Category: প্রচ্ছদ

  • দেশের প্রথম সরকারি ফ্রিল্যান্সার আইডি ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন

    দেশের প্রথম সরকারি ফ্রিল্যান্সার আইডি ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন

    অনলাইন ডেস্ক:    দেশের ফ্রিল্যান্সারদের জন্য একটি স্বচ্ছ, নিরাপদ ও হয়রানিমুক্ত ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষুদ্র প্রয়াস হিসেবে দেশের প্রথম সরকারি ফ্রিল্যান্সার আইডি ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আইসিটি বিভাগের সভাকক্ষে প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এই সফটওয়্যার উদ্বোধন করেন।

    সভাপতির বক্তব্যে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা, বিশেষ করে হয়রানি ও আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ ফ্রি রাখা হয়েছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে— আবেদন ফি, নবায়ন ফি ও প্রসেসিং ফিসহ সব ধরনের আর্থিক লেনদেন ও সংশ্লিষ্ট হয়রানি সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হয়েছে। ডিওআইসিটি’র ২৯ জন প্রকৌশলী আইডি ভেরিফিকেশনে একটি রিসোর্স পুল হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কারিগরি সহায়তার জন্য চারজন সাপোর্ট এক্সপার্ট, শেয়ারড রিসোর্স পুল হিসেবে ফ্রিল্যান্সারদের পাশে থাকবেন। খুব শিগগিরই এপিআই (API) ভিত্তিক ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা চালু হবে। এপিআই ভেরিফিকেশনের দুই স্তর নিয়ে কমিউনিটির সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে সাইটের ভিএপিটি (VAPT) সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। আজ থেকেই সাইন আপ এবং ফ্রিল্যান্সার আইডির জন্য আবেদন করা যাবে।

    বিশেষ সহকারী বলেন, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ফ্রিল্যান্সারের ইউজার এক্সপেরিয়েন্স উন্নয়নে ফ্রিল্যান্সার কমিউনিটি লিডার ও বাংলাদেশ কল সেন্টার অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে কাজ করবে।

    আইসিটি বিভাগ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে  একটি ফরমাল চিঠি পাঠানো হবে, যাতে ভবিষ্যতে ম্যানুয়াল আইডির পরিবর্তে এই ডিজিটাল ফ্রিল্যান্সার আইডি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রহণ করে।

    ইতোমধ্যে জালিয়াতি ও হয়রানির অভিযোগের প্রেক্ষিতে আগের চুক্তি বাতিল করা হয়েছে এবং ফ্রিল্যান্সার কমিউনিটি লিডাররা স্বীকৃত পেমেন্ট মেথডে বার্ষিক ৫০ ডলারের মার্জিনকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন। আইসিটি বিভাগের প্রকৌশলীরা এই সফটওয়্যারটি তৈরি করেছেন তারাই এর রক্ষণাবেক্ষণ করবেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

    নতুন এই ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ডের মাধ্যমে নিবন্ধিত ফ্রিল্যান্সাররা ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ, ঋণ ও ক্রেডিট কার্ড সুবিধা, আর্থিক প্রণোদনা এবং সরকারি ও বেসরকারি প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সহজে গ্রহণ করতে পারবেন। একই সঙ্গে এই প্ল্যাটফর্মটি একটি জাতীয় ফ্রিল্যান্সার ডেটাবেজ হিসেবে কাজ করবে, যেখানে ফ্রিল্যান্সারদের সংখ্যা, দক্ষতা ও কাজের ধরন সংরক্ষিত থাকবে, যা ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে সহায়ক হবে।

    তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী বলেন, এই উদ্যোগের ফলে ফ্রিল্যান্সারদের পরিচয় যাচাই সহজ হবে, ব্যাংকিং ও ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা কমবে এবং দেশের ফ্রিল্যান্সিং খাত আরও স্বচ্ছ ও গতিশীল হবে।

    আগে যে সকল ফ্রিল্যান্সাররা টাকা পয়সা দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন তাদের বিষয়ে আইসিটি বিভাগের পদক্ষেপ বিষয়ে জানতে চাইলে তথ্যপ্রযুক্তি অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. আবু সাঈদ বলেন, যদি কেউ অভিযোগ করে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

    প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধনের পর উপস্থিত একজন ফ্রিল্যান্সারের আইডি কার্ড এর আবেদন অনুমোদন করা হয়।

