Category: প্রচ্ছদ

  • দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য শ্রুতি লেখক নীতিমালা জারি, অভিন্ন নিয়মে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ

    দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য শ্রুতি লেখক নীতিমালা জারি, অভিন্ন নিয়মে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ

    অনলাইন ডেস্ক:   দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য পাবলিক ও শ্রেণি পরীক্ষায় শ্রুতি লেখকের সেবা গ্রহণে একটি অভিন্ন নীতিমালা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিন্ন ভিন্ন নিয়মে শ্রুতি লেখক নিয়োগ ও পরীক্ষার ব্যবস্থা চলায় শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিলেন। সেই জটিলতা দূর করতেই ‘পাবলিক ও শ্রেণি পরীক্ষায় শ্রুতি লেখকের সেবা গ্রহণ সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৫’ প্রণয়ন করা হয়েছে।

    প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম আজ রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় চার মাস ধরে একাধিক অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে এই নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

    শফিকুল আলম জানান, সমাজসেবা অধিদপ্তরের ২০২৪ সালের জরিপ অনুযায়ী দেশে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের সংখ্যা ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৫৬৫ জন। এর আগে পাবলিক ও শ্রেণি পরীক্ষার ক্ষেত্রে শ্রুতি লেখক নিয়োগের কোনো পূর্ণাঙ্গ ও অভিন্ন নীতিমালা ছিল না। বিভিন্ন সময় খণ্ড খণ্ড প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া পরিচালিত হতো। ফলে শ্রুতি লেখকের যোগ্যতা, সম্মানী, আবেদন প্রক্রিয়া, অভিযোগ ও প্রতিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা ছিল না।

    নতুন নীতিমালায় এসব বিষয় সমন্বিতভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। পরীক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত সময়ের বিষয়টিও স্পষ্ট করা হয়েছে। প্রতি এক ঘণ্টা পরীক্ষার বিপরীতে ১৫ মিনিট অতিরিক্ত সময় দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে নীতিমালায়।

    প্রেস সচিব বলেন, এই নীতিমালা সকল সরকারি ও বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন পাবলিক ও শ্রেণি পরীক্ষার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এতে শ্রুতি লেখকদের যোগ্যতা ও আবেদন ফরমের বিস্তারিত তফসিল সংযুক্ত রয়েছে।

    শফিকুল আলম জানান, ইতোমধ্যে একাধিক সংগঠন ও সংস্থা এই নীতিমালাকে স্বাগত জানিয়েছে। শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার বলেছেন, শিক্ষায় সমতা প্রতিষ্ঠায় এই নীতিমালা কার্যকর ভূমিকা রাখবে এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতার প্রতিফলন ঘটাবে।

  • মান্না ও জামায়াতসহ মোট ৫৮ জন প্রার্থির বৈধতা ঘোষণা নির্বাচন কমিশনের

    মান্না ও জামায়াতসহ মোট ৫৮ জন প্রার্থির বৈধতা ঘোষণা নির্বাচন কমিশনের

    নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না ও জামায়াতে ইসলামীর দুজনসহ মোট ৫৮ জনের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রোববার (১১ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানির দ্বিতীয় দিনে এসব প্রার্থীর প্রার্থিতা ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

    এ নিয়ে গত দুদিনে ১০৯ জন নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফিরে এলেন। দ্বিতীয় দিনে স্বতন্ত্র ১০ জন, খেলাফত মজলিসের আটজন, জাতীয় পার্টির ছয়জন, গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) ছয়জন এবং ইসলামী আন্দোলনের দুজনের আপিল আবেদন মঞ্জুর করে ইসি।

