Category: Uncategorized

  • নতুন উচ্চতায় মুশফিক

    নতুন উচ্চতায় মুশফিক

    অপেক্ষা ছিল আর কেবল দু’টি ডিসমিসালের। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে গতকাল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়ে তিনটি ক্যাচ নেন মুশফিকুর রহিম। এর মধ্য দিয়েই ২০০টি ডিসমিসালের অনন্য এক ক্লাবে পৌঁছে গেলেন বাংলাদেশের এই ক্রিকেটার।

    একই সঙ্গে উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যানদের অনন্য একটি সম্মানজনক ক্লাবেও ঢুকে গেলেন মুশফিক। ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে এর আগে মাত্র চারজন উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যানই কেবল পাঁচ হাজার রান ও ২০০টি ডিসমিসালের মাইলফলক ছুঁয়েছেন। আগের চারজনের নাম শুনলেই বোঝা যাবে ক্লাবটা কতটা প্রতাপশালী।

    তারা হলেন শ্রীলঙ্কার কুমার সাঙ্গাকারা, ভারতের মহেন্দ্র সিং ধোনি, অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডাম গিলক্রিস্ট ও নিউজিল্যান্ডের ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। এই কিংবদন্তিদের সঙ্গে এখন থেকে উচ্চারিত হবে মুশফিকুর রহিমের নাম। ইংল্যান্ডের অ্যালেক স্টুয়ার্ট, পাকিস্তানের মইন খান, শ্রীলঙ্কার রমেশ কালুভিতারানা, জিম্বাবুয়ের অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার, দক্ষিণ আফ্রিকার মার্ক বাউচার কিংবা অস্ট্রেলিয়ার ব্র্যাড হ্যাডিনের মতো ক্রিকেটাররাও এই মাইলফলকে নাম লেখাতে পারেননি। ডিসমিসালের দিক থেকে মুশফিকের চেয়ে এখন এগিয়ে আছেন ১০ জন। সবার ওপরে আছেন শ্রীলঙ্কার কুমার সাঙ্গাকারা। তিনি অবশ্য অনেক অনেক ব্যবধানে এগিয়ে। ৪০৪টি ম্যাচে ক্রিকেটকে বিদায় বলে দেওয়া সাবেক এই লঙ্কান অধিনায়কের ডিসমিসালের সংখ্যা ৪৮২টি। ওয়ানডে ক্রিকেটে ৪০০’র ওপর ডিসমিসাল আছে এমন উইকেটরক্ষকের সংখ্যা মাত্র চারজন। এখানে কুমার সাঙ্গাকারা বাদে বাকি তিনজন হলেন অ্যাডাম গিলক্রিস্ট (৪৭২), মার্ক বাউচার (৪২৪) ও মহেন্দ্র সিং ধোনি (৪২০)। আর ২০০টি ডিসমিসাল পাওয়া উইকেটরক্ষকদের তালিকায় মুশফিক ছাড়া আছেন আরও ছয়জন।

    সবচেয়ে বেশি রান করা উইকেটরক্ষকদের তালিকাতেও সাঙ্গাকারা আছেন সবার ওপরে। ওয়ানডেতে তিনি ৪১.৯৮ গড়ে করেছেন ১৪২৩৪ রান। দ্বিতীয় স্থানে থাকা মহেন্দ্র সিং ধোনির রানও ১০ হাজার-এর ওপরে। গতকাল অবধি ধোনির রান ১০১৪৩। তৃতীয় স্থানে থাকা গিলক্রিস্টের রানও ১০ হাজার ছুঁইছুঁই। ২৮৭ ম্যাচে তিনি করেছেন ৯৬১৩ রান।

    চতুর্থ স্থানে থাকা ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ২৬০ ম্যাচে ২৪২টি ডিসমিসালের পাশাপাশি করেছেন ৬০৮১ রান। মুশফিকের পক্ষে সাবেক এই ব্ল্যাক ক্যাপ অধিনায়ককে ছাড়িয়ে যাওয়া খুবই সম্ভব।