    অংশীজন সভায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. আবু সাঈদ, বাক্য এর সভাপতি, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস এর প্রতিনিধি, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি, আপওয়ার্ক বাংলাদেশ গ্রুপের প্রতিনিধি, বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সার এবং বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ, ব্যাখ্যা দিয়েছে পিবিআই

    শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ, ব্যাখ্যা দিয়েছে পিবিআই

    অনলাইন ডেস্ক:    জুলাই গণঅভ্যুত্থান সময়ের একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করার বিষয়ে নানা আলোচনার মধ্যে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

    মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) পিবিআই এর গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, মামলাটির ভুক্তভোগীর নাম ঠিকানার সকল তথ্য ভুয়া। হামলার ঘটনার উল্লেখিত সময়ে হামলার কোনো ঘটনাই ঘটেনি। এছাড়া বাদী শরিফ (৩৭) তদন্তকারীদের কোনো সহযোগিতা করেননি। মামলাটি তদন্তে ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে। তদন্তের বিস্তারিত তথ্য ও চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করেছে পিবিআই।

    এদিকে যুগান্তরের পক্ষ থেকে বাদী শরিফের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

    বিবৃতিতে বলা হয়, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলাসহ সব মামলা আন্তরিকতার সঙ্গে তদন্ত করছে। ইতোমধ্যে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ঘটনায় ১৭টি জিআর মামলার ঘটনা প্রমাণিত হওয়ায় আদালতে চার্জশিট ও ৬৭টি সিআর মামলার ঘটনা প্রমাণিত হওয়ায় আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।

    সম্প্রতি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একটি হত্যাচেষ্টা মামলার (ধানমন্ডি থানার মামলা নং—০১, তারিখ—০৩/০৯/২০২৪ সাল) চূড়ান্ত রিপোর্ট আদলতে দাখিল করাকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংবাদের শিরোনাম হয়েছে, যা ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।

    পরিপূর্ণ তথ্য দিয়ে পিবিআই জানায়, গত ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর শরিফ (৩৭) (পিতা—সিরাজ, ৪১/১ ট্যানারি এলাকা, জিগাতলা, হাজারীবাগ, ঢাকা) নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে ধানমন্ডি থানায় হত্যাচেষ্টা মামলাটি দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে ভিকটিম হিসেবে মো. সাহেদ আলী (২৭) (পিতা—মো. কুদ্দুস, ৩৮ ট্যানারি মোড়, হাজারীবগ, ঢাকা)-সহ শুধু নাম ও ঢাকা কলেজ এবং ঢাকা সিটি কলেজ উল্লেখ করে আহত হিসেবে আরও নয়জনের শুধু নাম উল্লেখ করেন। ঘটনাস্থল ধানমন্ডি ২৭ এর মীনাবাজারের আশপাশের এলাকা এবং ঘটনার সময় ৪ আগস্ট (২০২৪) বেলা ১১টা উল্লেখ করেন।

    আসামি হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনের নাম উল্লেখ করেন। বাদী ভিকটিম সাহেদ আলীকে তার ছোট ভাই হিসেবে এজাহারে উল্লেখ করেন (যদিও ঠিকানা ভিন্ন)।

    তদন্তকারী কর্মকর্তা ভিকটিম সাহেদ আলীর সন্ধানে এজাহারের উল্লেখিত ঠিকানায় এবং বাদীর ঠিকানায় গিয়ে জানতে পারেন যে, সাহেদ আলী নামে কেউ ওই ঠিকানায় কখনো বসবাস করেননি এবং ভিকটিম বাদীর ভাই নন। ভিকটিমের এজাহারে উল্লেখিত জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে দেখা যায় যে, জাতীয় পরিচয়পত্রটি ভুয়া এবং এর কোনো মোবাইল নম্বর নিবন্ধিত নেই।

    ভিকটিমের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সীমান্ত স্কয়ার উল্লেখ করায় সীমান্ত স্কয়ার মার্কেট কমিটির সঙ্গে পত্র প্রেরণের মাধ্যমে এবং সরাসরি যোগাযোগ করেও ওই ভিকটিম সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। অন্যান্য ভিকটিমদের তথ্য যাচাই করার জন্য ঢাকা কলেজ এবং ঢাকা সিটি কলেজের অধ্যক্ষের লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে জানা যায় যে, উল্লিখিত ছাত্র—ছাত্রীদের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা না থাকায় তাদের তথ্য প্রদান করা সম্ভব হয়নি।