    নির্বাচন কমিশন রোববার মোট ৭১টি আপিল আবেদনের ওপর শুনানি করে। এর মধ্যে ৫৮টি মঞ্জুর, সাতটি আবেদন নামঞ্জুর ও ছয়টি আবেদন অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে। শুনানিতে বগুড়া-২ আসনের নাগরিক ঐক্যের প্রার্থী মাহমুদুর রহমানের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়। জামায়াতে ইসলামীর চাঁদপুর-২ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল মুবিন ও জামালপুর-৩ আসনের প্রার্থী মো. মজিবুর রহমান আজাদীর আপিল মঞ্জুর করেছে ইসি। ফলে এ নির্বাচনে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বাধা নেই। তবে যশোর-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের আপিল আবেদনের ওপর শুনানি হলেও সিদ্ধান্ত না দিয়ে অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে। এ আবেদনের ওপর ১৬ জানুয়ারি আবারও শুনানি হবে।

    অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মধ্যে এবি পার্টির একজন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের তিন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি’র এক, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের চারজন, জনতার দলের তিনজন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) একজন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির দুজন করে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করে ৭২৩ জনের প্রার্থিতা বাতিল করেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা। মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয় ১৮৪২ জনের। মনোনয়নপত্র বাছাই করে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসিতে ৬৪৫টি আপিল আবেদন জমা পড়েছে। এসব আপিল আবেদন আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত শুনানি করবে ইসি।

    স্বতন্ত্র যেসব প্রার্থী নির্বাচনে ফিরেছেন তারা হলেন-বগুড়া-২ রেজাউল করিম তালু, রাঙামাটিতে পহেল চাকমা, সাতক্ষীরা-৩ শহীদুল আলম, জামালপুর-৩ সাদিকুর রহমান, ঝালকাঠি-২ নুরুদ্দীন সরদার, নীলফামারী-৪ রিয়াদ আরফান সরকার, যশোর-২ জহুরুল ইসলাম, হবিগঞ্জ-৪ মিজানুর রহমান চৌধুরী, নড়াইল-১ এসএম সাজ্জাদ হোসেন ও মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে মো. মহিউদ্দিন।

    জাতীয় পার্টির ছয়জন প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। তারা হলেন-বগুড়া-২ আসনে শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ, কুমিল্লা-১ ইফতেখার আহসান, যশোর-৪ জহরুল হক, যশোর-৫ এম এ হালিম, যশোর-৬ জিএম হাসান ও রাজশাহী-৬ ইকবাল হোসেন।

    খেলাফত মজলিসের বৈধ হওয়া প্রার্থীরা হলেন-গাজীপুর-২ আসনের খন্দকার রুহুল আমিন, টাঙ্গাইল-৫ হাসনাত আল আমীন, টাঙ্গাইল-৮ শহীদুল ইসলাম, টাঙ্গাইল-৭ মোহাম্মদ আবু তাহের, গাইবান্ধা-২ এ কে এম গোলাম আযম, ফেনী-৩ মোহাম্মদ আলী, জয়পুরহাট-১ আনোয়ার হোসেন ও সুনামগঞ্জ-১ আসনের হাজী মুখলেছুর রহমান। এবি পার্টির জয়পুরহাট-১ আসনের সুলতান মোহাম্মদ শামছুজ্জামান ও জয়পুরহাট-২ আসনের এসএ জাহিদও প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। অন্যান্য দলের মধ্যে কুড়িগ্রাম-২ আসনে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির আতিকুর রহমান, কুমিল্লা-৬ আসনের বাসদের প্রার্থী কামরুন্নাহার সাথী, ঢাকা-১ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নুরুল ইসলাম, কুমিল্লা-৮ আসনে বাসদের আলী আশ্রাফ, নেত্রকোনা-১ আসনে জেএসডির বেলাল হোসেন, হবিগঞ্জ-৩ আসনে মুক্তিজোটের শাহিনুর রহমান ও নড়াইল-২ আসনে গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) নূরুল ইসলামের আপিল আবেদন মঞ্জুর হয়েছে।

