Category: প্রচ্ছদ

  • উত্তর কোরিয়ায় ড্রোন অনুপ্রবেশ : আইনি পদক্ষেপের অঙ্গীকার দক্ষিণ কোরিয়ার

    উত্তর কোরিয়ায় ড্রোন অনুপ্রবেশ : আইনি পদক্ষেপের অঙ্গীকার দক্ষিণ কোরিয়ার

    অনলাইন ডেস্ক: উত্তর কোরিয়ায় সাম্প্রতিক একটি ড্রোন অনুপ্রবেশের ঘটনায় যাকে বা যাদের দায়ী পাওয়া যাবে, তাদের শাস্তির আওতায় আনার অঙ্গীকার করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের শীর্ষ উপদেষ্টা। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ পিয়ংইয়ং আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানিয়েছে।

    সিউল থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    উত্তর কোরিয়া গত সপ্তাহান্তে অভিযোগ করেছে যে, চলতি মাসে দক্ষিণ কোরিয়া তাদের অভিন্ন সীমান্ত অতিক্রম করে কায়েসং শহরে একটি ড্রোন পাঠিয়েছে। তাদের দাবি, ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয়েছে এবং তারা সেটির ধ্বংসাবশেষের ছবিও প্রকাশ করেছে।

    এদিকে মঙ্গলবার উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং এ ঘটনার জন্য দায়ী ‘শত্রু রাষ্ট্রের গুন্ডাদের’ কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনা দাবি করেন।

    সিউল এ ঘটনায় কোনো ধরনের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করলেও বেসামরিক কেউ ড্রোনটি উড়াতে পারে— এ সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়নি। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা উই সুং-ল্যাক বুধবার আব রো এ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।

    জাপানের নারা শহরে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের নেতাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক শীর্ষ বৈঠকের ফাঁকে সাংবাদিকদের উই বলেন, এ পর্যন্ত আমাদের বোঝাপড়া অনুযায়ী, সামরিক বাহিনী বা সরকার— কেউই এমন কোনো অভিযান পরিচালনা করেনি।

    তিনি আরো বলেন, এতে আমাদের দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে— বেসামরিক খাতের কেউ এটি করেছে কি না, তা তদন্ত করা। যদি শাস্তিযোগ্য কোনো বিষয় থাকে, তবে শাস্তি অবশ্যই হতে হবে।

    ১৯৫০-৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধ কোনো শান্তিচুক্তি নয়, বরং অস্ত্রবিরতির মাধ্যমে শেষ হওয়ায় দক্ষিণ ও উত্তর কোরিয়া এখনো কারিগরি অর্থে যুদ্ধে রয়েছে।

    উই আরো বলেন, পিয়ংইয়ংয়ের সমালোচনা ও ক্ষমা দাবির পরও উত্তর কোরিয়া নিজেও দক্ষিণ কোরিয়ায় ড্রোন পাঠিয়েছে। ‘এমন ঘটনাও ঘটেছে, যেখানে তাদের ড্রোন ব্লু হাউসের কাছাকাছি পড়ে গেছে, আবার কিছু ড্রোন ইয়ংসান পর্যন্ত পৌঁছেছে,’ বলেন তিনি। ব্লু হাউস ও ইয়ংসান— উভয়ই বর্তমান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের অবস্থান।

    তিনি বলেন, ‘এসব ঘটনাও অস্ত্রবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন।’

    দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং ড্রোনের ঘটনাটি তদন্তে সামরিক ও পুলিশের যৌথ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো বেসামরিক ব্যক্তির জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তা হবে কোরীয় উপদ্বীপের শান্তির জন্য হুমকিস্বরূপ একটি গুরুতর অপরাধ।

  • নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারিতেই হবে: মার্কিন কূটনীতিকদের প্রধান উপদেষ্টা

    নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারিতেই হবে: মার্কিন কূটনীতিকদের প্রধান উপদেষ্টা

    অনলাইন ডেস্ক:    আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে বলে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