    বাদীকে একাধিকবার নোটিশ দিয়ে এবং সরাসরি বাদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে যে কোনো ভিকটিম উপস্থাপন করতে বলা হলেও তিনি কোনো ভিকটিম হাজির করতে পারেননি। তাছাড়া একাধিকবার বলা সত্ত্বেও বাদী ভিকটিমদের পূর্ণাঙ্গ ও সঠিক ঠিকানা প্রদান করেননি। ঘটনাস্থলের সাক্ষ্য প্রমাণেও ওই সময় ওই স্থানে কোনো ঘটনা ঘটেনি মর্মে প্রমাণিত হয়। সার্বিক বিবেচনায় মামলাটির চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করা হয়।

    সাহেদ আলীসহ ১০ জনকে হত্যাচেষ্টার এ মামলায় ‘আহতদের খোঁজ না পেয়ে’ ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করে গত ৫ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পিবিআই। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক রয়েছে।

  • ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে প্রায় ২,০০০ মানুষ নিহত

    ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে প্রায় ২,০০০ মানুষ নিহত

    অনলাইন ডেস্ক:     ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে প্রায় ২,০০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। দেশটির একজন কর্মকর্তা এই তথ্য বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন। তবে এসময় আটক বা আহত হয়েছেন কতজন তা জানাননি।

    মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা আন্দোলনকারীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের  মৃত্যুর জন্য দায়ী সন্ত্রাসীরা।

    তবে নিহতদের মধ্যে কারা বিক্ষোভকারী আর কারা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, সে বিষয়ে তিনি কোনো বিস্তারিত মন্তব্য করেননি। নির্দিষ্ট করে কোনো পক্ষকেও দোষ দেননি।

    মানবাধিকার সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’ আশির দশকে ইরানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে এখনকার অবস্থা তুলনা করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির পরিচালক মাহমুদ আমিরি মোগাদ্দাম এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর যে গণ-মৃত্যুদণ্ড বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে তা অত্যন্ত ভয়াবহ।

    গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই আন্দোলনে ৯ কোটি মানুষের দেশটিতে রাজধানী তেহরানসহ কয়েক ডজন শহরে কয়েক লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমন-পীড়ন ও শত শত মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া সত্ত্বেও বিক্ষোভকারীরা দমে না গিয়ে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শাসনের অবসান চাইছে।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনে দেশটিতে সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। বিশ্বনেতা ও বিনিয়োগকারীরা এখন উদ্বেগের সঙ্গে তেহরানের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন। ইরানে চলমান অস্থিরতা আরও তীব্র হওয়ায় মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে দেশটি ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

  • গণভোট বিষয়ে ঝালকাঠিতে অবহিতকরণ কর্মশালা

    গণভোট বিষয়ে ঝালকাঠিতে অবহিতকরণ কর্মশালা

    অনলাইন ডেস্ক:     আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট বিষয়ে ভোটারদের সচেতনতা বাড়াতে ঝালকাঠিতে এক অবহিতকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আজ মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

    কর্মশালায় গণভোটের গুরুত্ব, ভোটাধিকার প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট আয়োজন এবং গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির নানা দিক তুলে ধরা হয়। কর্মশালায় গণমাধ্যমকর্মী ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

    কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ। সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মমিন উদ্দিন।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের উপপরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) এ বি এম রফিকুল ইসলাম, বরিশাল জেলা সাংবাদিক ইউনিয়ন সভাপতি আযাদ আলাউদ্দীন এবং ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. আককাস সিকদারসহ আরও অনেকে।

    ‎সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন বলেন, গণভোট একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, যেখানে জনগণ সরাসরি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে মত প্রকাশের সুযোগ পায়। তিনি বলেন, গণভোটের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের মতামতকে সম্মান দেওয়া এবং একটি গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছানো।

    জেলা প্রশাসক বলেন, ভোটাররা যেন ভয়ভীতি বা প্রভাবমুক্ত হয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সে জন্য প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে গণভোট আয়োজনই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, গণভোট সফল করতে হলে নিরপেক্ষ তথ্য প্রচার এবং ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তোলা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করা সম্ভব।

    মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, জুলাই বিপ্লবে যারা আহত ও নিহত হয়েছেন, গণভোট হচ্ছে তাদের আত্মত্যাগের প্রতি জাতির দায় শোধ করার একটি সুযোগ। এটি শুধু একটি ভোট নয়, এটি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ভোট। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে এই দায় শোধ করতে হবে।