    এছাড়াও প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন হবিগঞ্জ-৪ আসনের মুক্তিজোটের প্রার্থী রাশেদুল ইসলাম খোকন, লক্ষ্মীপুর-২ আসনে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির ফরহাদ মিয়া, লক্ষ্মীপুর-২ আসনে গণঅধিকার পরিষদের আবুল বাশার, চাঁদপুর-১ আসনে গণঅধিকার পরিষদের এনায়েত হোসেন, মাদারীপুর-৩ বাসদের আমিনুল ইসলাম, ঢাকা-৮ আসনে জনতার দলের গোলাম সরোয়ার ও ঢাকা-১০ আসনে একই দলের জাকির হোসেন, নারায়ণগঞ্জ-৪ বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির সেলিম আহমেদ, চাঁদপুর-২ রিপাবলিকান পার্টির ফয়জুননুর, নারায়ণগঞ্জ-৪ গণঅধিকার পরিষদের আরিফ ভূঁইয়া ও নারায়ণগঞ্জ-৫ একই দলের নাহিদ হোসেন, টাঙ্গাইল-৮ আম জনতার দলের আলমগীর হোসেন, বগুড়া-৬ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মামুনুর রশীদ, সিরাজগঞ্জ-১ নাগরিক ঐক্যের নাজমুস সাকিব, ঢাকা-১৮ ন্যাশনাল পিপলস পার্টির সাবিনা জাবেদ, ঝালকাঠি-১ গণঅধিকার পরিষদের শাহাদৎ হোসেন, ঢাকা-১৫ সুপ্রিম পার্টির মোবারক হোসেন, ঢাকা-১৮ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির মফিজুল ইসলাম, ঢাকা-৭ বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মাকসুদুর রহমান, বগুড়া-৫ এলডিপির খান কুদরদ ই সাকলায়েন, গাইবান্ধা-৩ জনতার দলের মঞ্জুরুল হক ও মাগুরা-১ আসনে গণফোরাম প্রার্থী মিজানুর রহমান।

    আপিল শুনানিতে সাতজনের আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে। অর্থাৎ তাদের প্রার্থিতা বাতিলই থাকছে। তারা হলেন-ফরিদপুর-৩ মোরশেদুল ইসলাম আসিফ, রাজশাহী-৩ হাবিবা বেগম, শেরপুর-১ ইলিয়াছ উদ্দিন, ভোলা-২ তাছলিমা বেগম, রংপুর-৪ জয়নুল আবেদিন, খুলনা-৪ এসএম আজমল হোসেন ও ময়মনসিংহ-৯ আসনের শামসুল ইসলাম।

    আপিল আবেদন অপেক্ষমাণ থাকা ছয়জন প্রার্থীরা-ভোলা-২ স্বতন্ত্র মহিবুল্যাহ খোকন, ফরিদপুর-৪ স্বতন্ত্র আবদুল কাদের মিয়া, রাজশাহী-৫ স্বতন্ত্র রায়হান কাওসার, ময়মনসিংহ-৪ ন্যাশনাল পিপলস পার্টির হামিদুল ইসলাম, খুলনা-১ স্বতন্ত্র গোবিন্দ হালদার ও যশোর-২ জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ মোসলেহউদ্দিন ফরিদ।

  • বিক্ষোভের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ক্ষমতায় আসতে চান নির্বাসিত নেতা রেজা পাহলভি

    বিক্ষোভের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ক্ষমতায় আসতে চান নির্বাসিত নেতা রেজা পাহলভি

    অনলাইন ডেস্ক:   ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ক্ষমতায় আসতে চান নির্বাসিত নেতা রেজা পাহলভি। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের আগেই ইরান ছাড়েন ৬৫ বছর বয়সি পাহলভি। এরপর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন তিনি।

    যুক্তরাষ্ট্র থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত বিভিন্ন বার্তা ও ভিডিওতে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রের পতনের আহ্বান জানিয়েছেন পাহলভি। এক ভিডিওবার্তায় তিনি বলেন, আমরা ইসলামী প্রজাতন্ত্র এবং এর জীর্ণ, ভঙ্গুর দমনমূলক ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে নতজানু করবো।

    পাহলভির ইরানে জনসমর্থন আছে?

