আমরা চাই। এ সময় বিএনপির সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি কথায় কথায় বিদেশিদের কাছে ছুটে যায়। তাদের এ কাজ জাতীয় সম্মানের জন্য মোটেই শুভ নয়। বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, যদি আপনাদের নালিশ থেকেই থাকে জনগণের কাছে করুন। উপ-কমিটির দায়িত্ব তুলে ধরে ওবায়দুল কাদের বলেন, মাঝে মাঝে এমন কিছু ইস্যু আমাদের সামনে চলে আসে, যেখানে দলীয় অবস্থান পরিষ্কার করার প্রয়োজন হয়ে পড়ে। উপ-কমিটির দায়িত্ব থাকবে এসব ইস্যুতে পার্টির বক্তব্য তুলে ধরা। সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য ফারুক খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, আন্তর্জাতিক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ, উপ-কমিটির সদস্য নিয়াজ মোর্শেদ এলিট, প্রলয় সমদ্দার, কান্তি দাশ প্রমুখ।

  • আমাদের গ্রেফতার করুন, নেতাকর্মীদের নয়

    আমাদের গ্রেফতার করুন, নেতাকর্মীদের নয়

    বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘আমাদেরকে গ্রেফতার করুন। আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করবেন না, বিশেষ করে নারী কর্মীদের। ওরা নিরপরাধ।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি মন্ত্রীকে এসব কথা বলেছেন। মঙ্গলবার (২৭ মার্চ) বেলা ১২টার দিকে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজ কক্ষে তার সঙ্গে বিএনপির তিন নেতা বৈঠক করেন। আগামী ২৯ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতি নিতেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তারা বৈঠক করেন। বৈঠকে উপস্থিত আরও দুই বিএনপি নেতা হলেন ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ও আলতাফ হোসেন চৌধুরী।

    এছাড়া সারাদেশে বিএনপি’র যেসব নেতাকর্মীকে গণগ্রেফতার করা হয়েছে তাদের মুক্তি দেওয়ার জন্য সুপারিশ করেছেন বলেও তিনি জানান।

    বৈঠক শেষে বের হওয়ার পর তিনি বলেন, ‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে আমরা বারবার ডিএমপির (ঢাকা মহানগর পুলিশ) কাছে অনুমতি চেয়েছি। কিন্তু ডিএমপি আমাদের অনুমতি দেয়নি। তাই আগামী ২৯ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতি যাতে দেওয়া হয় সে জন্য আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে এসেছি।’

    এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করতে অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি ডিএমপি কমিশনারের এখতিয়ার। এখানে আমার কোনও হাত নেই।’

    কেন বারবার আবেদন করেও বিএনপি অনুমতি পাচ্ছে না- সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জনসভাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে, গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে এমন আভাস পেয়েই হয়তো ডিএমপি অনুমতি দিচ্ছে না বা দেয় না। এছাড়া তো আমি আর কোনও কারণ দেখি না। তারা সারাদেশেই তো সমাবেশ করছে। কোথাও তো কোনও সমস্যা হচ্ছে না। তাহলে ঢাকায় কেন হচ্ছে।’

    নিকটবর্তী কোনও সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে, এমন কোনও ঘটনার কথা মনে আছে কিনা জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সেটাও আমি বলতে পারবো না। ডিএমপি বলতে পারবে।’

    বিএনপির নেতাকর্মীদের গণগ্রেফতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কাউকেই পুলিশ অহেতুক গ্রেফতার করছে না। সংঘটিত ঘটনার ভিডিও ফুটেজ দেখে তবেই গ্রেফতার করা হয়। এরইমধ্যে যারা গ্রেফতার হয়েছে তারা তো বিচারের অধীনে চলে গেছে। সেক্ষেত্রে সরকারের বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কিছু করার নেই। বিচারের প্রক্রিয়ায় বিষয়টি সমাধান হবে।’

  • গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের নজির নেই: ওবায়দুল কাদের