    তিনি বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের এক দিন আগেও নয়, এক দিন পরেও নয়, ১২ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে।

    মঙ্গলবার রাতে ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় যুক্তরাষ্ট্রের দুই সাবেক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক আলবার্ট গম্বিস ও মর্স ট্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

    তাঁরা দুজনই যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে দায়িত্ব পালন করেছেন।

    সাক্ষাৎকালে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে ভুয়া খবর ও পরিকল্পিত বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকার নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন আয়োজন এবং ফল ঘোষণার পর গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘কে কী বলল, তা বিবেচ্য নয়। ১২ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে—এর এক দিন আগে বা পরে নয়।’

    তিনি বলেন, নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে।

    অধ্যাপক ইউনূস আরও বলেন, নির্বাচনকালে অন্তর্বর্তী সরকার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকবে। প্রশাসন থাকবে পক্ষপাতমুক্ত এবং সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।

    সাবেক ভারপ্রাপ্ত আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট আলবার্ট গম্বিস এবং সাবেক অ্যাম্বাসাডর-অ্যাট-লার্জ মর্স ট্যান আসন্ন গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ সফরে এসেছেন।

    প্রায় এক ঘণ্টার এই বৈঠকে নির্বাচন ছাড়াও জুলাই বিপ্লব ও এর পরবর্তী পরিস্থিতি, তরুণ আন্দোলনকারীদের উত্থান, জুলাই সনদ ও গণভোট, নির্বাচনকে ঘিরে ভুয়া খবর ও অপতথ্য, রোহিঙ্গা সংকট এবং জুলাই পরবর্তী বাংলাদেশে ট্রুথ এন্ড রিকনসিলিয়েশন- এর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরকার প্রচার চালাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, জনগণের সমর্থনে জুলাই সনদ অনুমোদিত হলে তা গণতান্ত্রিক শাসনের একটি নতুন অধ্যায় সূচনা করবে এবং ভবিষ্যতে স্বৈরতন্ত্রের কোনো সুযোগ থাকবে না।

    অধ্যাপক ইউনূস বলেন, সাবেক স্বৈরাচারী শাসনের সমর্থকেরা নির্বাচন নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরির জন্য ভুয়া খবর ও অপতথ্য ছড়াচ্ছে। তবে জনগণ এখন অনেক বেশি সচেতন। ক্রমেই তারা এআই-সৃষ্ট বিভ্রান্তিকর ভিডিও শনাক্ত করতে পারছে।

    সাবেক আন্ডার সেক্রেটারি গম্বিস এ বিষয়ে একমত পোষণ করে বলেন, বিশ্বজুড়ে ভুয়া খবর এখন গণতন্ত্রের ‘প্রধান শত্রুদের একটি’ হয়ে উঠেছে। এ হুমকি মোকাবিলায় আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

    দুই কূটনীতিকই গত দেড় বছরে দেশ পরিচালনায় প্রধান উপদেষ্টার ভূমিকার প্রশংসা করেন।

    তাঁরা দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ পরবর্তী সময়ের মতো বাংলাদেশে ট্রুথ এন্ড রিকনসিলিয়েশন উদ্যোগ গ্রহণ করা সম্ভব কি না, সে বিষয়ে জানতে চান।

    জবাবে অধ্যাপক ইউনূস জানান, নেলসন ম্যান্ডেলার ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার ট্রুথ এন্ড রিকনসিলিয়েশন প্রক্রিয়া নিবিড়ভাবে অনুসরণ করেছেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে এমন উদ্যোগ নেওয়ার উপযুক্ত সময় হয়নি।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘সময় এখনো উপযুক্ত নয়। কোথা থেকে শুরু করবেন? ট্রুথ এন্ড রিকনসিলিয়েশন উদ্যোগ শুরু করা তখনই সম্ভব, যখন ভুল স্বীকার করা হয়, অনুশোচনা ও অনুতাপ প্রকাশ করা হয় এবং সেই পরিবেশ তৈরি হয়।’

