Category: Uncategorized

  • রাজধানীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত

    রাজধানীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত

    রাজধানীর খিলক্ষেত ও হাজারীবাগে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে খিলক্ষেতে ধাক্কায় আবদুস সালাম (৭০) ও হাজারীবাগে একটি প্রাইভেটকারের ধাক্কায় অজ্ঞাত পরিচয়ের এক নারী নিহত হয়েছেন। পুলিশ তাদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠিয়েছে।
    জানা গেছে, খিলক্ষেতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের হোটেল লা মেরিডিয়ানের সামনের রাস্তায় শনিবার সকাল ৮টার দিকে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় আবদুস সালাম নামে এক বৃদ্ধ গুরুতর আহত হন। খিলক্ষেত থানার পুলিশ কনস্টেবল মোশারফ হোসেন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
    জাতীয় পরিচয়পত্র থেকে জানা গেছে, তার বাড়ি গাজীপুর সদর উপজেলার কলমেশ্বর গ্রামে। এদিকে, গত শুক্রবার রাতে হাজারীবাগের বউবাজার এলাকায় একটি প্রাইভেটকারের ধাক্কায় একজন নারী গুরুতর আহত হন। রাত ১টা ২০ মিনিটের দিকে আবদুল আলিম নামে এক রিকশাচালক তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই নারীর মৃত্যু হয়।
    ঢাকা মেডিক্যালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া জানান, নিহতদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।
  • চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় দুর্ঘটনাকবলিত সিএনজি চালিত অটোরিকশা।

    চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় দুর্ঘটনাকবলিত সিএনজি চালিত অটোরিকশা।

    চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় দুর্ঘটনাকবলিত সিএনজি চালিত অটোরিকশা। ছবি: প্রথম আলো

    চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় দুর্ঘটনাকবলিত সিএনজি চালিত অটোরিকশা।

     

     

    চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় সিএনজি চালিত অটোরিকশার সঙ্গে একটি ভারী যানের সংঘর্ষে তিন যাত্রী ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। আজ সোমবার ভোর রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার বাকিলা এলাকায় চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। অটো চালকসহ আরও দুজন গুরুতর আহত। আহত ব্যক্তিদের চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    নিহত ব্যক্তিরা হলেন এলেম হোসেন (৪৫), আবু সুফিয়ান (৪০) ও আক্রাম হোসেন (২২)। গুরুতর আহত বিল্লাল হোসেন (৪৮) ও সিএনজি অটোরিকশার চালক শাহজাহান (৩৫)। নিহত ব্যক্তিরা মাছ ধরতে চাঁদপুর যাচ্ছিলেন।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভোর রাত সাড়ে ৩টার দিকে চারজন যাত্রী নিয়ে একটি সিএনজি চালিত অটো রিকশা চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার উয়ারুক বাজার থেকে চাঁদপুর সদরের দিকে যাছিল। অটোরিকশাটি হাজীগঞ্জের বাকিলার কাছে পৌঁছার পর অন্য একটি ভারী যান এটিকে সামনে থেকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে তিনজন নিহত হন।

    হাজীগঞ্জ থানার ওসি মো. আলমগীর জানান, দুর্ঘটনার শিকার সবার বাড়ি শাহরাস্তির উয়ারুক এলাকায়। তাঁরা মাছ ধরতে চাঁদপুর যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনা কবলিত অটো রিকশার ভেতর মাছ ধরার সরঞ্জাম পাওয়া গেছে। লাশ হাজীগঞ্জ থানায় রাখা হয়েছে।

    প্রথম আলোর হিসাব অনুযায়ী, আজ ৩ জনসহ গত ৬০৫ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির সংখ্যা ৫ হাজার ৩৭৮ জনে পৌঁছাল।