    এফএনএস: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, পৃথিবীর কোনো গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয় এমন কোনো নজির নেই। প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের প্রশ্নই আসে না। শনিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার নয়াপুর এলাকায় ঢাকা বাইপাস সড়ক মেরামত কাজের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে জবাবে মন্ত্রী একথা বলেন। এসময় সহায়ক সরকার নয়, আগামি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনেই হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, পৃথিবীর কোন গণতান্ত্রিক দেশে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেন? প্রতিবেশী ভারতসহ কোন গণতান্ত্রিক দেশে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করে নির্বাচন দেন? সেই দৃষ্টান্তটা তাঁরা দয়া করে দেশবাসীর সামনে নিয়ে আসুক। কোথায় দৃষ্টান্ত আছে? অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচনকালীন সরকার যেভাবে ইনকামবেন্সি থাকে, ঠিক সেভাবেই বাংলাদেশে থাকবে। রুটিন ওয়ার্ক থাকবে, মেজর কোনো পলিসি, ডিসিশন এখানে নেওয়ার সুযোগ নেই। শেখ হাসিনার সরকার নির্বাচন কমিশনকে একটি ফ্রি ফেয়ার ইলেকশন অনুষ্ঠানে ফেসিলিটেট করবে, সহযোগিতা করবে এবং যেসব মন্ত্রণালয় নির্বাচন সংক্রান্ত, সেই মন্ত্রণালয়গুলোর কার্যক্রম নির্বাচন কমিশন নিয়ন্ত্রণ করবে। সরকার এখানে ইচ্ছে করলেও হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। কারণ বিষয়টি তখন নির্বাচন কমিশনের আওতায়। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কারচুপির বা নির্বাচন বানচালের কোনো রেকর্ড নেই দাবি করে কাদের বলেন, আমি শুধু একটা কথা বলতে চাই, বিএনপি কেন ভয়ে ভুগছে? বিএনপির ট্যাগ রেকর্ড খারাপ। কোনো সময় আওয়ামী লীগ কারচুপি করার, জালিয়াতি করার, কাউকে নির্বাচনে যারা জিতবে, জনগণের রায়কে বানচাল করার কোনো রেকর্ড আওয়ামী লীগের নেই। নির্বাচনের আগেও করিনি, পরেও করিনি। কাজেই বিএনপি এসব অভিযোগের জন্য অভিযোগ করছে, নালিশের জন্য নালিশ করছে। তাঁরা আসলে আন্দোলন করতে গিয়ে জনগণের সাড়া না পেয়ে, এখন তাদের নালিশ ছাড়া আর কোনো ক্যাপিটাল নেই। দেশে নালিশ শেষ, দেশের মানুষের কাছে তাঁরা নালিশ করে না।তাঁরা নালিশ করে বিদেশিদের কাছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবন্দি হওয়া বা কারামুক্তির ব্যাপারে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, এই মামলাগুলো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলের মামলা, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের না। আদালতেই এই মামলাগুলো বিচারাধীন ছিল, একটি মামলায় নিম্ন আদালতে রায় হয়েছে। তাতে বেগম জিয়া দ-িত হয়েছেন। এটা সম্পূর্ণভাবে আদালতের বিষয়। এরপর যদি উচ্চ আদালতে তিনি মুক্তি পান, সেখানে আমাদের তো করার কিছু নেই। এবং এসব বিষয়ে আমরা অহেতুক কোনো মন্তব্য করতে চাই না। কারণ বিষয়টা সরকারের নয়, আদালতের। তবে খালেদা জিয়া কারাবন্দি থাকলেও নির্বাচন প্রক্রিয়া চলতে থাকবে বলেও জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, আদালত তাঁকে মুক্তি দিতে পারে, আদালত কি নির্বাচন পরিচালনা করবে? সরকার কি আদালতকে বলবে, বেগম জিয়াকে মুক্তি দাও?এটা কি আদালতকে সরকার বলতে পারে? তাহলে আর বিচার বিভাগের স্বাধীনতার দাবি কেন করছে বিএনপি বারবার? এটা একটা বিষয় গেলো, আর একটা বিষয় হচ্ছে, তাঁরা যে শর্তগুলো আরোপ করেছে; আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, নির্বাচনে যাবে কী যাবে না সেই দায়িত্ব বিএনপির। বিএনপি নির্বাচনে এলে স্বাগত, নির্বাচনে না এলে তাতেও আমাদের কিছু করার নেই। নির্বাচন নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যাবে। নির্বাচন কারো জন্য অপেক্ষা করবে না। নির্বাচনের তফসীল হওয়ার আগে লেভেল প্লেইং ফিল্ড নিয়ে কথা বলার প্রশ্ন আসে না বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী। বিএনপির চার দফা দাবির বিষয়টি নাকচ করে দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, তারা নির্বাচন করবে কি করবে না সেটা তাদের ব্যাপার। যথাসময়ে নির্বাচনের প্রক্রিয়া অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কারো জন্য নির্বাচন থেমে থাকবে না। এর আগে ওবায়দুল কাদের ঢাকা বাইপাস সড়কটির মেরামত কাজের ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, ৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে আড়াইহাজার ও ঢাকা বাইপাস সড়কসহ চারটি সড়কের সংস্কার করা হবে। আগামি বর্ষা মৌসুমের আগেই মে মাসের মধ্যে এ সংস্কার কাজ শেষ করা হবে। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সড়ক ও জনপদ বিভাগের কর্মকর্তারা।