    তিনি বলেন, ‘এখনো কোনো অনুশোচনা নেই, কোনো অনুতাপ নেই। বরং জুলাইয়ের আন্দোলনে নিহত তরুণদের সন্ত্রাসী বলে দাবি করা হচ্ছে। অথচ তাদের বর্বর অপরাধের বিপুল প্রমাণ রয়েছে। তারপরও তারা সবকিছু অস্বীকার করে যাচ্ছে।’

    বৈঠকে এসডিজি সমন্বয়ক ও জ্যেষ্ঠ সচিব লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।

  • শিপিং কর্পোরেশনকে লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ধরে রাখতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা

    শিপিং কর্পোরেশনকে লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ধরে রাখতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা

    অনলাইন ডেস্ক:    প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনকে (বিএসসি) একটি শক্তিশালী ও লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ধরে রাখতে হবে।

    বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন কর্তৃক বাস্তবায়িত ছয়টি জাহাজ ক্রয় প্রকল্পের জন্য গৃহীত ঋণ পরিশোধ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ঘোষিত লভ্যাংশ বাবদ সরকারের পাওনা হিসেবে মোট ২০৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন ও বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক প্রধান উপদেষ্টার কাছে চেক হস্তান্তর করেন।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে যেভাবে বিএসসি একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে, সেই ধারা বজায় রাখতে হবে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এমনভাবে নিতে হবে, যাতে প্রতিষ্ঠানের আয় দিয়েই বিএসসিকে আরও শক্তিশালী করা যায় এবং বহরে নতুন জাহাজ যুক্ত করা সম্ভব হয়।

    তিনি বলেন, বিএসসির বহরে আরও জাহাজ যুক্ত হলে নাবিকদের মধ্যে উৎসাহ বাড়বে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি মেরিন একাডেমিগুলোর প্রশিক্ষকদের যথাযথ সম্মানী দিয়ে ধরে রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি, যাতে বিশ্বমানের নাবিক তৈরি করা যায়।

    বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক জানান, জি-টু-জি ভিত্তিতে ছয়টি জাহাজ সংগ্রহের লক্ষ্যে বাস্তবায়িত ‘ছয়টি নতুন জাহাজ ক্রয়’ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ সরকার (অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ) ও চীন সরকার (চায়না এক্সিম ব্যাংক)-এর মধ্যে ২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর একটি ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ ঋণের মূল পরিমাণ ১,১৯৯,৯৯৯,০৭০ ইউয়ান, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৪৫৭ কোটি ৬৭ লাখ ৯৮ হাজার ৭৮৫ টাকা।

    এই ঋণ পরিশোধের লক্ষ্যে ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর সরকারের অর্থ বিভাগ ও বিএসসির মধ্যে একটি সাবসিডিয়ারি লোন অ্যাগ্রিমেন্ট (এসএলএ) স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী ১৩ বছরের মধ্যে বিএসসিকে মোট ২ হাজার ৪২৫ কোটি ২ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে।

    এসএলএ অনুযায়ী গ্রেস পিরিয়ডকালীন সুদ বাবদ ৪৭৫ কোটি ২৫ লাখ ১৩ হাজার ৩৪০ টাকার চেক গত ২৬ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।

    প্রকল্পটির মাধ্যমে দীর্ঘ ২৭ বছর পর ২০১৮-১৯ মেয়াদে বিএসসির বহরে ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজ যুক্ত হয়। এর মধ্যে পাঁচটি জাহাজ—এমভি বাংলার জয়যাত্রা, এমভি বাংলার অর্জন, এমভি বাংলার অগ্রযাত্রা, এমভি বাংলার অগ্রদূত এবং এমভি বাংলার অগ্রগতি—বর্তমানে আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত রয়েছে এবং বাংলাদেশের পতাকা বহন করছে।