  • ট্রাফিক আইন ও সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা কীভাবে

    ট্রাফিক আইন ও সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা কীভাবে আনতে হয়, তা চোখে আঙুল দিয়েই দেখিয়েছিল খুদে শিক্ষার্থীরা। লাইসেন্স, হেলমেটের ব্যবহার, লেন মেনে চলা থেকে পুরো সড়কের নিয়ন্ত্রণ ছিল ওদের হাতে। তবে শিক্ষার্থীদের সেই নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের পরও অসচেতনতা ও নিয়ম না মানার প্রবণতা এখনো কমেনি।

    গত ২৯ জুলাই রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর পরিবহন লিমিটেডের একটি বাসের চাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। আহত হয় বেশ কয়েকজন। ওই ঘটনার প্রতিবাদে সারা দেশের স্কুল–কলেজের শিক্ষার্থীরা সড়কে নেমে বিক্ষোভ করে। নড়েচড়ে বসতে বাধ্য হয় প্রশাসন। এরপর রাজধানীতে ট্রাফিক সপ্তাহের সময় বাড়িয়ে তা সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত চলে। সড়কে ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে রোভার স্কাউট, বিএনসিসিসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর সদস্যরা সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করে। আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে রাজধানীতে ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে আড়াই লাখের বেশি। জরিমানা আদায় হয়েছে প্রায় ১৭ কোটি টাকা।

    গত কয়েক দিনে রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে দেখা যায়, যানবাহনের এলোমেলো চলাচল, পদচারী–সেতু ব্যবহারে অনীহাসহ নানান অনিয়ম এখনো চলছে সড়কে। রাজধানীর বাংলামোটর মোড়ে একটি পদচারী–সেতু রয়েছে। সেখানে সুযোগ পেলেই পথচারীরা চলন্ত গাড়ির ফাঁকফোকর দিয়ে দৌড়ে সড়ক পার হচ্ছেন। শাহীন আহমেদ নামের এক পথচারীও এভাবে দৌড়ে পার হচ্ছিলেন। পদচারী–সেতু রেখে বা সিগন্যালের জন্য অপেক্ষা না করে ঝুঁকি নিয়ে পার হওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, তাড়া থাকার জন্য তিনি এভাবে পার হয়েছেন।

    আবার অনেকেই নিরাপদ পারাপারের জন্য পদচারী সেতুও ব্যবহার করেন। সেতু ব্যবহারকারী কেয়া আক্তার বলেন, ‘একটু কষ্ট হয়, সময় লাগে বেশি, কিন্তু সেইফ।’
    পান্থপথের বসুন্ধরা সিটি শপিংমলের পাশে একটি পদচারী–সেতু আছে। তবে অনেকেরই তা নজর এড়িয়ে যায়। শপিং মলটিতে ঢোকার জন্য অনেকেই সড়ক দিয়ে পার হন। ঝুঁকির পাশাপাশি এই সড়কে চলাচলকারী যানবাহনগুলো গতি কম রাখতেও বাধ্য হয়। এভাবে পার হওয়া নিয়ে জানতে চাইলে কয়েকজন পথচারী জানান, তাঁদের ভুল হয়েছে বা তাড়া থাকায় এমনটা করেছেন।

    অনেক সড়কেই জেব্রা ক্রসিং রয়েছে। তবে এর ব্যবহার এখনো ঠিকমতো হয় না। গাড়িগুলো বেশির ভাগই ক্রসিংয়ের ওপর বা ক্রসিং পার হয়ে সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। কোনো পথচারী সিগন্যালের সময় ক্রসিং দিয়ে পার হতে চাইলেও তা সম্ভব হয় না। বাংলামোটরে ক্রসিং পার হয়ে সামনে দাঁড়ানো এক সিএনজিচালক জানান, ক্রসিংয়ের নিয়ম তিনি জানেন, কিন্তু দ্রুত চলে আসায় ক্রসিং পার হয়ে গিয়েছেন। তবে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা এখন চেষ্টা করেন, গাড়িগুলোকে ক্রসিংয়ের নির্দিষ্ট দাগের পেছনে দাঁড়াতে। তবে ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা জানান, এ ক্ষেত্রে মোটরসাইকেলগুলো সহজে ক্রসিংয়ের নিয়ম মানতে চায় না।

