Category: প্রচ্ছদ

  • পাঁচটি একীভূত ব্যাংকের আমানত ফেরত পরিকল্পনার রূপরেখা জানালেন গভর্নর

    পাঁচটি একীভূত ব্যাংকের আমানত ফেরত পরিকল্পনার রূপরেখা জানালেন গভর্নর

    অনলাইন ডেস্ক:    শরিয়াহ মেনে চলার পাশাপাশি ব্যাংকের লোকসানের মধ্যে আমানত ফেরত পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।

    আজ পাঁচটি একীভূত ব্যাংকের তহবিল আমানতকারীদের কাছে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে চলমান উদ্বেগের বিষয়ে আজ বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর স্পষ্ট করে বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইসলামী আর্থিক নীতিমালা মেনে চলার পাশাপাশি সাধারণ জনগণের স্বার্থ রক্ষার জন্য কাজ করছে।

    তিনি বলেন, শরিয়াহ কাউন্সিলের সুপারিশের ভিত্তিতে আমানত ফেরত সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এই নীতিমালা অনুসারে, ২০২৪-২০২৫ সময়কালে যখন কোনও ব্যাংক উল্লেখযোগ্য ক্ষতির সম্মুখীন হয়, তখন মুনাফা বণ্টন করা যাবে না। সেই বছরগুলোর সংশোধিত অ্যাকাউন্টগুলোতে চিহ্নিত বিশাল ক্ষতির কারণে নীতিতে এই নির্দিষ্ট পরিবর্তন প্রয়োজন হয়েছিল।

    ২০২৪ সালের জন্য লাভের অভাবের বিষয়টি সংবাদে উঠে এলেও আমানতকারীরা তাদের মূল টাকার পুনরুদ্ধার পাবেন উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, ২০২৩ সাল পর্যন্ত সমস্ত অর্জিত সুদ এবং বিনিয়োগের রিটার্ন সম্পূর্ণরূপে পরিশোধ করা হবে। কেউ দশ বছর আগে আমানত করে থাকলে তারা ২০২৩ সালের শেষ নাগাদ বিনিয়োগ মুনাফাসহ তাদের সম্পূর্ণ রিটার্ন পাবেন।

    তিনি উল্লেখ করেন যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই অর্থ প্রদান নিশ্চিত করছে যদিও ব্যাংকগুলোর অনিশ্চিত অবস্থার কারণে সেই সময়কালে প্রকৃত রিটার্ন প্রায়শই অস্পষ্ট ছিল।

    যদিও ২০২৪ এবং ২০২৫ সালের সংশোধিত হিসাব দেখায় যে ব্যাংকগুলো গুরুতর আর্থিক চাপের সম্মুখীন হচ্ছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আমানতকারীদের মূল বিনিয়োগের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

    তিনি স্বীকার করেন যে যদিও কিছু সময়ের জন্য লোকসান বৃদ্ধি পাচ্ছিল, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন একটি স্বচ্ছ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ার ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করছে যা জনসাধারণের উপর প্রভাব কমিয়ে লোকসান-বণ্টনের ইসলামিক নীতিগুলিকে সম্মান করে।

    তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক এমনভাবে কার্যক্রম গ্রহণ করছে যাতে সাধারণ জনগণের স্বার্থ রক্ষা হয় এবং ইসলামী আর্থিক নীতি অনুযায়ী সব প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।

  • শরিফুলের রেকর্ড গড়া ম্যাচ জিতে শীর্ষে চট্টগ্রাম

    শরিফুলের রেকর্ড গড়া ম্যাচ জিতে শীর্ষে চট্টগ্রাম

    অনলাইন ডেস্ক:   বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে শীর্ষে উঠেছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। চলমান দ্বাদশ আসরের ২৫তম ম্যাচে বাঁ-হাতি পেসার শরিফুল ইসলামের দুর্দান্ত বোলিংয়ে চট্টগ্রাম রয়্যালস ৫ উইকেটে হারিয়েছে নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে। এই জয়ে ৮ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে রান রেটে এগিয়ে থেকে টেবিলের শীর্ষে উঠল আগেই প্লে-অফ নিশ্চিত করা চট্টগ্রাম।

    ৯ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ের পাশাপাশি বিপিএলের ইতিহাসে বাংলাদেশি পেসারদের মধ্যে সবচেয়ে কম রান দিয়ে ইনিংসে ৫ উইকেট শিকারের নয়া রেকর্ড গড়েন শরিফুল।

    মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ১৯ বলে ৩৪ রানের সূচনা করেন নোয়াখালীর দুই ওপেনার হাসান ইশাখিল ও সৌম্য সরকার। পাওয়ার প্লেতে দলীয় ৪৯ রানের মধ্যে বিদায় নেন উভয়েই।

    ইশাখিল ২০ বলে ২টি করে চার-ছক্কায় ২৫ এবং সৌম্য ৮ বলে ১৪ রান করেন।

    এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পতনে ৯১ রানে ষষ্ঠ ব্যাটারকে হারায় নোয়াখালী। শেষ দিকে নোয়াখালীর শেষ ৪ উইকেট শিকার করেন শরিফুল। এতে ১৮ দশমিক ৫ ওভারে ১২৬ রানে গুটিয়ে যায় নোয়াখালী।

    সাব্বির হোসেনের ২২ রানের সুবাদে সম্মানজনক সংগ্রহ পায় নোয়াখালী।

    ৩ দশমিক ৫ ওভার বল করে ৯ রানে ৫ উইকেট শিকার করেন শরিফুল। ১৫২ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে এই প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেটের দেখা পেলেন তিনি। বিপিএলের ইতিহাসে বাংলাদেশি পেসারদের মধ্যে সবচেয়ে কম রান দিয়ে ৫ উইকেট শিকারের রেকর্ড গড়েন শরিফুল।

    আগে রেকর্ডটি ছিল আবু হায়দার রনির। ২০১৪ সালে ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে রংপুর রাইডার্সের হয়ে ১২ রান দিয়ে ৫ উইকেট শিকার করেছিলেন তিনি।

    এছাড়া এই ইনিংসে চট্টগ্রামের অধিনায়ক মাহেদি হাসান ১২ রানে ৩ উইকেট নেন।

    ১২৭ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ২৯ রানে ৪ উইকেট হারায় চট্টগ্রাম। পঞ্চম উইকেটে ৩৩ বলে ৪০ রানের জুটি গড়ে শুরুর ধাক্কা সামাল দেন অধিনায়ক মাহেদি ও হাসান নাওয়াজ।

    দলীয় ৬৯ রানে পঞ্চম ব্যাটার হিসেবে সাজঘরে ফেরেন হাসান (১১)। এরপর ক্রিজে মাহেদির সঙ্গী হন আসিফ আলি।

    ষষ্ঠ উইকেটে ৪৫ বলে ৫৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে ৩ ওভার বাকী থাকতে চট্টগ্রামের জয় নিশ্চিত করেন মাহেদি-আসিফ।

    ৪টি চার ও ২টি ছক্কায় ৩৬ বলে অপরাজিত ৪৯ রান করেন মাহেদি। ২টি করে চার-ছক্কায় ৩০ বল খেলে ৩৬ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন আসিফ।

    নোয়াখালীর ইহসানুল্লাহ ২ উইকেট শিকার করেন। ম্যাচ সেরা হন শরিফুল।

  • অপারেশন ডেভিল হান্টে রাজধানীতে ২৪ ঘন্টায় গ্রেফতার ২৮

    অপারেশন ডেভিল হান্টে রাজধানীতে ২৪ ঘন্টায় গ্রেফতার ২৮

    অনলাইন ডেস্ক:      রাজধানীতে অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২ এর আওতায় গত ২৪ ঘণ্টায় অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত মোট ২৮ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

    ডিএমপি’র এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গতকাল মুগদা থানা পুলিশ ওই থানার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় অপারেশন ডেভিল হান্ট এর অংশ হিসেবে অভিযান চালিয়ে নয় জনকে গ্রেফতার করে।

    এই অভিযানে গ্রেফতারকৃতরা হলো— মো. সালমান আমেদ (১৯), রিফাত আলম মুন্না (১৮), মো. ইমন (২৫), মো. মামুন (২০), মো. মান্নান (২৩), মো. সুজন (৩২), নাইমুর রহমান আপন (২৮), মো. আছলাম (২৬) ও মো. সাগর (২০)।