    ইরানের ভেতরে পাহলভির প্রকৃত সমর্থনের মাত্রা নির্ণয় করা কঠিন। তবে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু যাচাইকৃত ভিডিওতে বিক্ষোভকারীদের ‘শাহ দীর্ঘজীবী হোক’ স্লোগান দিতে দেখা গেছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, অন্তত একটি অংশের মধ্যে তার প্রতি সহানুভূতি রয়েছে।

    তবে বেশিরভাগ বিক্ষোভকারী নির্দিষ্ট কোনো নেতার পক্ষে নন। তারা মূলত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বিরুদ্ধে ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক’ ধরনের স্লোগান দিচ্ছেন এবং অর্থনৈতিক বিপর্যয়, মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক ১২ দিনের যুদ্ধ ইরানের অর্থনীতিকে আরও দুর্বল করেছে, যা এই বিক্ষোভের বড় প্রেক্ষাপট হয়ে উঠেছে।

    উত্তর ইরানের ২৭ বছর বয়সি আজাদেহ নামে এক তরুণী এক বার্তায় বলেন, রেজা পাহলভি যা শিখেছেন, তা তার বাবার কাছ থেকেই—যিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন। আমরা পাহলভিদের দেখেছি, এখন সময় একটি গণতান্ত্রিক দেশের।

    ক্ষমতা গ্রহণে নিজেকে প্রস্তুত দাবি

    ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের সময় যেমন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি একক কণ্ঠে আন্দোলনকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তেমন কোনো একক নেতৃত্ব নেই। এই শূন্যতায় পাহলভি নিজেকে একজন ‘রূপান্তরের নেতা’ হিসেবে সামনে আনছেন।

    ১৯৬০ সালে জন্ম নেওয়া পাহলভিকে ১৯৬৭ সালে তার বাবার রাজ্যাভিষেকের সময় যুবরাজ ঘোষণা করা হয়। শাহের শাসনামলে রাজপরিবারের বিলাসী জীবনযাপন ও গভীর অর্থনৈতিক বৈষম্য ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি করেছিল। সেই সঙ্গে শাহের কুখ্যাত গোপন পুলিশ সাভাকের দমননীতিও জনগণের ক্ষোভ বাড়ায়।

    পাহলভি ইরান ছাড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে সামরিক প্রশিক্ষণ নেন এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেন। ২০২৩ সালে তিনি ইসরায়েল সফর করে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুসহ দেশটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি  ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলাকেও সমর্থন করেছিলেন।

    তবে পশ্চিমা সরকারগুলোর কাছ থেকে এখনো স্পষ্ট রাজনৈতিক সমর্থন পাননি পাহলভি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানো হলে তাদের পাশে দাঁড়ানোর কথা বললেও জানিয়েছেন, পাহলভির সঙ্গে সাক্ষাৎ করা এখন ‘উপযুক্ত না-ও হতে পারে’।

  • ‘দ্য রাজা সাব’ শোতে প্রভাস ভক্তদের অগ্নিকাণ্ড!

    ‘দ্য রাজা সাব’ শোতে প্রভাস ভক্তদের অগ্নিকাণ্ড!

    বিনোদন ডেস্ক:    উৎসবের মাঝেই ওডিশার একটি সিনেমা হলে ঘটে বিপত্তি। বহুবার মুক্তি পেছানোর পর ৯ জানুয়ারি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় প্রভাস অভিনীত সিনেমা ‘দ্য রাজা সাব’। প্রথম দিনের শো দেখতে প্রভাসের ভক্তরা হলে ভিড় করেন।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্রভাসের এন্ট্রি, গান ও কুমিরের লড়াইয়ের দৃশ্যে দর্শকেরা চিৎকার করছেন, কনফেটি ছুড়ছেন। ভক্তরা হলের ভেতরে আরতি থালা নিয়ে ঢুকে প্রদীপ জ্বালান এবং প্রভাসের এন্ট্রির সময় পর্দার সামনে কাগজে আগুন ধরিয়ে সেই আগুন ঘিরে নাচতে থাকেন। এতে পর্দার সামনে আগুন ধরে যায়। কেউ কেউ আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন, আবার অনেকেই আতঙ্কে হল ছাড়তে শুরু করেন। তবে কোনো হতাহত বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। এ ঘটনার ভিডিও নিউজ১৮ ওডিশা শেয়ার করেছে।