    বিএসসি তাদের ৫৪ বছরের ইতিহাসে সর্বশেষ অর্থবছরে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা আয় করে ৩০৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকা মুনাফা অর্জন করেছে, যা প্রতিষ্ঠানটির সর্বোচ্চ মুনাফা। এই অগ্রগতিতে প্রকল্পের আওতায় বহরে যুক্ত পাঁচটি জাহাজের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।

    প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে বিএসসি নতুন জাহাজ সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে নিজস্ব অর্থায়নে দুটি বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজ সংগ্রহের আওতায় প্রথম জাহাজ ‘বাংলার প্রগতি’ ২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর ডেলিভারি গ্রহণ করে বাণিজ্যে যুক্ত হয়েছে। দ্বিতীয় জাহাজ ‘বাংলার নবযাত্রা’ আগামী ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ ডেলিভারির সূচি নির্ধারিত রয়েছে।

    এ ছাড়া সরকারি অর্থায়নে দুটি এমআর প্রোডাক্ট অয়েল ট্যাংকার এবং নিজস্ব অর্থায়নে একটি আল্ট্রাম্যাক্স বাল্ক ক্যারিয়ার সংগ্রহের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি চীন থেকে জি-টু-জি ভিত্তিতে আরও চারটি বড় জাহাজ সংগ্রহের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

  • ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনে যোগ দেবেন ফিনল্যান্ডের পর্যবেক্ষকরা: রাষ্ট্রদূত

    ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনে যোগ দেবেন ফিনল্যান্ডের পর্যবেক্ষকরা: রাষ্ট্রদূত

    অনলাইন ডেস্ক:   ফিনল্যান্ডের নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা শিগগিরই বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন (ইইউ ইওএম)-এ যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন দেশটির অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত কিম্মো লাহদেভিরতা।

    আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ফিনল্যান্ডের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত কিম্মো লাহদেভিরতা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) ড. মু. নজরুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ তথ্য জানান।

    সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারাবাহিক অগ্রগতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, ডিজিটাল সেবা ও টেক্সটাইল খাতে সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

    ড. নজরুল ইসলাম ফিনিশ রাষ্ট্রদূতকে বাংলাদেশের চলমান সংস্কার কর্মসূচি এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন (১২ ফেব্রুয়ারি)-এর প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করেন।

    একইসঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে জাতীয় গণভোটের প্রস্তুতির কথাও তুলে ধরেন।

    বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরে ফিনল্যান্ডের সমর্থনকে সাধুবাদ জানিয়ে ড. নজরুল ইসলাম ফিনল্যান্ড ও ইউরোপীয় ইউনিয়নকে নির্বাচনে বৃহৎ পর্যবেক্ষক মিশন নিযুক্ত করায় প্রশংসা করেন।

    ড. নজরুল ইসলাম শ্রম অধিকার এবং কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তার প্রতি দেশের অঙ্গীকার তুলে ধরে বাংলাদেশের এলডিসি-পরবর্তী উত্তরণ এবং জিএসপি প্লাস আকাঙ্ক্ষার জন্য ফিনল্যান্ডের সহযোগিতা কামনা করেন।

    রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রূপান্তরকালীন ছাড়ের মেয়াদ শেষে নতুন বাণিজ্যিক ব্যবস্থা প্রয়োজন হবে এবং তিনি সম্ভাব্য বাংলাদেশ-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির প্রতি ফিনল্যান্ডের সমর্থন ব্যক্ত করেন।

    বাংলাদেশের রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড)-গুলোতে বিনিয়োগের সুযোগ উল্লেখ করে ড. নজরুল ইসলাম রাষ্ট্রদূতকে ইপিজেড পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান এবং ঢাকায় আসন্ন ব্যবসায়িক ইভেন্টগুলোতে ফিনল্যান্ডের অংশগ্রহণের জন্য উৎসাহিত করেন।

    জবাবে রাষ্ট্রদূত ইপিজেডগুলো পরিদর্শনে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং বলেন, ফিনিশ ব্যবসায়ীরা ভবিষ্যতে বাংলাদেশে ইইউ ব্যবসায় উদ্যোগে অংশ নিতে আগ্রহী।