    অন্যদিকে একই দিনে বনানী থানা অভিযান চালিয়ে সাত জনকে গ্রেফতার করে।

    এই অভিযোনে গ্রেফতারকৃতরা হলো— মো. শরিফ মিয়া (২৮), মো. খোরশেদ আলম (৫০), মো. মুনছুর আলী (৩৫), মোহাম্মদ আলী (১৯), শাহিনুর হোসেন (২৫), মো. সবুজ মিয়া (২৩) ও  মো. রাকিব (২০)।

    এছাড়াও রূপনগর থানা পুলিশ ওই থানার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় অপারেশন ডেভিল হান্ট এর অংশ হিসেবে দিনব্যাপী অভিযান চালিয়ে ১২ জনকে গ্রেফতার করে।

    গ্রেফতারকৃতরা হলো— মৌলী আক্তার  মল্লিকা (৩৫), মো. শ্রাবন (২০), মো. রাজু (৩৫), মোবারক হোসেন (২২), মো. আব্দুল কাইয়ুম (২৪), মো. আশাদুল ইসলাম (২৩), মো. আবির হাসান (২৮), মো. মাহিবুল ইসলাম (২৬), মো. ইশরাক হোসাইন ইফতি (২৫), মো. তাইবুর রহমান (২৫), মো. সবুজ মিয়া (২৩) ও  মো. মুস্তাকিম সালেহীন একরাম অন্ত (২৪)।

  • দেশজুড়ে ৫৬ দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক মোতায়েন ইইউর

    দেশজুড়ে ৫৬ দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক মোতায়েন ইইউর

    অনলাইন ডেস্ক:    আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন (ইইউ ইওএম) সারাদেশে ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক মোতায়েন করেছে।

    আজ থেকে দেশের ৬৪ জেলায় কাজ শুরু করছেন তারা।

    পর্যবেক্ষক মোতায়েনের আগে রাজধানীর একটি হোটেলে সংক্ষিপ্ত এক অনুষ্ঠানে ইইউ ইওএমের উপপ্রধান পর্যবেক্ষক ইনতা লাসে বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকেরা মিশনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের পর্যবেক্ষণ ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক মূল্যায়ন করা হবে।’

    তিনি আরও জানান, ইইউ ইওএম দীর্ঘমেয়াদি ও দেশব্যাপী পর্যবেক্ষণের একটি সুপ্রতিষ্ঠিত ও শক্তিশালী পদ্ধতি অনুসরণ করে, যাতে নির্বাচন প্রক্রিয়ার ভারসাম্যপূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা যায়।

    দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা আঞ্চলিক পর্যায়ে নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন। পাশাপাশি ঢাকাভিত্তিক মূল বিশেষজ্ঞ দলের বিশ্লেষণ কার্যক্রমে সহায়তা করবেন।

    ইনতা লাসে জানান, পর্যবেক্ষকরা দুই সদস্যের দল গঠন করে কাজ করবেন। তারা নিজ নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ভোটার, নির্বাচন কর্মকর্তা, প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। একই সঙ্গে নাগরিক পর্যবেক্ষক ও তরুণ কর্মীদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন। এই কার্যক্রম শুধু শহরেই নয়, ছোট শহর ও গ্রাম পর্যায়েও পরিচালিত হবে।

    ইইউ কর্মকর্তারা জানান, ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পাশাপাশি কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড থেকেও পর্যবেক্ষক নেওয়া হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরুর আগে তাদেরকে বাংলাদেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনগত কাঠামো এবং গণমাধ্যম ও সামাজিক বাস্তবতা সম্পর্কে বিস্তারিত ব্রিফিং দেওয়া হয়েছে।

    বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে এই নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন মোতায়েন করা হয়েছে। মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভার্স ইইয়াবস। তিনি গত ১১ জানুয়ারি ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে মিশনের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

    নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে এলে মিশন আরও জোরদার করা হবে। তখন ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষকও মাঠে নামবেন। তাদের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্র, কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের কূটনৈতিক মিশনের পর্যবেক্ষকেরাও যুক্ত হবেন। তারা ভোটগ্রহণ, ভোট গণনা ও ফল সংকলন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন।

    এছাড়া ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্যদের একটি প্রতিনিধিদলও মিশনে অংশ নেবে। সব মিলিয়ে পূর্ণ সক্ষমতায় ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনে ২৭টি ইইউ সদস্য রাষ্ট্রসহ কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের প্রায় ২শ’ জন পর্যবেক্ষক কাজ করবেন।