    ‎উল্লেখ্য, গণভোট বাংলাদেশে এ পর্যন্ত তিনবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথম গণভোট হয় ১৯৭৭ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে, দ্বিতীয়টি ১৯৮৫ সালে রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের আমলে। সর্বশেষ গণভোট অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর, যার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি শাসনব্যবস্থা থেকে সংসদীয় গণতন্ত্রে ফিরে যায় দেশ।

    দীর্ঘ বিরতির পর সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগে আবারও গণভোট আলোচনায় এসেছে।

    কর্মশালায় জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক এবং প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন। অতিথিদের বক্তব্যে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ গণভোট নিশ্চিত করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গণমাধ্যমের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

  • সুদানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় নগরীতে আধাসামরিক বাহিনীর হামলায় নিহত ২৭

    সুদানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় নগরীতে আধাসামরিক বাহিনীর হামলায় নিহত ২৭

    অনলাইন ডেস্ক:    সুদানের আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) সোমবার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় নগরী সিনজায় সেনাবাহিনীর একটি ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালালে এতে ২৭ জন নিহত হয়েছেন। সামরিক ও স্বাস্থ্য সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

    পোর্ট সুদান থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি খবর জানায়।

    সিন্নার রাজ্যের রাজধানী সিনজা, খার্তুম থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত। জাতীয় রাজধানীকে সেনাবাহিনী-নিয়ন্ত্রিত পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করা একটি কৌশলগত সড়কের পাশে নগরীটির অবস্থান।

    পূর্বাঞ্চলীয় নগরী পোর্ট সুদানের যুদ্ধকালীন ঘাঁটি থেকে প্রায় তিন বছর কার্যক্রম চালানোর পর সেনাবাহিনী-সমর্থিত সরকার খার্তুমে ফিরে আসার ঘোষণা দেওয়ার একদিন পরই এই হামলা ঘটে।

    ২০২৪ সালের শেষ দিকে একটি বৃহত্তর অভিযানের অংশ হিসেবে সেনাবাহিনী এলাকা পুনর্দখল করার পর সিনজা দীর্ঘদিন ধরে সংঘাতের বাইরে ছিল। ওই অভিযানের ধারাবাহিকতায় পরে খার্তুমও পুনর্দখলে নেয় সেনাবাহিনী।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সামরিক সূত্র জানায়, আরএসএফের ড্রোনগুলো সিনজায় সেনাবাহিনীর ১৭তম পদাতিক ডিভিশনের সদর দফতর লক্ষ্য করে এ হামলা চালায়।

    সিন্নার রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইব্রাহিম আল-আওয়াদ জানান, হামলায় আরও ৭৩ জন আহত হয়েছেন।

    নিরাপত্তা বাহিনীর একটি সূত্র এএফপিকে জানায়, একাধিক পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলীয় রাজ্যের সামরিক, নিরাপত্তা ও সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে চলা একটি বৈঠকের সময় সেনাবাহিনীর সদর দফতর লক্ষ্য করেই হামলাটি চালানো হয়।

    রাজ্যের যোগাযোগ দফতর জানায়, হোয়াইট নাইল রাজ্যের গভর্নর অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। দফতরটি জানায়, তাঁর দেহরক্ষী ও প্রটোকল প্রধানও এতে নিহত হয়েছেন।

    সিনজার এক বাসিন্দা এএফপিকে জানান, তিনি বিস্ফোরণের শব্দ ও আকাশ প্রতিরক্ষা গোলাবর্ষণের আওয়াজ শুনেছেন।

    সিন্নার অঞ্চলটি সর্বশেষ গত অক্টোবরে ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল।

    ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। দেশের ভেতরে ও সীমান্ত পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে বাস্তুচ্যুত ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ । এই সংঘাত বিশ্বে সবচেয়ে বড় বাস্তুচ্যুতি ও খাদ্য সংকটের জন্ম দিয়েছে।

    জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, সিন্নার পুনর্দখলের পরবর্তী এক বছরে দুই লক্ষাধিক মানুষ রাজ্যটিতে ফিরে এসেছেন।

    তবে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো ও চলমান নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেই তাদের প্রত্যাবর্তন ঘটেছে।

    যুদ্ধের শুরুতে আরএসএফ যোদ্ধারা দ্রুত খার্তুম দখল করে নেওয়ার পর রাজধানী ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন কয়েক লাখ বেসামরিক মানুষ।