    উভয় পক্ষই ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশ প্রাইভেট কেবল সিস্টেম (বিপিসিএস) এবং নকিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিকে স্বাগত জানায়। এ প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রথম বেসরকারি সাবমেরিন কেবল স্থাপন করা হবে, যা সিঙ্গাপুরকে কক্সবাজারের সঙ্গে যুক্ত করবে।

  • জিমেইলে যুক্ত হলো গুগলের নতুন এআই-ভিত্তিক ফিচার ‘হেল্প মি রাইট’

    জিমেইলে যুক্ত হলো গুগলের নতুন এআই-ভিত্তিক ফিচার ‘হেল্প মি রাইট’

    অনলাইন ডেস্ক:    ইমেইল লেখা অনেকের কাছেই সময়সাপেক্ষ ও ঝামেলার কাজ। সেই অভিজ্ঞতাকে আরও সহজ ও দ্রুত করতে জিমেইলে যুক্ত হয়েছে গুগলের নতুন এআই-ভিত্তিক ফিচার ‘হেল্প মি রাইট’। জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তিতে তৈরি এই টুলের মাধ্যমে খুব সাধারণ একটি নির্দেশনা দিলেই মুহূর্তে পুরো ইমেইলের খসড়া তৈরি করা সম্ভব।

    শুধু নতুন ইমেইল লেখাই নয়, আগে থেকে লেখা কোনো খসড়াকে আরও গুছানো, সংক্ষিপ্ত বা পেশাদার করতেও সহায়তা করে এই ফিচার। ব্যবসায়িক প্রস্তাব, ক্লায়েন্টের সঙ্গে মিটিংয়ের অনুরোধ, দ্রুত ফলো-আপ কিংবা একেবারে সাধারণ একটি নোট— সব ধরনের ইমেইলের ভাষা তৈরিতে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখে।

    গুগলের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘হেল্প মি রাইট’ ব্যবহারকারীর নিজস্ব লেখার ধরন বদলে দেয় না। বরং এটি একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করে দেয়, যাতে ব্যবহারকারী মূল বক্তব্যের ওপর বেশি মনোযোগ দিতে পারেন এবং কীভাবে লিখবেন— তা নিয়ে কম ভাবতে হয়।

    জিমেইলের ‘হেল্প মি রাইট’ কী?

    ‘হেল্প মি রাইট’ একটি এআই-চালিত ফিচার, যা গুগল প্রথম উন্মোচন করে গুগল আই/ও ২০২৩ ইভেন্টে। বর্তমানে এটি জিমেইলের ওয়েব সংস্করণ, অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস প্ল্যাটফর্মে ব্যবহার করা যাচ্ছে।

    এই ফিচারটি গুগলের জেমিনি প্রযুক্তির মাধ্যমে কাজ করে। ব্যবহারকারীর দেওয়া নির্দেশনা বা প্রম্পট অনুযায়ী এটি ইমেইলের পূর্ণাঙ্গ খসড়া তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি বিদ্যমান ইমেইলের ভাষা, দৈর্ঘ্য ও স্পষ্টতা উন্নত করতেও সক্ষম।

    ‘হেল্প মি রাইট’ ফিচার যেভাবে ব্যবহার করবেন

    ১. ফিচারটি চালু করা

    • ‘হেল্প মি রাইট’ বর্তমানে গুগল ওয়ার্কস্পেস ল্যাব টেস্টার এবং নির্দিষ্ট ওয়ার্কস্পেস বা জেমিনি প্ল্যানের ব্যবহারকারীদের জন্য উপলভ্য।
    • জিমেইল অ্যাপ বা ওয়েব সংস্করণ সর্বশেষ আপডেট করা আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে।
    • আপনি যদি এই ফিচারের জন্য যোগ্য হন, তাহলে ইমেইল লেখার সময় কম্পোজ উইন্ডোতে ‘হেল্প মি রাইট’ বাটন দেখতে পাবেন।