    রাজধানীর সিগন্যালে বাতিগুলো অকেজো রয়েছে দীর্ঘদিন। হাতের ইশারা ও রশি বেঁধে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা হয়। রাজধানীর সড়কগুলোতে নতুন করে বাস স্টপেজ লেখা সাইনবোর্ড টানানো হয়েছে। এ ছাড়া সড়কের ওপর সাদা–হলুদ রঙে বাস থামানোর সংকেত–সংবলিত দাগও দেওয়া হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট জায়গা করে দিলেও বাস সেখানে থামে না। পাল্লা দিয়ে ও চলন্ত অবস্থায় যাত্রী তোলার অভ্যাস এখনো যায়নি।

    কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউর সড়ক বিভাজকের ওপর কাঁটাতার দেওয়া হয়েছে। যাতে পথচারীরা কেউ পার না হয়। ফার্মগেট থেকে সার্ক ফোয়ারা মোড় পর্যন্ত তিনটি পদচারী–সেতু ও একটি আন্ডারপাস রয়েছে। কিন্তু এরপরও যাত্রীরা কাঁটাতার ডিঙিয়ে ঝুঁকি নিয়ে দৌড়ে সড়ক পার হয়।

  • কুমারী পূজায় ভক্ত দর্শনার্থী পূজারির ঢল

    কুমারী পূজায় ভক্ত দর্শনার্থী পূজারির ঢল

    শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাষ্টমী ও কুমারী পূজায় পূজামণ্ডপ ও মন্দিরগুলোয় ভক্ত, দর্শনার্থী ও পূজারিদের ঢল নেমেছিল। বুধবার রামকৃঞ্চ মিশনসহ দেশের বেশ কিছু জায়গায় কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ মহানবমী।

    শুক্রবার বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এ ধর্মীয় উৎসবের শেষ হবে।

    মহাষ্টমীতে মণ্ডপে মণ্ডপে সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। বিহিত পূজার মধ্য দিয়ে সকালে মহাষ্টমীর আচার অনুষ্ঠান শুরু হয়। দুর্গা দেবীর মহাষ্টমী কল্পারম্ভ ও মহাষ্টমীবিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হয়।

    সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিট থেকে রাত ৮টা ৬ মিনিটের মধ্যে সন্ধিপূজা হয়। চণ্ডিপাঠ ও মন্ত্র উচ্চারণের মধ্য দিয়ে আসন, বস্ত্র, নৈবেদ্য, ধুপ ও দীপ দিয়ে পূজা করা হয়।

    রাজধানীর গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ পূজামণ্ডপে কুমারী পূজায় বুধবার সকাল থেকে হাজারও ভক্ত ও দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। ঢাক-ঢোলের বাজনা, ফুল-চন্দন আর আরতিতে পরিবেশ মুখরিত হয়ে ওঠে।

    বেলা সোয়া ১১টার দিকে দেবীর আসনে এক কুমারী কন্যাকে বসানো হয়। এরপর তাকে ঘিরে চলে নানা আচার-অনুষ্ঠান। এবার ৮ বছর বয়সী মিতালী চক্রবর্তীকে কুমারী দেবী করা হয়। তার মধ্যে দেবী দুর্গার শুদ্ধ নারীর রূপ কল্পনা করে তাকে পূজা করেন ভক্তরা।

    কুমারী পূজার মধ্য দিয়ে দেবী শক্তির বন্দনা ও অসুর বধের প্রত্যয় করা হয়। কুমারী পূজা শেষে ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।

    রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী ধ্র“বেশানন্দ বলেন, পূজার উদ্দেশ্য সব মানুষের কল্যাণ কামনা করা। সব ধর্ম, সব জাতি ও সব বর্ণের মানুষের সুখ-শান্তি কামনা করা।