    গত বছর সেনাবাহিনী পুনরায় নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর জাতিসংঘের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ধীরে ধীরে প্রায় ১২ লাখ মানুষ খার্তুমে ফিরে এসেছেন।

    পুনর্গঠন কার্যক্রম চললেও আরএসএফ ও তাদের মিত্ররা এখন দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে।

    তারা মাঝেমধ্যে সেনাবাহিনী-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। সেনাবাহিনী ও তাদের সরকার সুদানের উত্তর, পূর্ব ও মধ্যাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে।

    অন্যদিকে আরএসএফ দেশের বিশাল পশ্চিমাঞ্চল দারফুরে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে। তারা দক্ষিণাঞ্চলীয় কোরদোফান অঞ্চল দিয়েও অগ্রসর হচ্ছে। খার্তুমের কাছাকাছি পৌঁছাতে সহায়ক হবে—এমন নগরীগুলো দখলের লক্ষ্য তাদের।

    একাধিক নগরী আধাসামরিক বাহিনীর অবরোধে থাকায় কোরদোফানে কয়েক লাখ মানুষ চরম দুর্ভিক্ষের মুখে রয়েছে।

    জাতিসংঘ এই সংঘাতকে ‘নৃশংসতার যুদ্ধ’ আখ্যা দিয়েছে। উভয় পক্ষের বিরুদ্ধেই বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ রয়েছে।

  • উচ্চশিক্ষা নিয়ে ৩ দিনের দক্ষিণ এশীয় সম্মেলনের উদ্বোধন প্রধান উপদেষ্টার

    উচ্চশিক্ষা নিয়ে ৩ দিনের দক্ষিণ এশীয় সম্মেলনের উদ্বোধন প্রধান উপদেষ্টার

    অনলাইন ডেস্ক:     প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পথনির্দেশনা নিয়ে তিন দিনের দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সম্মেলনের উদ্বোধন করেছেন।

    তিনি আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।

    বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনের শিরোনাম ‘দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সম্মেলন: উচ্চশিক্ষার অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পথনির্দেশনা (সার্চে ২০২৬)’।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন এবং বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেসমে। স্বাগত বক্তব্য দেন ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজিমউদ্দিন খান।

    অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাগণ, সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যগণ, দেশি-বিদেশি গবেষক ও শিক্ষাবিদ এবং কূটনীতিকগণ উপস্থিত ছিলেন।

    ইউজিসি কর্মকর্তারা জানান, হায়ার এডুকেশন অ্যাকসেলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের আওতায় এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ইউজিসি এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

    সম্মেলনে যুক্তরাজ্য, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশের ৩০ জন আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিরাও এতে অংশগ্রহণ করছেন। আগামী ১৫ জানুয়ারি সম্মেলন শেষ হবে।

    এ ছাড়া সার্কভুক্ত দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও উচ্চশিক্ষা কমিশনের প্রতিনিধিগণ, বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষাবিদ ও গবেষক সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন।

    ইউজিসি জানায়, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া এবং সার্ক দেশগুলোর মধ্যে ইউজিসির নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করাই এ সম্মেলনের মূল লক্ষ্য।

    তিন দিনে মোট আটটি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম দিন আজ দুটি অধিবেশনে আলোচনা হবে— ‘দক্ষিণ এশিয়ায় উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা: শাসনব্যবস্থা, গুণগত মান ও অন্তর্ভুক্তি’ এবং ‘গবেষণা, উদ্ভাবন, টেকসই উন্নয়ন ও সামাজিক সম্পৃক্ততা’ বিষয়ে।

    দ্বিতীয় দিনে আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে— কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সংযুক্তি, ডিজিটাল রূপান্তর ও স্মার্ট লার্নিং ইকোসিস্টেম, স্নাতকদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা, উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ পথ: সহযোগিতা, সংহতি ও নেটওয়ার্কিং, উচ্চশিক্ষা রূপান্তরে অংশীজনদের সংলাপ: নাগরিক সমাজের কণ্ঠস্বর এবং হিট প্রকল্পের প্রেক্ষাপটে উপাচার্যদের সঙ্গে সংলাপ।

    শেষ দিনে উচ্চশিক্ষায় লিঙ্গসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে। এরপর ‘ঢাকা উচ্চশিক্ষা ঘোষণা’ গ্রহণের মধ্য দিয়ে সম্মেলন শেষ হবে।