    ২. নতুন ইমেইল লেখার ক্ষেত্রে

    • জিমেইলে ‘কম্পোজ’ বাটনে ক্লিক করুন।
    • এরপর ‘হেল্প মি রাইট’ অপশন নির্বাচন করুন।
    • একটি ছোট নির্দেশনা লিখুন, যেমন—

    “একজন ক্লায়েন্টের সঙ্গে মিটিংয়ের অনুরোধ জানিয়ে একটি পেশাদার ইমেইল লেখো।”

    • সঙ্গে সঙ্গে জিমেইল এআই ব্যবহার করে একটি সম্পূর্ণ ইমেইলের খসড়া তৈরি করে দেবে।

    ৩. আগে থেকে লেখা ইমেইল উন্নত করতে

    • আপনার লেখা খসড়া ইমেইলটি কম্পোজ বক্সে লিখুন বা পেস্ট করুন।
    • এরপর ‘হেল্প মি রাইট’ এবং তারপর ‘রিফাইন’ অপশন নির্বাচন করুন।

    এ সময় যেসব অপশন ব্যবহার করা যাবে—

    • ফরমালাইজ: ভাষাকে আরও পেশাদার করতে
    • শর্টেন: ইমেইল সংক্ষিপ্ত করতে
    • এলাবরেট: আরও বিস্তারিত যোগ করতে
    • রিফ্রেইজ: ভাষা বা টোন পরিবর্তন করতে

    ৪. চূড়ান্ত সম্পাদনা

    • পছন্দ না হলে একাধিকবার নতুন খসড়া তৈরি করা যাবে।
    • দ্রুত টগল অপশনের মাধ্যমে ইমেইলের টোন (ক্যাজুয়াল, প্রফেশনাল বা ফ্রেন্ডলি) এবং দৈর্ঘ্য পরিবর্তন করা সম্ভব।
    • এআই দিয়ে খসড়া তৈরি হলেও, চূড়ান্ত সম্পাদনার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবহারকারীর হাতেই থাকবে— প্রয়োজনে নিজ হাতে লেখা সংশোধন করা যাবে।

    সব মিলিয়ে, জিমেইলের ‘হেল্প মি রাইট’ ফিচার ইমেইল লেখাকে আরও স্মার্ট, দ্রুত ও ব্যবহারবান্ধব করে তুলেছে। অফিসিয়াল যোগাযোগ থেকে শুরু করে দৈনন্দিন ব্যক্তিগত বার্তা— সব ক্ষেত্রেই এটি সময় সাশ্রয় এবং সঠিক ভাষা খুঁজে পেতে একটি কার্যকর সহায়ক টুল হিসেবে কাজ করছে।

  • জকসু ও হল সংসদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত

    জকসু ও হল সংসদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত

    অনলাইন ডেস্ক:    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় জকসু প্রতিনিধিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপাচার্যের সভা কক্ষে এ সভা শুরু হয়ে রাত সোয়া ৯ টার দিকে শেষ হয়। জানা যায়, এদিন জকসু প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিশেষ বৃত্তি, দ্বিতীয় ক্যাম্পাস, পুন:ভর্তি ও উপস্থিতির শর্ত পুনর্বিবেচনার কথা আলোচনা হয়েছে।

    সভা শেষে জকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, আজ প্রথম সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্বিতীয় ক্যাম্পাস, আবাসন বৃত্তিসহ অনেক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা যা বলেছি, সেই অনুপাতে ফলাফল পাবো বলে আশাবাদী।

    সহ-সভাপতি (ভিপি) মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, আগামী ২৬ জানুয়ারি জকসুর প্রতিনিধিদের জন্য মুক্ত মঞ্চে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংবর্ধনার আয়োজন করা হবে। এছাড়া আসন্ন পূজা উপলক্ষে একটি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। জকসুর প্রতিনিধিদের কক্ষ সংক্রান্ত বিষয়ে আরেকটি বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো.  রেজাউল করিম বলেন, জকসু প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে অনেক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আশা করি, জকসু প্রতিনিধিরা শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করবে।