Category: প্রচ্ছদ

  • মাকে দেখতে এভারকেয়ারে তারেক রহমান

    মাকে দেখতে এভারকেয়ারে তারেক রহমান

    অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর পূর্বাচল ৩০০ ফিট এলাকায় আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেখতে এভারকেয়ারের পৌঁছেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

    বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টা ১৮ মিনিটের দিকে সংবর্ধনাস্থল ত্যাগ করে এভারকেয়ারের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন তিনি। সেখানে তার মা বেগম জিয়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন। সন্ধ্যা ৬টার দিকে তারেক রহমানকে বহন করা গাড়িটি প্রবেশ করে হাসপাতালে।

    খালেদা জিয়াকে দেখতে আগেই রাজধানীর গুলশানের বাসা থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছেছেন তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান। তারা দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে গুলশানের বাসায় পৌঁছান। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি বাসায় এসেছিলেন তারা।

    এর আগে, দুপুর পৌনে চারটার দিকে লালসবুজ রঙে সাজানো একটি বাসে করে সমাবেশস্থলে পৌঁছান তারেক রহমান। বিমানবন্দর থেকে রওনা হওয়ার প্রায় চার ঘণ্টা পর তিনি সংবর্ধনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে বিএনপির বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত আছেন।

    সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, প্রথমেই রাব্বুল আলামিনের প্রতি শুকরিয়া আদায় করছি। মহান রাব্বুল আলামিনের দোয়ায় মাতৃভূমিতে ফিরে এসেছি।

  • ওসমান হাদি হত্যায় মোটরসাইকেলচালকের সহযোগী গ্রেফতার

    ওসমান হাদি হত্যায় মোটরসাইকেলচালকের সহযোগী গ্রেফতার

    অনলাইন ডেস্ক: মোটরসাইকেলচালক আলমগীরের সহযোগী ও আদাবর থানা যুবলীগ কর্মী হিমনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে বিদেশী পিস্তল, গুলি ও বিপুল বিস্ফোরকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর আদাবরের একটি আবাসিক হোটেল থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো: জুয়েল রানা এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    পুলিশ সূত্র জানায়, হাদি হত্যায় জড়িত ফয়সাল ও আলমগীরের সাথে হিমনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। প্রায় দু’ মাস আগে তিনি দুবাই থেকে বাংলাদেশে ফেরেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রথমে আদাবরের রাজ্জাক হোটেল থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আদাবরের ১৭/বি এলাকার মেহেদীর বাসা থেকে পিস্তল, গুলি ও বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করা হয়।

    এডিসি মো: জুয়েল রানা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে আদাবরের একটি আবাসিক হোটেলে হিমন অবস্থান করছে। ওই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হিমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। তাকে আরো জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। গ্রেফতার হিমন হাদি হত্যায় জড়িত মোটরসাইকেলচালক আলমগীরের বন্ধু।

  • ওসমান হাদি হত্যা ফায়ার কার্তুজ-ফায়ার বুলেটের ব্যালিস্টিক পরীক্ষা করার নির্দেশ

    ওসমান হাদি হত্যা ফায়ার কার্তুজ-ফায়ার বুলেটের ব্যালিস্টিক পরীক্ষা করার নির্দেশ

    অনলাইন ডেস্ক:      বুধবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মোহাম্মদ জুনায়েদ এ আদেশ দেন।ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘটনাস্থল হতে আলামত হিসেবে জব্দ করা ফায়ার কার্তুজ ও ফায়ার বুলেট সদৃশ বস্তুর ব্যালিস্টিক পরীক্ষা করে বিস্তারিত মতামত প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত।বুধবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মোহাম্মদ জুনায়েদ এ আদেশ দেন।

    আবেদনে বলা হয়েছে, মামলার ভিকটিম শরিফ ওসমান হাদি ওরফে ওসমান গণি (৩৩) গত ১২ ডিসেম্বর বেলা দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটের দিকে পল্টন থানাধীন বিজয়নগর বক্স কালভার্ট রোড সংলগ্ন ডিআর টাওয়ারের সামনে দুষ্কৃতিকারীদের দ্বারা গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও পরবর্তী সময়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার অবস্থা সঙ্কটাপন্ন হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্স যোগে গত ১৫ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে নিয়ে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। লাশ বাংলাদেশ বিমান যোগে দেশে এনে ২০ ডিসেম্বর সকালে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। উক্ত মমলায় ঘটনাস্থল হতে ফায়ার কার্তুজ ও ফায়ার বুলেট সদৃশ বস্তু আলামত জব্দ করা হয়। মামলাটির সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আলামতসমূহ ব্যালিস্টিক পরীক্ষা করে বিস্তারিত মতামত প্রদান করার জন্য সিআইডির ব্যালিস্টিক শাখার বিশেষ পুলিশ সুপারকে নির্দেশ প্রদান করা একান্ত প্রয়োজন।

    উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে পল্টন থানাধীন বক্স কালভার্ট রোডে ওসমান হাদির ওপর দুষ্কৃতিকারীরা গুলি করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ১২০(বি)/৩২৬/৩০৭/১০৯/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। এরপর গত ২০ ডিসেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা (হত্যা) সংযোজনের আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ।

    মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে মতিঝিল মসজিদ থেকে জুমার নামাজের পর প্রচারণা শেষ করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাওয়ার পথে পল্টন থানাধীন বক্স কালভার্ট রোডের পাকা রাস্তার ওপর শরিফ ওসমান হাদির পেছন থেকে অনুসরণ করে আসা মোটরসাইকেলে থাকা আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ রাহুল দাউদ ও তার সহযোগী অজ্ঞাত পরিচয় আসামি ওসমান হাদিকে চলন্ত অবস্থায় হত্যার উদ্দেশে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি করে পালিয়ে যায়। আহত শরিফ ওসমান হাদিকে চিকিৎসার জন্য প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও পরবর্তী সময়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে সিঙ্গাপুর নিয়ে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তী সময়ে গত ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে চিকিৎসারত অবস্থায় তিনি মারা যান।

  • জামায়াতের সঙ্গী হচ্ছে এনসিপি!

    জামায়াতের সঙ্গী হচ্ছে এনসিপি!

    অনলাইন ডেস্ক:     জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী জোট ও আসন সমঝোতায় যাচ্ছে বলে দাবি উঠেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আবদুল কাদেরের ফেসবুক পোস্টের পর এই দাবি ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও বিতর্ক।

    বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকালে দেওয়া ফেসবুক পোস্টে আবদুল কাদের লেখেন, সবকিছু ঠিক থাকলে শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) এনসিপি ও জামায়াতের জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। তাঁর ভাষায়, “তারুণ্যের রাজনীতির কবর রচিত হতে যাচ্ছে। এনসিপি অবশেষে জামায়াতের সাথেই সরাসরি জোট বাঁধতেছে।”

    এই বক্তব্যের পর এনসিপির অবস্থান জানতে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেনসহ শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কেউ সাড়া দেননি। প্রথম দিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

    আবদুল কাদের দাবি করেন, জামায়াতের কাছে এনসিপি শুরুতে ৫০টি আসন চেয়েছিল। দর কষাকষির পর সেই সংখ্যা ৩০ আসনে নেমে এসেছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, এই সমঝোতার শর্তে এনসিপি বাকি ২৭০ আসনে কোনো প্রার্থী দেবে না এবং সেসব আসনে জামায়াতকে সমর্থন করবে। তিনি আরও লেখেন, “এর মধ্য দিয়ে কার্যত এনসিপি জামায়াতের গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।”

    এনসিপির সঙ্গে আবদুল কাদের আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত না হলেও জুলাই অভ্যুত্থানের সময় তাঁর সহযোদ্ধারাই দলটি গড়ে তোলেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে তাঁর মতোই সমন্বয়ক ছিলেন এনসিপির বর্তমান শীর্ষ নেতারা। গত সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে তিনি এনসিপি সমর্থিত প্যানেল থেকে ভিপি পদে প্রার্থীও হয়েছিলেন।

    এদিকে জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতার আলোচনা চলছে বলে স্বীকার করেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, “এনসিপির সঙ্গে আসন সমঝোতার আলোচনা চলছে।” তবে এখনো কিছু চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও রাজনৈতিক পরিষদ সদস্য আরিফুল ইসলাম আদীব।

    রাজনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, মনোনয়নপত্র জমার সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন দলের মধ্যে আসন বণ্টন নিয়ে দৌড়ঝাঁপ বেড়েছে। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের বাসায় যান। আনুষ্ঠানিকভাবে অসুস্থতা জানতে যাওয়ার কথা বলা হলেও দুই দলের সূত্রে জানা গেছে, আসন সমঝোতার বিষয়টিও আলোচনায় আসে।

    আবদুল কাদেরের দাবি অনুযায়ী, সমঝোতার আওতায় ৩০ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন জামায়াতের পক্ষে আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এবং এনসিপির পক্ষে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। তিনি আরও দাবি করেন, নির্বাচনে জিতলে নাহিদ ইসলাম প্রধানমন্ত্রী হবেন, আর জিততে না পারলে বিরোধী দলীয় নেতা হবেন, এমন আলোচনাও নাকি রয়েছে।

    আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা হয়েছে। এনসিপি শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে ইতোমধ্যে শতাধিক আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। তারা এবি পার্টি ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনকে নিয়ে গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট গঠন করলেও আরও দলের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে দলটি।

    এনসিপি ও জামায়াতের সম্ভাব্য এই জোটের খবর সামনে আসতেই তরুণ রাজনীতিক ও আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত অনেকের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত রাজনৈতিক অঙ্গনে জল্পনা অব্যাহত রয়েছে।

  • ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’ জানালেন তারেক রহমান

    ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’ জানালেন তারেক রহমান

    অনলাইন ডেস্ক:      দীর্ঘ ১৭ বছর প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরে তরুণ প্রজন্মের কাঁধেই আগামীর বাংলাদেশের দায়িত্ব তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, নানা আধিপত্যবাদী শক্তি ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকলেও ধৈর্য ও শান্তি বজায় রেখে গণতান্ত্রিক ও শক্ত অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দেশ গড়তে হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে তাঁর রয়েছে একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা, যার নাম তিনি দিয়েছেন ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’।

    রাজধানীর ৩০০ ফিট সড়কে দলের পক্ষ থেকে আয়োজিত গণসংবর্ধনায় বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেলে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, “বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের সদস্যরাই আগামী দিনে দেশকে নেতৃত্ব দেবে। এই দায়িত্ব আজই গ্রহণ করতে হবে, যাতে আমরা শক্ত গণতান্ত্রিক ভিত্তি ও অর্থনৈতিক ভিতের ওপর একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি।”

    বক্তব্যের শুরুতে প্রিয় মাতৃভূমিতে ফেরার জন্য স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, জনগণের দোয়া ও আল্লাহর রহমতেই তিনি দেশে ফিরতে পেরেছেন। তিনি স্মরণ করেন ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহী জনতার বিপ্লব এবং ২০২৪ সালে ছাত্র জনতাসহ সর্বস্তরের মানুষের ভূমিকার কথা। তাঁর ভাষায়, এসব লড়াই প্রমাণ করে দিয়েছে, দেশের মানুষ বারবার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ এখন কথা বলার অধিকার এবং গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেতে চায়। পাহাড় ও সমতল, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সবাইকে নিয়ে একটি নিরাপদ রাষ্ট্র গড়াই তাঁর লক্ষ্য। “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যে স্বপ্ন একজন মা দেখেন,” বলেন তিনি, যেখানে নারী, পুরুষ কিংবা শিশু সবাই নিরাপদে ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদে ফিরতে পারবে।

    মার্টিন লুথার কিংয়ের ঐতিহাসিক উক্তির প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, “তিনি বলেছিলেন ‘আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম’, আর আজ আমি বলছি ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’। এই পরিকল্পনা দেশের মানুষের স্বার্থে, উন্নয়নের জন্য এবং মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য।” তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দলমত নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।

    গণসংবর্ধনার আবহ ছিল আবেগঘন। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে যুক্তরাজ্য থেকে আসা তারেক রহমানকে বহনকারী উড়োজাহাজটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দর থেকে লাল সবুজ রঙের বুলেটপ্রুফ বাসে তিনি পূর্বাচলের সংবর্ধনাস্থলে পৌঁছান। বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে মঞ্চে ওঠার পর চারপাশ গগনবিদারী স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে।

    বক্তৃতার শেষ পর্যায়ে তিনি দেশের শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় সবার প্রতি আহ্বান জানান এবং বলেন, যেকোনো উসকানির মুখে ধীর ও শান্ত থাকতে হবে। তিনি নতুন, স্বৈরাচারমুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়তে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দেন। বক্তব্য শেষে তিনি মা ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চান এবং উপস্থিত জনতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

  • ঢাকা-১৫ আসনে মনোনয়নপত্র নিলেন জামায়াত আমির

    ঢাকা-১৫ আসনে মনোনয়নপত্র নিলেন জামায়াত আমির

    অনলাইন ডেস্ক:     আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ঢাকা-১৫ আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই আসনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) আগারগাঁওয়ে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল এই আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে।

    ঢাকার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও ঢাকা-১৩ এবং ঢাকা-১৫ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এদিন ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াত আমিরের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর থেকে এই আসনে বেশ কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থী মনোনয়নপত্র নিয়েছেন।

    নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ঘোষিত তফসিল অনুসারে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

    ঢাকা-১৫ আসনের পাশাপাশি একই দিনে ঢাকা-১৩ আসনেও মনোনয়নপত্র সংগ্রহে তৎপরতা দেখা গেছে। ওই আসন থেকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক এবং জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) পর্যন্ত ঢাকা-১৩ ও ঢাকা-১৫ আসন মিলিয়ে মোট একুশ জন সম্ভাব্য প্রার্থী মনোনয়নপত্র নিয়েছেন।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শীর্ষ রাজনৈতিক ও ধর্মভিত্তিক দলের নেতাদের সরাসরি নির্বাচনী প্রস্তুতি রাজধানীর এই দুই আসনে ভোটের সমীকরণকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলছে। মনোনয়নপত্র জমার সময় ঘনিয়ে আসায় আগামী দিনগুলোতে প্রার্থীদের প্রচার ও সাংগঠনিক তৎপরতা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।