    ‘দ্য রাজা সাব’ একটি ফ্যান্টাসি থ্রিলার, যেখানে কমেডির সঙ্গে ম্যাস এন্টারটেইনার ঘটনায় ফিরেছেন প্রভাস। সিনেমাটিতে আরও অভিনয় করেছেন সঞ্জয় দত্ত, নিধি আগারওয়াল, মালাভিকা মোহনন, ঋদ্ধি কুমার ও বোমান ইরানি।

    মুক্তির দিনে সিনেমাটি দেখে অনেক দর্শকই লক্ষ্য করেন, ট্রেলারের কিছু দৃশ্য ছবিতে নেই। এ বিষয়ে নির্মাতারা হায়দরাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, প্রভাসের বয়স্ক লুকের নতুন কিছু দৃশ্য পরে ছবিতে যোগ করা হয়েছে।

    এইচটি রিভিউতে বলা হয়েছে, ভারতীয় সিনেমায় বা টলিউডে হরর-কমেডি নতুন নয়। ভুল ভুলাইয়া (২০০৭) ও আনন্দো ব্রহ্মা (২০১৭)-এর মতো উদাহরণ থাকা সত্ত্বেও কেবল কিছু আইডিয়া ছুড়ে দিয়ে দর্শককে হাসানোর চেষ্টা যথেষ্ট নয়। ছবিটির উদ্দেশ্য হাসানো হলেও, সামগ্রিকভাবে এতে আরও গভীরতা ও নান্দনিকতা প্রয়োজন ছিল।

  • সার্চের ফলাফল থেকে বাদ দেওয়া যাবে ইউটিউবের শর্টস

    সার্চের ফলাফল থেকে বাদ দেওয়া যাবে ইউটিউবের শর্টস

    অনলাইন ডেস্ক:   ইউটিউব তাদের সার্চ ফিচার আরও সহজ ও কার্যকর করার জন্য নতুন হালনাগাদ এনেছে। গুগল জানিয়েছে, এই আপডেটে সার্চ অপশনগুলোকে আরও সংগঠিত করা হয়েছে, কাজ না করা ফিচারগুলো সরানো হয়েছে এবং ব্যবহারকারীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ বিবেচনা করা হয়েছে।

    নতুন আপডেটের মাধ্যমে ‘টাইপ’ মেনুতে একটি নতুন শর্টস ফিল্টার যোগ করা হয়েছে, যা ব্যবহারকারীদের শর্টস ভিডিও সার্চ থেকে বাদ দিতে সাহায্য করবে। এতে দীর্ঘ ভিডিও খুঁজে পাওয়া আরও সহজ হবে।

    পাশাপাশি ‘সর্ট বাই’ অপশনের নাম পরিবর্তন করে ‘প্রায়োরিটাইজ’ করা হয়েছে এবং ‘ভিউ কাউন্ট’ অপশনটি বাদ দিয়ে নতুন পপুলারিটি ফিল্টার যোগ করা হয়েছে। এই ফিল্টার শুধু ভিউ সংখ্যা নয়, ভিডিও দেখার সময়সহ অন্যান্য সূচক বিবেচনা করে ভিডিওগুলো সাজাবে।

    উপরন্তু, ইউটিউব দুটি পুরনো ফিল্টার সরিয়ে দিয়েছে — ‘আপলোড ডেট: লাস্ট আওয়ার’ এবং ‘সর্ট বাই রেটিং’ — যেগুলো ঠিকমতো কাজ করছিল না। তবে অন্যান্য আপলোড ডেট ফিল্টারের মাধ্যমে সাম্প্রতিক ভিডিও দেখা যাবে এবং নতুন পপুলারিটি ফিল্টারের মাধ্যমে জনপ্রিয় ভিডিও সহজে খুঁজে পাওয়া যাবে।