     

  • শান্তিপূর্ণ আন্দোলন আর কয় দিন, জিজ্ঞাসা মওদুদের

    শান্তিপূর্ণ আন্দোলন আর কয় দিন, জিজ্ঞাসা মওদুদের

    বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপি আর কতদিন শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করবে, তা জানতে চেয়েছেন দলেরই স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ।

    খালেদা জিয়াকে দেয়া হাইকোর্টের জামিন স্থগিত প্রসঙ্গে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আইনমন্ত্রী বলেন, ‘যেহেতু সুপ্রিম কোর্ট দেশের উচ্চতর আদালত আমরা পছন্দ করি আর না করি তাদের রায় আমাদের মেনে আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। তার সাথে সাথে সময় আসছে, কতদিন আর আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করব?’

    মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন মওদুদ আহমদ।

    গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের আয় আসার পর থেকে বিএনপি যত কর্মসূচি দিয়েছে তার সবই শান্তিপূর্ণ। তবে ২০১৩, ২০১৪ এবং ২০১৫ সালে দলের সরকারবিরোধী কর্মসূচিতে ব্যাপক সহিংসতা হয়েছিল আর এ নিয়ে এখনও সমালোচনা করে সরকারি দল আওয়ামী লীগ।

    গত ২৫ জানুয়ারি রায়ের তারিখ ঘোষণার দিনই বিএনপির পক্ষ থেকে খালেদার সাজা হলে দেশে আগুন জ্বালানোর ঘোষণা এসেছিল। তবে রায়ের দিন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার আগে হঠকারী কর্মসূচি না দিতে বলেছেন।

    মওদুদ বলেন, ‘একটা পর্যায় আসবে দেশের মানুষ শান্তিপূর্ণ আন্দোলন আর চাইবে না। তখন বাধ্য হয়ে আমাদেরকে তাদের সাথে থাকতে হবে।’

    ‘তাই এটুকু বলতে চাই বাংলাদেশে গণতন্ত্র, মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার আবারও ফিরে আসবে।’

    মওদুদ বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে জোড় করে পদত্যাগে বাধ্য করায় দেশের কোনো বিচারপতির মুক্ত মনে বিচার করার সাহস নেই।’

    ‘এই সরকারের আমলে যদি বাংলাদেশের সব চাইতে বড় কোনো ক্ষতি হয়ে থাকে- সেটা হল বিচার বিভাগের সমস্ত উচ্চতর আদালত বলেন, আর নিম্ন আদালত বলেন অর্থাৎ বিচার বিভাগের স্বাধীনতাটা এই সরকার ছিনিয়ে নিয়েছে নানা কলাকৌশলে। তাই ইতিহাসে তারা (সরকার) কলঙ্কিত হয়ে থাকবেন।’

    বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, ‘সরকার জানে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিলে অসম্ভব অবস্থা সৃষ্টি হবে বাংলাদেশে। তাই যতদিন যাবে সরকারই ততই চেষ্টা করবে তাকে কারাগারে রাখার জন্য।’

    ‘কিন্তু কারাগারে বেগম জিয়াকে বেশিদিন রাখা সম্ভব হবে না। রাজনীতিবিদ হিসাবে এটা তার (খালেদা) চ্যালেঞ্জ।’

    বেগম খালেদা জিয়ার কারামুক্তি যতই বিলম্বিত হবে ততই তার জনপ্রিয়তা দিনদিন বাড়বে বলেও মন্তব্য করেন মওদুদ।

    বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে স্বীকৃতি লাভে সরকারের কোনো ধরনের কৃতিত্ব নেই বলেও মনে করেন মওদুদ। বলেন, ‘বাংলাদেশ এই মাসে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। তার মানে আমরা এতোদিন অনুন্নত দেশ ছিলাম। আমাদের সমপর্যায়ী দেশ থাইল্যান্ড, মিয়ানমার অনেক আগেই উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি লাভ করেছে।’

    ‘এখানে সরকারের এমন একটা ভাব যে বাংলাদেশই একমাত্র দেশ উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে। এটা ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশের জনগণের বিজয়।’

    ‘যারা লুটপাট করেছে তারা উন্নয়নশীল স্বীকৃতিতে গর্ববোধ করছে। কিন্তু দেশের ১৬ কোটি মানুষের কোনো উন্নয়ন হইনি।’