    কুমারী পূজাকে ঘিরে রামকৃষ্ণ মিশনে নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ, র‌্যাব, আনসার ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। মিশন গেটে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশির পরই ভক্তদের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়।

    গোপীবাগ মোড় থেকে গোপীবাগ মাজার পর্যন্ত সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। দর্শনার্থী ও পূজারিদের ভিড়ে টিকাটুলী, ইত্তেফাক মোড়সহ ওই এলাকায় যানজট দেখা দেয়। মোড় থেকে হেঁটে মানুষ কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনী অতিক্রম করে মণ্ডপে প্রবেশ করেন।

    বুধবার সকাল থেকেই রাজধানীর জাতীয় ঢাকেশ্বরী মন্দিরে প্রচুর ভক্ত-সমর্থক জড়ো হন। দুপুরে মণ্ডপ পরিদর্শনে আসেন ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। শারদীয় শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বাংলাদেশের মানুষের জীবনে শান্তি, সমৃদ্ধি ও সফলতা কামনা করেন।

    বিকাল ৫টায় শ্রীশ্রী রমনা কালীমন্দির ও শ্রীমা আনন্দময়ী আশ্রম পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

    শুভেচ্ছা বক্তব্যে তিনি বলেন, আপনাদের কোনো ভয় নেই দেশের জনগণ, লাখ লাখ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী, প্রশাসন আপনাদের পাশে আছে। তারা আপনাদের ভাই-বন্ধু। আপনাদের ভয় বা আশঙ্কার কোনো কারণ নেই। আশা করব বাকি ২ দিন ও শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব পালন করবেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল বলেন, স্বাধীনতার প্রথম প্রহরেই সাম্প্রদায়িকতার হিংস্র থাবায় রমনা মন্দিরকে ধ্বংস করা হয়েছিল। কিন্তু আজ সেটা আবার পূর্ণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

    সন্ধ্যা থেকে রাজধানীর মণ্ডপগুলোতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হচ্ছে। ধর্মীয় আবহে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলোতে অংশগ্রহণ করছেন দেশি-বিদেশি নামকরা শিল্পীরা।

    এবারও রাজধানীর উল্লেখযোগ্য পূজামণ্ডপগুলোতে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছে। শ্রীশ্রী রমনা কালীমন্দির ও শ্রীমা আনন্দময়ী আশ্রম পূজামণ্ডপে মহাষ্টমীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগের পরিবেশনায় চলে সঙ্গীতানুষ্ঠান।

    এখানে মহানবমীর দিনে সন্ধ্যা থেকে থাকছে জনপ্রিয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে সঙ্গীতসন্ধ্যা। ধানমণ্ডি সার্বজনীন পূজামণ্ডপে মহাষ্টমীতে ছিল কলকাতার ইন্দ্রানী হালদারের নেতৃত্বে গীতিআলেখ্য। ছিল ‘রাই কৃষ্ণ পদাবলী’ নৃত্যনাট্য। শিবলী মহম্মদ ও শামীম আরা নীপাসহ এ নৃত্যনাট্যে অংশগ্রহণ করেন নৃত্যাঞ্চলের শিল্পীরা।

    গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজামণ্ডপে মহাষ্টমীতে গান পরিবেশন করেন শিল্পী ফাহমিদা নবী, রফিকুল আলম, প্রিয়াঙ্কা গোপ, চম্পা বণিক, নন্দিতা দাস, চন্দনা মজুমদার ও শাহ আলম সরকার। মহানবমীতে কলকাতা থেকে কীর্তন গাইতে আসছেন শিল্পী অদিতি মুন্সী।

    এ ছাড়া ধর্মীয় বিষয় নিয়ে একটি নাটক থাকবে। গান করবেন ফকির শাহাবুদ্দিন। রাজধানীর অন্যসব পূজামণ্ডপেও সন্ধ্যায় থাকছে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

  • গ্রেনেড হামলা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য সামঞ্জস্যহীন ও রহস্যাবৃত: রিজভী

