Category: প্রচ্ছদ

  • টিএফআই সেলে গুম ও নির্যাতন, শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিচার শুরু

    টিএফআই সেলে গুম ও নির্যাতন, শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিচার শুরু

    অনলাইন ডেস্ক:    টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন সেলে গুম ও শারীরিক মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের বেঞ্চে এ আদেশ দেন। একই আদেশে প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য বুধবার (২১ জানুয়ারি) দিন নির্ধারণ করা হয়।

    ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানায়, অভিযোগে র‍্যাবের টিএফআই সেলে আটক রেখে গুম ও নির্যাতনের একাধিক সুনির্দিষ্ট ঘটনার বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের মতে, এসব ঘটনা মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতাভুক্ত। অভিযোগ গঠনের আগে প্রসিকিউশন পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম আদালতে টিএফআই সেলের ভয়াবহ চিত্র উপস্থাপন করেন।

    সকালে মামলার গ্রেপ্তার ১০ সেনা কর্মকর্তাকে ঢাকার সেনানিবাসের বিশেষ কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে প্রিজনভ্যানে করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। হাজিরকৃতদের মধ্যে ছিলেন র‍্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, কর্নেল কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম।

    এ মামলায় শেখ হাসিনাসহ সাতজন আসামি পলাতক রয়েছেন। পলাতক তালিকায় আরও আছেন শেখ হাসিনার সাবেক প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক এম খুরশিদ হোসেন, ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. খায়রুল ইসলাম।

    শুনানিতে আসামিপক্ষ অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন জানালেও ট্রাইব্যুনাল তা খারিজ করেন। রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, “অভিযোগের ভিত্তিতে বিচার শুরু করা ছাড়া ন্যায়বিচারের পথ খোলা থাকে না।” আদালত অভিযোগ গঠন করে মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে পাঠান।

    প্রসিকিউশনের বক্তব্য অনুযায়ী, টিএফআই সেলে দীর্ঘ সময় ধরে নিরপরাধ মানুষকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হতো। ৩ ডিসেম্বর অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষ এসব ঘটনাকে দীর্ঘ সময়ের গুম সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি হিসেবে তুলে ধরে।

  • অবকাঠামো থেকে জ্বালানি, একনেকে অনুমোদন পেল ২২ বড় উন্নয়ন প্রকল্প

    অবকাঠামো থেকে জ্বালানি, একনেকে অনুমোদন পেল ২২ বড় উন্নয়ন প্রকল্প

    অনলাইন ডেস্ক:    দেশজুড়ে অবকাঠামো, পানি ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জ্বালানি খাতে বড় পরিসরের উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি আনতে ৪৬ হাজার ৪১৯ কোটি টাকার ২২টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি, একনেক। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন থেকে শুরু করে জলবায়ু সহনশীলতা, সামাজিক সুরক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রগুলোতে নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

    শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ও একনেকের চেয়ারপারসন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সভা শেষে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় জানায়, অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে নতুন প্রকল্প রয়েছে ১৪টি, সংশোধিত প্রকল্প ৫টি এবং মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে ৩টি প্রকল্পের।

    অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয়ের বড় অংশ আসছে সরকারি তহবিল থেকে। সরকারি অর্থায়ন ধরা হয়েছে ৩০ হাজার ৪৮২ কোটি টাকা। পাশাপাশি প্রকল্প ঋণ হিসেবে পাওয়া যাবে এক হাজার ৬৮৯ কোটি টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে যুক্ত হবে ১৪ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এটি চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সপ্তম এবং অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮তম একনেক সভা।

    এবারের একনেক বৈঠকে যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীনে কর্ণফুলী টানেল থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার জাতীয় মহাসড়কের গাছবাড়িয়া পর্যন্ত সংযোগ সড়ক উন্নয়ন, হিলি স্থলবন্দর থেকে ঘোড়াঘাট পর্যন্ত জাতীয় মহাসড়ক উন্নীতকরণসহ গুরুত্বপূর্ণ কালভার্ট পুনর্নির্মাণ এবং ঢাকা কাঁচপুর থেকে সিলেট তামাবিল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের সংশোধিত প্রকল্প অনুমোদন পায়। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও পর্যটন রুটে যান চলাচল সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    নগর উন্নয়ন ও নাগরিক সুবিধা বাড়াতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আওতায় একাধিক প্রকল্পে সম্মতি দিয়েছে একনেক। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা ওয়াসা প্রশিক্ষণ ও গবেষণা একাডেমি স্থাপন, সিলেট সিটি করপোরেশনের জলাবদ্ধতা নিরসন ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ প্রকল্প এবং জলবায়ু সহনশীল জীবনমান উন্নয়ন উদ্যোগ। পাশাপাশি পটুয়াখালী ও সিলেট বিভাগের গ্রামীণ ও স্থানীয় সড়ক উন্নয়নের প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে।

    জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের জ্বালানি পরিশোধন সক্ষমতা বাড়বে এবং আমদানিনির্ভরতা কমাতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

    শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতেও এসেছে নতুন বিনিয়োগ। হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড নার্সিং এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের শিক্ষা ও গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে দুস্থ শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র পুনর্নির্মাণ প্রকল্পও রয়েছে তালিকায়।

    পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় চারটি বড় প্রকল্প অনুমোদনের মাধ্যমে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্ণফুলী নদী ও এর সংযুক্ত নদীগুলোর টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা, গঙ্গা কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ এবং সুরমা কুশিয়ারা অববাহিকা উন্নয়ন প্রকল্প এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য।

    একনেক সভায় আরও জানানো হয়, পরিকল্পনা উপদেষ্টার নিজস্ব ক্ষমতাবলে এরই মধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের ১০টি প্রকল্প সম্পর্কে সভাকে অবহিত করা হয়েছে। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়ন, দারিদ্র্য দূরীকরণ, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ও চরাঞ্চলের অভিযোজন উদ্যোগ এবং অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৩ এর সংশোধিত প্রকল্প।

    সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের সার্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আসবে এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে।

  • এনসিপির ছয় নেতাসহ ২০ জন পেলেন গানম্যান

    এনসিপির ছয় নেতাসহ ২০ জন পেলেন গানম্যান

    অনলাইন ডেস্ক:     চব্বিশের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের পর উদ্ভূত নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় ঝুঁকিতে থাকা ২০ জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে গানম্যান দিয়েছে সরকার। তালিকায় জাতীয় নাগরিক পার্টির এনসিপির ছয় নেতা, দুই শীর্ষ দৈনিকের সম্পাদকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা রয়েছেন। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, গোয়েন্দা মূল্যায়ন ও ব্যক্তিগত আবেদনের ভিত্তিতেই এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কমিটির বৈঠক শেষে সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, দেশে সামগ্রিকভাবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে যাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি চিহ্নিত হয়েছে, তাদের নিরাপত্তা জোরদারে গানম্যান দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, অনেককে গানম্যান দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও কেউ কেউ তা নিতে রাজি হননি।

    পুলিশ ও মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গানম্যান পাওয়া এনসিপি নেতাদের মধ্যে রয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা। গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর ও সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খাঁনকেও নিরাপত্তার আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের সম্পাদকদের জন্যও গানম্যান ও বাসভবনে বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

    স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, ডিজিএফআই, এনএসআই ও এসবিসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের তালিকা করা হয়েছে। “যারা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন, তাদের একজন অস্ত্রধারী রক্ষী দেওয়া হয়েছে। তুলনামূলক কম ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের চলাফেরা ও নিরাপত্তা বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে,” বলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম।

    এদিকে একাধিক রাজনীতিক ও সংসদ-সদস্য প্রার্থী গানম্যান ও ব্যক্তিগত অস্ত্রের লাইসেন্স চেয়ে আবেদন করেছেন। তাদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের জন্য সার্বক্ষণিক গানম্যান ও বাসভবনের নিরাপত্তায় সশস্ত্র পুলিশ সদস্য চাওয়া হয়েছে। একই ধরনের আবেদন রয়েছে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব ইউনুস আহম্মেদ সেখের পক্ষ থেকেও।

    ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের পর নিরাপত্তা জোরদারের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, এ ঘটনায় সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। যৌথ বাহিনীর অভিযানে ইতোমধ্যে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগজিন, ৪১ রাউন্ড গোলাবারুদ ও একটি খেলনা পিস্তল। মূল হোতা ফয়সাল করিম মাসুদকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

    পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, গানম্যান দেওয়ার ক্ষেত্রেও বাস্তব জটিলতা রয়েছে। অনেক আবেদনকারী শিক্ষার্থী কিংবা গণপরিবহনে চলাচল করেন, ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়ে। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

  • দেশে ফিরে ২৭ ডিসেম্বর ভোটার হচ্ছেন তারেক রহমান

    দেশে ফিরে ২৭ ডিসেম্বর ভোটার হচ্ছেন তারেক রহমান

    অনলাইন ডেস্ক:     দীর্ঘদিন পর দেশে ফিরে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে যাচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, আগামী শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তিনি ভোটার হবেন।

    রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার রহমানেল মাছউদ এবং ইসির সিনিয়র সচিবও উপস্থিত ছিলেন।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তারেক রহমান আগামী বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) লন্ডন থেকে দেশে ফিরবেন। পরদিন শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) থাকায় নির্বাচন কমিশনের নিয়মিত কার্যক্রম সীমিত থাকবে। সে কারণে শনিবার (২৭ ডিসেম্বর), যখন নির্বাচনকালীন সময়ে ইসির সব অফিস খোলা থাকে, সেদিনই ভোটার তালিকাভুক্তির সব কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

    তিনি আরও বলেন, তফসিল ঘোষণার পর ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। সে বিষয়টি নিয়েই সিইসির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং কমিশন বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখছে।

    বৈঠকে শুধু তারেক রহমানের ভোটার হওয়া নয়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়নপত্রের শর্ত নিয়েও আলোচনা হয়। সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, মনোনয়নপত্র জমাদানের সময় মামলা সংক্রান্ত তথ্য ও জামিনের সার্টিফায়েড কপি দাখিলের বিষয়টি সহজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “অনেক ক্ষেত্রে কে কোথায় কত মামলার আসামি, তা প্রার্থীর পক্ষেও জানা কঠিন। এ বিষয়ে বাস্তবসম্মত সমাধান দরকার।”

    আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন পরিবেশ সুষ্ঠু রাখার দায়িত্ব সরকারের। নির্বাচন কমিশন যেভাবে নির্দেশনা দেবে, সেভাবেই সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে। “আমরা চাই জনগণ উৎসবমুখর পরিবেশে স্বাধীন ও নির্ভয়ে ভোট দিতে পারুক,” বলেন তিনি।

    দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর তারেক রহমানের দেশে ফেরা এবং ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তিকে আসন্ন নির্বাচনের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা। তাদের মতে, এটি নির্বাচনী মাঠে বিএনপির সক্রিয় উপস্থিতির বার্তাও দিচ্ছে।

  • ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয়কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব

    ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয়কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব

    অনলাইন ডেস্ক:    ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মাকে মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করেছে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।জানা গেছে, ভারতে বাংলাদেশের মিশনগুলোতে নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশর অবস্থান তুলে ধরা হয় এবং নিরাপত্তা জোরদারের কথা বলা হয়।
    দেশটির ডেপুটি হাইকমিশনার পাওয়ান বান্ধেও এসময় উপস্থিত ছিলেন।এর আগে গত ১৪ ডিসেম্বর প্রণয় ভার্মাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছিল। পরে এই তলবের বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলাকারীদের ভারতে পালিয়ে যাওয়া প্রতিরোধে দেশটির সহযোগিতা কামনা করা হয়।
    তারা যদি ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে সক্ষমও হন, তবে তাদের তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার ও বাংলাদেশের কাছে প্রত্যর্পণ নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়। নয়াদিল্লিতে আশ্রয় নেওয়া ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অব্যাহত উসকানিমূলক বক্তব্যে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্বেগের বিষয়টিও প্রণয় ভার্মাকে জানিয়ে দেওয়া হয়।
    এ নিয়ে গত ১০ দিনে প্রণয় ভার্মাকে দ্বিতীয়বার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হলো। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিভিন্ন ঘটনায় এ নিয়ে অন্তত ছয়বার তলব করা হলো প্রতিবেশী দেশটির রাষ্ট্রদূতকে।
  • মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেন আসিফ মাহমুদ

    মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেন আসিফ মাহমুদ

    অনলাইন ডেস্ক:     আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১০ আসনে নির্বাচন করতে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। সোমবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে তিনি ধানমন্ডি থানা নির্বাচন অফিস থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। আসিফ জানান, সরকারে দেড় বছরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চান নির্বাচনি আসনের উন্নয়নে।

    জুলাই অভ্যুত্থানের নায়কদের টার্গেট করা হচ্ছে এমন তথ্য আছে জানিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, নিরাপত্তা ঘাটতির কারণে প্রাচারণা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ধানমন্ডি ১০ আসনে এরই মধ্যে পোস্টার ও নির্বাচনি বুথ বসিয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনকে আহ্বান জানান আসিফ।গত ১০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করে  অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে থাকা দুই ছাত্র প্রতিনিধি আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলম পদত্যাগ করেন।

    এদিকে ঢাকা-১০ আসনে (ধানমন্ডি, কলাবাগান, নিউমার্কেট ও হাজারীবাগ) বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ রবিউল আলম। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এখন পর্যন্ত এই আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেনি। অন্যদিকে, এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জসীম উদ্দিন সরকার। তিনি জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য।