    এই নতুন সার্চ ফিচারটি বর্তমানে সীমিতসংখ্যক ব্যবহারকারীর জন্য চালু করা হয়েছে এবং ধাপে ধাপে সকল ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে।

    সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

  • ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচনে বড় পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে : প্রধান উপদেষ্টাকে ইইউ ইওএম চিফ

    ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচনে বড় পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে : প্রধান উপদেষ্টাকে ইইউ ইওএম চিফ

    অনলাইন ডেস্ক:    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাংলাদেশে একটি বড় সংখ্যক পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজ ঢাকায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভারস আইজাবস এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

    পরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

    প্রেস সচিব বলেন, বৈঠকে নির্বাচন প্রস্তুতি, সমতা ভিত্তিক মাঠ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড), গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়।

    শফিকুল আলম বলেন, ইভারস আইজাবস বৈঠকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ঐতিহাসিক হিসেবে দেখছে। এ কারণেই তারা বড় আকারের নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন অনেক দেশেই নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠায় না; কিন্তু বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের বড় বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব রয়েছে এবং বাংলাদেশকে তারা ঘনিষ্ঠ বন্ধু দেশ হিসেবে বিবেচনা করে।

    প্রেস সচিব জানান, শেখ হাসিনার প্রায় সাড়ে ১৬ বছরের শাসনামলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন একবারও বাংলাদেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল পাঠায়নি। ইভারস আইজাবস মনে করেন, আগের তিনটি সংসদ নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য হয়নি। তবে এবার নির্বাচনকে ঘিরে সর্বত্র ইতিবাচক মনোভাব ও উৎসাহ দেখা যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

    ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, বৈঠকে আওয়ামী লীগ বা দলটির নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে গণভোট বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই কর্মকর্তা বলেছেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ও কাঙ্ক্ষিত সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে।

    প্রেস সচিব বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়বে। তারা বড় রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি অন্যান্য অংশীজনদের সঙ্গেও কথা বলবে এবং পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবে।

    প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ইউরোপীয় ইউনিয়নকে আশ্বস্ত করেছেন যে আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট হবে অবাধ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে এবং সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের সর্বত্র এখন নির্বাচনের জোয়ার চলছে।

    নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা জানান, দেশের ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বডি-ওর্ন ক্যামেরা থাকবে। এসব ক্যামেরা একটি কেন্দ্রীয় অ্যাপের মাধ্যমে উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও ঢাকা থেকে সরাসরি মনিটর করা যাবে। সব কেন্দ্রেই থাকবে সিসিটিভি ক্যামেরা। দ্রুত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী থাকবে র‌্যাপিড রেসপন্স স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে।

    গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট চাওয়ার বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার আইনগত মতামত নিয়েছে জানিয়ে প্রেস সচিব বলেন, শীর্ষ আইন বিশেষজ্ঞরা লিখিতভাবে জানিয়েছেন—এ বিষয়ে কোনো আইনগত বাধা নেই। তাই সরকার এ বিষয়ে প্রচার ও জনসচেতনতা কার্যক্রম চালাবে।

    প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার শুরু হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষক পাঠানো বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য একটি বড় স্বীকৃতি।

    তবে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া তথ্য ও অপপ্রচারের কথা উল্লেখ করেন অধ্যাপক ইউনূস। তিনি বলেন, পতিত স্বৈরাচারের সমর্থকেরা নির্বাচন বিঘ্নিত করার চেষ্টা করতে পারে। এসব মোকাবিলায় নিরাপত্তা বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

    ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, নারী ও তরুণদের মধ্যে ভোট নিয়ে উচ্চমাত্রার উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। ফলে আসন্ন নির্বাচনে ভালো ভোটার উপস্থিতির আশা করছে সরকার।

    ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।