    ‘এক লক্ষ নতুন বেকার তৈরি হয়েছে, এখনও দেশে তিন কোটি লোক দারিদ্র সীমার নিচে বসবাস করে। এক কিলোমিটার পথ যেতে দেড় থেকে দুই ঘন্টা সময় লাগে।’

    আয়োজক সংগঠনের সভাপতি মাসুদ রানার সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূইয়া প্রমুখ।

  • ভোট নিয়ে ‘নীল নকশা’ বলে দিয়েছেন কাদের: মওদুদ

    ভোট নিয়ে ‘নীল নকশা’ বলে দিয়েছেন কাদের: মওদুদ

    নির্বাচন নিয়ে সরকারের ‘নীল নকশা’ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলে দিয়েছেন বলে মনে করেন বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ।

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সরকারকে ক্ষমতায় ফিরতে নির্বাচনের ‘আনুষ্ঠানিকতা’র জন্য অপেক্ষা না করে এখনই ‘যা করার’ তা করে ফেলার পরামর্শ দেন।

    শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরাম’ এর এক আলোচনায় বক্তব্য রাখছিলেন মওদুদ। এ সময় তিনি শুক্রবার রাজধানীতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানান।

    রাজধানীতে একটি দলীয় কর্মসূচিতে কাদের আগের দিন বলেন, ‘উন্নয়ন-অর্জন করে আমাদের কর্ম দিয়ে আমরা ভয়কে জয় করে ফেলেছি। নির্বাচনে বিজয় একটা আনুষ্ঠানিকতা মাত্র।’

    জবাবে মওদুদ বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে সরকারের যে নীল নকশা, এটা আমরা এতদিন সন্দেহ করে আসছিলাম। কিন্তু তাদের একজন নেতা সেটা বলেই দিয়েছেন। সরকার বলেছে তাদের বিজয়, আনুষ্ঠানিকতা মাত্র।’

    ‘তার মানে নীল নকশা অনুযায়ী নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে, এখন শুধুই আনুষ্ঠানিকতা। এখন শুধু গেজেট নটিফিকেশন হবে আর শপথগ্রহণ হবে।’

    চলতি বছরের ডিসেম্বর অথবা আগামী জানুয়ারির মাঝামাঝি নির্বাচন হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা। তবে ‘নীল নকশা’ বাস্তবায়নের জন্য এতদিন অপেক্ষা কেন, সে প্রশ্ন তুলে মওদুদ বলেন, ‘আগামী ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করার দরকার আছে বলে মনে করি না।’

    মওদুদের দৃষ্টিতে নির্বাচন নিয়ে সরকারের ‘নীল নকশা’ হচ্ছে, নির্বাচনে কোনো বিরোধী দল থাকবে না। তার মতে সরকারের মনোভাব এমন: ‘তাদেরকে (বিরোধী দল) নিশ্চিহ্ন করতে হবে এবং আমরা একভাবে এমন একটি অবস্থার সৃষ্টি করব যাতে করে কোন দল আর নির্বাচনে না আসে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো আরো একটি নির্বাচন করব।’

    ‘মানে হচ্ছে, আপনারা যারা বিরোধী দলে রয়েছেন তারা বাড়িতে চলে যান।’

    তবে সরকার এই ‘নীল নকশা’ বাস্তবায়ন করতে পারবে না বলেও জানিয়ে দেন মওদুদ। বলেন, ‘আজকে মনের অজ্ঞাতেই যদিও বলে ফেলেছেন, কিন্তু দেশের মানুষের কাছে ধরা পড়ে গেছেন। এটা বাংলাদেশের মাটিতে হতে দেয়া হবে না। এই নীল নকশা আপনারা বাস্তবায়ন করতে পারবেন না।’

    ‘স্বৈরাচার সরকারের পতন যেভাবে হয়, ঠিক সেভাবেই এই সরকারের পতন হবে। আর ইতিহাসে এটা অবধারিত।’

    সরকার বিরোধী দল ছাড়া নির্বাচনের লক্ষ্য পূরণের জন্যই খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠিয়েছে বলেও দাবি করেন মওদুদ। বলেন, ‘বেগম জিয়ার কারামুক্তি যতই বিলম্বিত হবে তার জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়বে। যেদিন তিনি কারাগার থেকে বেরিয়ে আসবেন সেদিন বাংলাদেশের মানুষ রাজপথে নেমে আবসে। সেই জোয়ারেই বাংলাদেশে আবার গণতন্ত্র ফিরে আসবে।’