    ইইউ ইওএম আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে তাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। এরপর পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী নির্বাচনের জন্য সুপারিশসহ একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেবে।

    ইইউ কর্মকর্তারা জানান, উভয় প্রতিবেদনই জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে। মিশনের ওয়েবসাইটেও তা প্রকাশ করা হবে।

    ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন (ইইউ ইওএম) কঠোর আচরণবিধি অনুসরণ করে কাজ করে। এ ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং কোন ধরনের হস্তক্ষেপ না করাই তাদের মূল নীতি।

    ২০০৫ সালে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে গৃহীত আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণের নীতিমালার ঘোষণার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই মিশনটি তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে।

  • রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের হাতে তুলে দিতেই গণভোট : ফারুক ই আজম

    রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের হাতে তুলে দিতেই গণভোট : ফারুক ই আজম

    অনলাইন ডেস্ক:    মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম, বীর প্রতীক বলেছেন, রাষ্ট্র ও সরকারের মালিকানা জনগণের হাতে তুলে দেওয়ার জন্যই গণভোট। গণভোটের ইতিবাচক ফলাফলই আগামীর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। দেশের পরিবর্তনের জন্য অবশ্যই গণভোটে অংশ নিতে হবে।

    তিনি আজ বিকালে সিলেটের লাক্কাতুরা গলফ ক্লাব মাঠে গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে জেলা তথ্য অফিস আয়োজিত উঠান বৈঠকে এসব কথা বলেন।

    বৈঠকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

    প্রধান অতিথি ফারুক ই আজম বলেন, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারে মূল কাজ ছিল তিনটি- গণহত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিত করা, রাষ্ট্র ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করা।

    তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ইতোমধ্যে গণহত্যার বিচার শুরু করেছে, অনেকের সাজা হয়েছে। রাষ্ট্রকে আগের ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থায় যাতে আর কেউ নিতে না পারে সেজন্য সকল দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে। এই সনদের কিছু মৌলিক বিষয় নিয়েই গণভোটের আয়োজন করা হচ্ছে। আর নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমেই বর্তমান সরকার তার দায়িত্ব পূর্ণ করবে।

    যারা জীবনে প্রথম ভোট দেবেন তাদেরকে অনেক সৌভাগ্যবান উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, আপনাদের প্রথম ভোট হবে রাষ্ট্রের আমূল পরিবর্তনের জন্য, আপনার নিজের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতের জন্য। গণভোটের পক্ষে আপনার সুচিন্তিত মতামতের ফলেই দেশের অর্থনীতি, বিচারব্যবস্থা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন হবে।

    ফারুক ই আজম বলেন, আমাদেরকে সচ্ছল, সাবলীল ও মানবিকবোধ সম্পন্ন নতুন বাংলাদেশ গড়তে হবে। যে বাংলাদেশের জন্য ছাত্র-জনতা জীবন দিয়েছে, সে আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে আমাদেরকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

    এই সময় তিনি রাষ্ট্রের সার্বিক মালিকানা জনগণকে বুঝিয়ে দিতে সরকার কাজ করছে বলে মন্তব্য করেন।

    বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বলেন, জনগণ যদি নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন না হয়, তবে কোনো সরকারই ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারবে না। ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য সচেতনতার সঙ্গে ভালো প্রার্থী নির্বাচিত করতে হবে। আর ভালো প্রার্থী তৈরি হবে ভালো রাষ্ট্র কাঠামোর মাধ্যমে। রাষ্ট্র কাঠামো পরিবর্তন ও সুসংহত করা এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের জন্য গণভোটের পক্ষে রায় দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

    সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবীর সভাপতিত্বে বৈঠকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান, গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের পরিচালক মীর মো. আসলাম উদ্দীন, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, সিভিল সার্জন মো. নাসির উদ্দিন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

    এই সময় সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াৎ, জেলা তথ্য অফিসের সহকারী পরিচালক রাকিব হাসান, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সিলেট ব্যুরো প্রধান সেলিম আউয়ালসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

  • বাংলাদেশকে ভালো থাকতে হলে বেগম খালেদা জিয়ার অস্তিত্বকে ধারণ করতে হবে : আসিফ নজরুল