    গ্রেনেড হামলা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য সামঞ্জস্যহীন ও রহস্যাবৃত: রিজভী

    ২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলা নিয়ে শুরু থেকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আচরণ, বক্তব্য ও মন্তব্য সামঞ্জস্যহীন ও রহস্যাবৃত বলে দাবি করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আজ নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রিয় কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ দাবি করেন। বলেন, ২১শে আগস্টে মুক্তাঙ্গনে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়ে আওয়ামী লীগ ৩ দিন ধরে প্রচার প্রচারণা চালালো। আর সমাবেশের দিন হঠাৎ সিদ্ধান্ত বদল করে কেন দলীয় অফিসের সামনে গেল? এতে কারো বুঝতে বাকী থাকে না যে, এর মধ্যে কোন দুরভিসন্ধি কাজ করেছে।

    তিনি বলেন, পুলিশ যখন দেখলো তাদের না জানিয়ে সমাবেশ করছে তখন মতিঝিল থানার ওসি নিয়মমাফিক একটি জিডি করে। অল্প সময় হাতে পেলেও পুলিশের নিয়ম অনুযায়ী পুলিশ সেখানে যায়। মামলার বিচারিক কার্যক্রমে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়টি বিবেচনায় আনা হয়নি, অথচ ফরমায়েসী রায় চাপিয়ে দেয়া হলো।

    রিজভী বলেন, আইন, বিচার ও প্রশাসনকে প্রতিহিংসা পূরণের হাতিয়ার করে আওয়ামী লীগের ক্রমান্বয়ে দানবীয় আত্মপ্রকাশ জাতির জীবনপ্রবাহ রুদ্ধ করার অভিঘাত।

    সত্য ঘটনাকে মিথ্যা হিসেবে অভিহিত করা আর মিথ্যাকে সত্য বলা আওয়ামী লীগের আদর্শিক চেতনা। জনগণকে তারা এতটাই অপাংক্তেয় মনে করে যে, তারা মনে করে, তাদের ধোকাবাজি জনগণ টের পাবে না।

    তিনি বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় বাতিল করতে হবে এবং আওয়ামী লীগ নেতা ও নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী কাহার আকন্দকে বাদ দিয়ে নিরপেক্ষভাবে পূণ:তদন্ত করে পূণরায় বিচার কার্যক্রম শুরু করার জোর দাবি জানাচ্ছি। তিনি বলেন, বিএনপি সরকারের সময় বাংলাদেশ পুলিশী রাষ্ট্র ছিল না। অবারিত ছিল গণতন্ত্র। ফলে রাজধানীতে জনসভার জন্য সিটি কর্পোরেশনের নিকট থেকে অনুমতি গ্রহণের পর নিয়ম ছিল মাইক ব্যবহারের অনুমতি নিতে হতো পুলিশের থেকে।

    ২১ শে আগস্টের তদন্ত নিয়ে রিজভী বলেন, মূল চার্জশিট দাখিলকারী কর্মকর্তা এএসপি ফজলুল কবিরের কাছে গত ২০০৭ সালের ২২শে নভেম্বর জবানবন্দী প্রদানকালে সমাবেশে পুলিশের অনুমতি না দেয়ার কথা বলেন। অথচ সমাবেশে পুলিশের অনুমতি প্রদান না করার বিষয়টি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ২০০৪ সালের ২০শে আগস্ট হতে ২০০৭ সালের ২২শে নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় সোয়া তিন বছর সময়কালে কখনোই কোন সভা-সমিতি-সাক্ষাৎকার-আলোচনা-বিজ্ঞপ্তি-প্রচারণা ইত্যাদি কোথাও তিনি উল্লেখ করেননি। সমাবেশের আগের দিন বিকালে তিনি মহানগরের বেরাইদ স্কুল মাঠে এক জনসভায় দীর্ঘ বক্তৃতা করেন। সেই বক্তৃতায়ও তিনি অনুমতি না প্রদানের বিষয়ে কোন কথা বলেননি। একটিবারের জন্যও বলেননি যে, পুলিশী অনুমতি না পাওয়ার কারণে তাকে মুক্তাঙ্গনে সভা না করে এখানে করতে হচ্ছে। রিজভী বলেন,  মর্মান্তিক ঘটনার পরবর্তী সন্ধ্যায় শেখ হাসিনা বিবিসি’র সাথে এক সাক্ষাৎকার দেন। সেই সাক্ষাৎকারেও তিনি এমন অনুমতি না প্রদানের বিষয়ে কোন শব্দই উচ্চারণ করেননি।