    ওয়ানডেতে পাঁচ হাজার রান ও ২০০ ডিসমিসাল

    খেলোয়াড়               দেশ               রান                 ডিসমিসাল

    কুমার সাঙ্গাকারা       শ্রীলঙ্কা            ১৪২৩৪            ৪৮২

    মহেন্দ্র সিং ধোনি       ভারত             ১০১৪৩           ৪২০

    অ্যাডাম গিলক্রিস্ট      অস্ট্রেলিয়া        ৯৬১৯              ৪৭২

    ব্রেন্ডন ম্যাককালাম    নিউজিল্যান্ড     ৬০৮৩             ২৪২

    মুশফিকুর রহিম        বাংলাদেশ       ৫১৪৫             ২০১

  • কাটগড়ায় দৃঢ়চেতা ছিলেন  ব্যারিষ্টার মইনুল

    কাটগড়ায় দৃঢ়চেতা ছিলেন ব্যারিষ্টার মইনুল

    টিভি টকশোতে নারী সাংবাদিককে কটূক্তি করার রংপুরে করা মানহানির মামলায় ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে জামিন না দিয়ে কারাগারে প্রেরণ এর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রংপুর থানায় চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মিলিমায়া দায়ের করা মানহানির মামলায় ওয়ারেন্ট বলে গ্রেফতারকৃত ব্যারিষ্টার মইনুল হোসেন কে মঙ্গলবার ডিবি পুলিশ তাকে ঢাকার অতিরিক্ত সি.এম.এম কায়সারুল ইসলাম এর আদালতে হাজির করেন বেলা: ১.০০ টা।

    অতঃপর ব্যরিস্টার মইনুল হোসেন এর আইনজীবীগন জামিন চেয়ে আবেদন করেন। আদালত শুনানী শেষে জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। যখন ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন কে আদালতে হাজির করা হয় তখন আইনজীবী তাকে সালাম দেয়। এবং আপনার কোন ভয় নাই। আপনার সাথে আমরা আছি। এ অবস্থায় পুলিশ তাকে কাটগড়ায় তুলে, তখন তাকে দৃঢ়চেতা দেখা যায়। তার মধ্যে কোন ভয় লেস কোন ছাপ দেখা যায় না। তিনি অত্যান্ত সাহসী কতায় বিচারকের দিকে তাকিয়ে থাকেন। এমতাবস্থায় তার পক্ষে আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, মোঃ সানাউল্লাহ মিয়া, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, গোলাম মোস্তফা খান, মোঃ মহসিন মিয়া, মোঃ ইকবাল হোসেন, জিয়া উদ্দিন জিয়া, তাহেরুল ইসলাম তৌহিদ, নূরুজ্জামান তপন, হাতেমূল আলমসহ বেশ কিছু আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।

    আইনজীবীগন আদালতে বলেন-মামলার ধারা জামিন যোগ্য। জামিন যোগ্য ধারায় উচ্চ আদালতে সিদ্ধান্ত আছে। জামিন দেওয়া বাধ্যতামূলক। তিনি এমন কোন অপরাধ করেননি যে কারনে তাকে আটক রাখা যায়। মানহানির মামলায় সকল ধারাই জামিন যোগ্য। সে কারনে তার জামিন পাওয়া হক। আপনি জামিন দেন। জামিন দিলে আসামী পক্ষ রংপুরে আদালতে হাজির হয়ে জামিন নিবে।

    রাষ্ট্রপক্ষে মহানগর পি.পি আব্দুল্লাহ আবু, কাজী নজিবউল্ল্যাহ হিরু, অতিরিক্ত পি.পি তাপস কুমার পাল সহ বেশ কিছু সরকার দলীয় আইনজীবী জামিনের তীব্র বিরোধিতা করেন। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়-এ আসামী টিভি টকশোতে মাসুদা ভাট্টিকে নিয়ে কুরুচীপূর্ন বক্তব্য দেয়। যার কারনে সমগ্র নারী জাতিকে অপমান করা হয়েছে। যা সারা পৃথিবীতে এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়েছে। সে কারনে পারিপাশ্বিক অবস্থা বিবেচনা করে জামিন ধারা জামিনযোগ্য হলেও আসামী কে জামিন দেওয়া যায় না। আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে প্রেরনের নির্দেশ দেন।

    যে মামলায় ওয়ারেন্ট বলে গ্রেফতার করা হয়েছে সে মামলায় ওয়ারেন্ট এর কপিতে বাদীর নাম ও মামলার ধারা উল্লেখ্য নাই। মর্মে আসামী পক্ষ থেকে বলা হয়। তখন আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া ওয়ারেন্ট এর একটি হাত কপি আদালতে তুলে ধরেন এবং মামলার ধারা উল্লেখ্য করা হয়েছে। এমতাবস্থায় রাষ্টপক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করে এবং জামিন না দেওয়ার জন্য আদালতে নিবেদন করেন।

    প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, সোমবার রাত ৯টা ২৫ মিনিটে ডিবি পুলিশের একটি দল ঢাকার উত্তরায় জেএসডি নেতা আ স ম আবদুর রবের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পরপরই মইনুল হোসেনকে গোয়েন্দা কার্যালয়ে নেওয়া হয়।