    বাংলাদেশকে ভালো থাকতে হলে বেগম খালেদা জিয়ার অস্তিত্বকে ধারণ করতে হবে : আসিফ নজরুল

    অনলাইন ডেস্ক:     তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতিচারণ করে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেছেন, ‘বাংলাদেশকে ভালো থাকতে হলে বেগম খালেদা জিয়ার অস্তিত্বকে ধারণ করতে হবে।’

    তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া যখন জীবিত ছিলেন, আমি তার জন্য বিভিন্ন প্রোগ্রামে যেতাম। তখন একটা কথা বলতাম, বেগম জিয়া ভালো থাকলে, ভালো থাকবে বাংলাদেশ। আমি বিশ্বাস করি অবশ্যই উনি এখন ভালো আছেন। কিন্তু বাংলাদেশ কি ভালো আছে? বা ভালো থাকবে? যদি বাংলাদেশকে ভালো থাকতে হয় তাহলে বেগম জিয়াকে ধারণ করতে হবে।’

    আজ শুক্রবার বিকেলে বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘নাগরিক সমাজের’ উদ্যোগে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    আসিফ নজরুল বলেন, ‘খালেদা জিয়া যখন জীবিত ছিলেন, বন্দি ছিলেন, ওনার পক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কথা বলার সুযোগ হয়েছে। তখন ওনার পক্ষে কথা বলার মানুষ খুঁজে পাওয়া যেত না।’

    আইন উপদেষ্টা স্মৃতিচারণ করে বলেন, “ওনার (খালেদা জিয়া) একটা অদ্ভুত বিচার হয়েছিল, উদ্ভট বিচার। সেই বিচারে উনি শকড হয়েছিলেন অন্য পক্ষের আইনজীবীর কথা শুনে। উনি অবাক হয়ে বলেছিলেন যে ‘আমি মেরে খেয়েছি এতিমের টাকা?’ বিস্মিত এবং ব্যথিত হয়ে বলা এই বাক্যটাকে বিচারক লিখেছিলেন যে, বেগম জিয়া নিজেই স্বীকার করেছেন তিনি কাজটা করেছেন।”

    আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমি আইনের ছাত্র হিসেবে বলি- এত জঘন্য একটা বিচার হয়েছে। এটার বিপক্ষে বিবৃতি লিখে দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি, ফোন করেছি বিভিন্ন মানুষকে, কিন্তু হাইকোর্টে কী করবেন না করবেন, এই ভয়ে চারজনের বেশি রাজি হয়নি। চারজনের তো বিবৃতি হয় না, এজন্য পত্রিকায় ধরাতে পারিনি।’

    ‘উনি যখন মুমূর্ষু অবস্থায়, উনাকে চিকিৎসার জন্য যেন বিদেশে পাঠানো হয়, এজন্য কত মানুষকে অনুনয়-বিনয় করেছি। অনেকের ইচ্ছা ছিল কিন্তু সাহস করেনি।’

    তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার অনেক অসাধারণ কিছু বৈশিষ্ট্য ছিল। তিনি উনি সৎ, পরমতসহিষ্ণু ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। আত্মত্যাগী ভূমিকার জন্য ছিলেন অন্যন্য। তার মধ্যে দেশপ্রেম ছিল, রুচির এক অবিস্মরণীয় প্রকাশ ছিল।’

    তিনি আরও বলেন, আজকে আমার ভালো লাগছে, সবাই আমরা মুক্তভাবে বেগম জিয়ার প্রতি ভালোবাসা জানাতে পারছি। আল্লাহর কাছে হাজার শোকর এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা যে, বাংলাদেশের মানুষ আজকে স্বাধীনভাবে ঘৃণাও প্রকাশ করতে পারছে, স্বাধীনভাবে ভালোবাসাও প্রকাশ করতে পারছে। এজন্যই এক নেত্রীর ঠাঁই হয়েছে মানুষের হৃদয়ে, আরেকজনের ঠাঁই হয়েছে বিতাড়িত ভূমিতে।’

    শোকসভায় সভাপতিত্ব করেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে. আর. মোদাচ্ছির হোসেন। উপস্থাপনা করেন আশরাফ কায়সার ও কাজী জেসিন। এসময় দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, গবেষক, চিকিৎসক, শিক্ষক, ধর্মীয় প্রতিনিধি, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি ও বিভিন্ন পেশাজীবী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।