    বিএনপির এ নেতা বলেন, প্রশ্নাতীতভাবে সত্য যে, পুলিশ ২০০৪ সালের ১৯শে আগস্টেই তাদের অনুমতি দিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে প্রকৃত ঘটনা মিলছে না।

    এই অবস্থায় ২০০৪ সালের ১৭ই আগষ্ট আওয়ামী লীগ মুক্তাঙ্গনে সমাবেশের জন্য ঢাকা সিটি কর্পোরেশন থেকে অনুমতি গ্রহণের পর পুলিশের নিকট মাইক ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে লিখিত আবেদন করে। এই আবেদনের প্রেক্ষিতে পুলিশ মুক্তাঙ্গনে আওয়ামী লীগের সমাবেশের লিখিত অনুমতি দেয়। তবে রহস্যজনক ও গভীর সন্দেহের বিষয় হলো, মুক্তাঙ্গণে পুলিশের অনুমতি নিয়ে কেন বঙ্গবন্ধু এভিন্যুতে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করলো ?

    সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান,যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল,সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ,সহ-দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • খালাফ হত্যায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির রিভিউ আবেদনের রায় রোববার

    খালাফ হত্যায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির রিভিউ আবেদনের রায় রোববার

    ঢাকাস্থ সৌদি দূতাবাসের কর্মকর্তা খালাফ আল আলী হত্যা মামলায় আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির করা আবেদনের ওপর আদেশ আগামী রোববার।

    বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ আসামি সাইফুল ইসলামের করা ওই আবেদনের ওপর শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

    আদালতে সাইফুলের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী কাজী আখতার হামিদ। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেলে মাহবুবে আলম।

    মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১২ সালের ৫ মার্চ রাত একটায় গুলশানের কূটনীতিক এলাকায় নিজ বাসার কাছে গুলিবিদ্ধ হন খালাফ আল আলী। ৬ মার্চ ভোরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় ওই সৌদি দূতাবাস কর্মকর্তার।

    এ ঘটনায় ৭ মার্চ গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোশারফ হোসেন হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় একই বছরের ৩০ ডিসেম্বর রায় দেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪। রায়ে মামলার পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে সেলিম চৌধুরী মামলার শুরু থেকেই পলাতক ছিলেন। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে সাজাপ্রাপ্ত চার আসামি ওই বছরই হাইকোর্টে আপিল করেন।

    ২০১৩ সালের ১৮ নভেম্বর আসামিদের আপিলের শুনানি নিয়ে রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ে আসামিদের মধ্যে সাইফুল ইসলামের মৃতুদণ্ড বহাল রাখা হয়। এ ছাড়া আসামি আল আমীন, আকবর আলী লালু ও রফিকুল ইসলামের সাজা কমিয়ে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। আর পলাতক সেলিম চৌধুরী খালাস পান। এরই ধারাবাহিকতায় ওই রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ।

    গত বছরের পহেলা নভেম্বর খালাফ আল আলী হত্যা মামলায় এক আসামির মৃত্যুদণ্ড, তিন আসামির যাবজ্জীবন ও এক আসামির খালাসের হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।

    মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাইফুল এ রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবেদন করেন চলতি বছর। ওই আবেদন নিয়ে শুনানি শেষ হয় বৃহস্পতিবার।