    উল্লেখ্য, রংপুরে সোমবার মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করেন মানবাধিকারকর্মী মিলি মায়া। তিনি রংপুর নগরীর মুলাটোল মহল্লার বাসিন্দা।

  • হাতিরঝিলে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় যুবক নিহত

    হাতিরঝিলে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় যুবক নিহত

    রাজধানীর হাতিরঝিলে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় রেদওয়ানুল কবির (৩০) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে মো. মিঠুন (৩০) নামের এক যুবক আহত হয়েছেন। রেদওয়ানুল কবির রাজধানীর আদাবর এলাকার মান্নান কবিরের ছেলে এবং আহত মিঠুন একই এলাকার নুরুল হক ছেলে।

    হাতিরঝিল থানার এসআই সুব্রত ঘটনার জানান, ভোরে রামপুরার দিকে যাওয়ার সময় হাতিরঝিলের মহানগর সেতুর কাছের এ দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়েন ওই দুই যুবক। সকাল সাতটার দিকে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সকাল আটটার দিকে রেদওয়ানুলকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা।

    তিনি আরও জানান, স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে। লাশ মর্গে রাখা হয়েছে।

  • রাতে ফাঁড়িতে, সকালে সড়কে লাশ

    রাতে ফাঁড়িতে, সকালে সড়কে লাশ

    • ফারুক থাকতেন নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের পুরিন্দা এলাকায়
    • ভুলতা–গুলিস্তানে চলাচলকারী গ্লোরি পরিবহনের বাস চালাতেন ফারুক
    • গত শুক্রবার কিছু অস্ত্রধারী লোক ফারুকসহ চারজনকে ধরে নিয়ে যান
    • ফারুকের স্ত্রী ভুলতা পুলিশ ফাঁড়িতে স্বামীকে দেখেছেন, খাবার দিয়েছেন
    • রোববার জানতে পারেন, মহাসড়কের পাশে স্বামীসহ চারজনের লাশ পড়ে আছে

    স্ত্রী তাসলিমা বেগম, এক বছরের সন্তানসহ বাসচালক ফারুক হোসেন (৩৫) থাকতেন নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের পুরিন্দা এলাকায়। তিনি ভুলতা থেকে গুলিস্তানে চলাচলকারী গ্লোরি পরিবহনের বাস চালাতেন। ফারুকের স্ত্রী তাসলিমা বলছেন, গত শুক্রবার বিকেলে জিনস প্যান্ট ও শার্ট পরা কিছু অস্ত্রধারী লোক বাসায় এসে ফারুকসহ চারজনকে ধরে নিয়ে যান। তাঁদের ভুলতা পুলিশ ফাঁড়িতে রাখা হয়। শনিবার রাতে স্বামীর জন্য মাছ-ভাত নিয়ে ভুলতা ফাঁড়িতে গিয়েছিলেন তাসলিমা। রোববার সকালে জানতে পারেন, মহাসড়কের পাশে স্বামীসহ চারজনের লাশ পড়ে আছে।

    ভুলতার স্থানীয় পরিবহনকর্মীরা শুনেছেন, বাসচালক ফারুক ‘ক্রসফায়ারে’ নিহত হয়েছেন। একজন বাসমালিক ভুলতা ফাঁড়িতে গিয়ে ফারুকসহ অন্যদের দেখেও এসেছেন। ফারুকের বাবা জামালউদ্দীন বলেন, ছেলেকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়াতে তিনি ওই বাসমালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। বাসমালিক অবশ্য প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলতে চাননি।

    তবে ভুলতা ফাঁড়ি ও জেলার পুলিশ কর্মকর্তারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

    গত রোববার নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার পাঁচরুখী এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দুই পাশ থেকে চারজনের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় গুলিভর্তি দুটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ও একটি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে চিকিৎসক জানিয়েছেন, পেছন থেকে শটগান দিয়ে গুলি করে তাঁদের হত্যা করা হয়েছে।

    গত রোববার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে চারটি লাশের মধ্যে একটি মাইক্রোবাসচালক লুৎফর রহমান মোল্লার বলে শনাক্ত করেন তাঁর স্ত্রী রেশমা আক্তার। অন্য তিনজন হলেন বাসচালক ফারুক, বেকারিশ্রমিক সবুজ সরদার ও জহিরুল ইসলাম। এই তিনজনের বাড়ি পাবনার আতাইকুলা ইউনিয়নে।

    বাসচালক ফারুকের স্ত্রী তাসলিমা প্রথম আলোকে বলেন, ফারুকের গ্রামের তিনজন—সবুজ, জহিরুল ও লিটন (সম্পর্কে ভাগনে) তাঁদের বাসায় ছিলেন। তাঁর স্বামীর সঙ্গে তাঁদের সবাইকে গত শুক্রবার তাঁর বাসা থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে রোববার সকালে মহাসড়কের পাশে লিটনের লাশ পাওয়া যায়নি। লিটনের অবস্থান কেউ জানে না। মহাসড়কের পাশ থেকে লুৎফর নামে যে মাইক্রোবাসচালকের লাশ পাওয়া যায়, তাঁকে চেনেন না তাসলিমা।

    তাসলিমা বলেন, শুক্রবার বিকেলে একজন নারী তাঁর বাড়িতে ফারুকের কাছে এসেছিলেন। তখন ফারুক বলেন, ওই নারী তাঁর বন্ধুর স্ত্রী, বন্ধুকে পুলিশে ধরেছে, তাই পরামর্শ করতে এসেছেন। এর কিছুক্ষণ পর সন্ধ্যার দিকে কয়েকজন লোক এসে ফারুককে ধরে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যান। এ সময় তাসলিমা চিৎকার করলে তাঁকে মারধর করা হয়।

    তাসলিমা বলেন, শনিবার একজন ‘মহাজনের’ (বাসমালিক) মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, ফারুক ভুলতা ফাঁড়িতে আছেন। জানার পর রাতে বাসা থেকে ভাত-মাছ রান্না করে তিনি ফাঁড়িতে নিয়ে যান। কিন্তু প্রথমে পুলিশ তাঁকে ঢুকতে দেয়নি। অনেকক্ষণ অনুরোধ করার পর তিনি স্বামীকে খাবার দিতে পারেন, দেখাও হয়। ফারুক তখন তাঁকে বলেন, ‘ওরা খুব মারছে, আমি সব স্বীকার করছি।’ ফারুক কী স্বীকার করেছেন, জানতে চাইলে তাসলিমা বলেন, তিনি তা জানেন না।

    ফারুকের বাবা জামালউদ্দীন পাবনায় ছিলেন, গতকাল সকালে নারায়ণগঞ্জে এসেছেন। তাঁর সঙ্গে নিহত সবুজের বাবা খায়রুল সরদার ও জহিরুলের শ্বশুর নজরুল ইসলামও পাবনা থেকে এসেছেন। হতদরিদ্র এ লোকগুলো গ্রাম থেকে চাঁদা তুলে ঢাকায় আসার খরচ জোগান বলে জানান।

    জামালউদ্দীন বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় পুত্রবধূ তাসলিমা তাঁকে ফোন করে বিষয়টি জানান। এরপর গ্রামের এক ভাতিজার মাধ্যমে এক বাসমালিকের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়। ওই বাসমালিক তাঁদের জানান, ফারুকদের ভুলতা ফাঁড়িতে রাখা হয়েছে। জামালউদ্দীন বলেন, ‘আম কলাম, দ্যাখেন তো, মহাজন, চালান দিবে না ছাড়বে। আমার কথা শুইনে মহাজন খোঁজ নিয়ে কলো, সব কটাক ফাঁড়িত রাখিছে পুলিশ।’ এরপর রোববার সকালে ওই বাসমালিক জামালকে জানিয়েছেন, চারজনের মধ্যে ফাঁড়িতে শুধু একজন আছেন। তিনজনকে ভোররাতে কোথাও নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

    ফারুকের স্ত্রী তাসলিমা বলেন, তিনিও রোববার সকালে এসে ফাঁড়িতে কাউকে না পেয়ে সেখানেই চিৎকার করে কান্নাকাটি করেছেন। স্বামীকে ফিরিয়ে দিতে বলেছেন। তখন পুলিশ তাঁকে গুলি করার হুমকি দিয়েছে।

    তবে ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, এ রকম কোনো ঘটনা তিনি জানেন না। তাঁরা যা বলেছেন, তা সত্য নয়।

    নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) আনিসুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, এ রকম কোনো ঘটনা ঘটার কথা নয়। যে বা যাঁরা এসব বলছেন, তাঁরা মিথ্যা বলছেন।

    এ ঘটনায় পুলিশ হত্যা ও অস্ত্র আইনে দুটি মামলা করেছে। আড়াইহাজার থানার উপপরিদর্শক রফিকউল্লাহ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে এ মামলা করেন।

    লিটন কোথায়
    ওই বাড়ি থেকে ধরে নেওয়া চারজনের একজন লিটনের খোঁজ মেলেনি। লিটনের ভাই রিপন প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা শুনেছেন, লিটনকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। একই দিনে রূপগঞ্জ থানা এলাকা থেকে হাইওয়ে পুলিশ অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে তা বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করেছে বলে তাঁরা শুনেছেন। তাঁদের ধারণা, সেটি লিটনের লাশ, তাঁরা শনাক্তের চেষ্টা করছেন।

    হতদরিদ্র লোকগুলো
    পাবনা প্রতিনিধি জানান, পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফারুক ছাড়া অন্য তিনজন—সবুজ, লিটন ও জহিরুল পাবনায় বেকারিতে কাজ করতেন। কয়েক মাস আগে তাঁরা একসঙ্গে ঢাকায় আসেন। ফারুকের বাসায় থাকতেন। বাস চালানো বা অন্য কাজ শেখার চেষ্টা করছিলেন তাঁরা। তাঁদের মধ্যে সর্বশেষ গত সপ্তাহে সবুজ ঢাকায় আসেন।

  • আলোচিত মুনির হত্যা মামলায় ৪ জনের ফাঁসি, একজনের যাবজ্জীবন

    আলোচিত মুনির হত্যা মামলায় ৪ জনের ফাঁসি, একজনের যাবজ্জীবন

    মানিকগঞ্জে আলোচিত কলেজ ছাত্র মুনির হোসেন হত্যা মমলার রায়ে চার জনের ফাঁসি ও একজনের যাবতজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। এ মামলায় তিনজনকে খালাস দেয়া হয়েছে।
    আজ সোমবার দুপুরে মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক শহিদুল আলম ঝিনুক এই রায় ঘোষণা করেন।
    মৃত্যুদন্ড প্রাপ্তরা হলেন, বাদশা মিয়া, মো. লাল মিয়া,আনোয়ার হোসেন ও আজগর আলী। এছাড়া রায়ে সাভারের কথিত যুবলীগ নেতা আক্তার হোসেন জামাল ওরফে কামালকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন।

    মামলার বিবরনীতে জানাগেছে,২০১৫ সালের ৯ সেপ্টম্বর মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার শিমুলিয়া গ্রামের বিদেশ প্রবাসী পরোশ আলীর একমাত্র পুত্র মানিকগঞ্জ খান বাহাদুর আওলাদ হোসের কলেজের একাদশ শ্রেনীর ছাত্র মনির হোসেনকে মুক্তিপণের দাবিতে হত্যা করা হয়

  • ইন্দোনেশিয়ায় পুলিশে নিয়োগ পেতে ‘কুমারীত্বে’র পরীক্ষা

    ইন্দোনেশিয়ায় পুলিশে নিয়োগ পেতে ‘কুমারীত্বে’র পরীক্ষা

    ইন্দোনেশিয়ায় নারীরা সেনাবাহিনীতে নিয়োগ পেতে হলে তাকে অবশ্যই কুমারীত্বের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। এমনটি জানিয়েছিল ইন্দোনেশিয়ার সেনাবাহিনী। এবার দেশটির পুলিশ বাহিনীতে নারীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। পুলিশে যোগ দিতে ইচ্ছুক নারীদের ‘টু ফিঙ্গার টেস্ট’ নামের একটি পরীক্ষা দিতে হবে। ওই নারী আসলেই কুমারী কি-না, তা এই পরীক্ষার মাধ্যমে দেখা হবে। শুধু তাই নয়, এই নারীদের সুন্দরীও হতে হবে।

    এদিকে, নিয়োগের আগে বাধ্যতামূলকভাবে নারীদের কুমারীত্ব পরীক্ষার নীতি বন্ধ করতে ইন্দোনেশিয়া সরকারে প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

    তবে সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার পুলিশ বাহিনীতে নারী সদস্য নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পুলিশে চাকরি পেতে হলে নারীদের কুমারী হতে হবে। শুধু কুমারী হলেই চলবে না, হতে হবে সুন্দরীও। এ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে।

    ইন্দোনেশিয়ার এমন সিদ্ধান্তে নড়েচড়ে বসেছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ’র মুখপাত্র আন্দ্রে হারসোন বলছেন, ‘এটা নারী স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় অন্যতম বাধা। ‘ এছাড়া এই নীতি নারীদের বিরুদ্ধে ‘বৈষম্য ও আক্রমণমূলক’। তবে ইন্দোনেশিয়া এ যুক্তির বিরুদ্ধে বলছে, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ এটি এবং নতুন নিয়োগের জন্য এই নীতি মেনে চলা হবে।