Category: প্রচ্ছদ

  • তিন বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে সিইসির বৈঠক

    তিন বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে সিইসির বৈঠক

    অনলাইন ডেস্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এন নাসির উদ্দিন। নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা প্রস্তুতি, বাহিনীগুলোর সমন্বয় এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়টি এই বৈঠকের মূল আলোচ্য।

    রোববার (২১ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে নির্বাচন ভবনে পৌঁছান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান। পরে তারা সিইসির সঙ্গে বৈঠকে বসেন।

    নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, বৈঠকে দেশের বর্তমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ভোটের আগে ও পরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা হয়। নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে যাতে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরি না হয়, সে বিষয়ে বাহিনীগুলোর প্রস্তুতি ও দায়িত্ব বণ্টন নিয়েও মতবিনিময় করা হয়।

    এই বৈঠকের ধারাবাহিকতায় রোববার দুপুর আড়াইটায় নির্বাচন ভবনেই আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত একটি উচ্চ পর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সভাপতিত্বে ওই সভায় চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিব উপস্থিত থাকবেন। পাশাপাশি সেনা, নৌ, বিমানবাহিনী ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এতে অংশ নেবেন।

    ইসি সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে ভোটের আগে ও পরে মোট পাঁচ দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে মোতায়েন রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ভোটের আগে ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ভোটের পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবে বাহিনীগুলো।

    এর আগে তফশিল ঘোষণার আগে দুই দফা এবং তফসিল ঘোষণার পর বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচন কমিশন। এসব বৈঠকের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত একটি বিশেষ পরিপত্রও জারি করা হয়। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

  • বিদ্রোহী কবির পাশে চিরনিদ্রায় আপসহীন বিপ্লবী হাদি

    বিদ্রোহী কবির পাশে চিরনিদ্রায় আপসহীন বিপ্লবী হাদি

    অনলাইন ডেস্ক: লাখো মানুষের অশ্রুসিক্ত ভালোবাসায় শেষ বিদায় নিলেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশেই তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন কবি নজরুলের সমাধি প্রাঙ্গণে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

    এর আগে একই দিন দুপুর আড়াইটার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণে হাদির নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তার বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক। জানাজা শেষে বিশেষ নিরাপত্তায় মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিয়ে আসা হয়। জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    হাদির জানাজাকে ঘিরে সকাল থেকেই মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও আশপাশের এলাকায় মানুষের ঢল নামে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাধারণ জনতার জন্য সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রবেশের অনুমতি দেয়। আর্চওয়ে গেট দিয়ে ছাত্র জনতা ও সাধারণ মানুষ সারিবদ্ধভাবে জানাজাস্থলে প্রবেশ করেন। শোক আর শ্রদ্ধায় পুরো এলাকা তখন ভারী হয়ে ওঠে।

    দাফনের আগে জাতীয় কবির সমাধি প্রাঙ্গণে শোকসভায় বক্তব্য রাখেন বিশিষ্টজনেরা। আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, “আজ আমি সাধারণ মানুষের সঙ্গে হাদির জানাজা পড়েছি। আল্লাহ হাদিকে শাহাদাতের জজবা হিসেবে কবুল করেছেন।” তিনি বলেন, “ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আল্লাহ তাকে তৃতীয় শহীদ হিসেবে কবুল করেছেন।”

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান বলেন, “শহীদ শরিফ ওসমান হাদি ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছেন। দেশের জন্য তার যে ত্যাগ, আল্লাহ তা কবুল করুন।” তিনি আরও বলেন, “তার পরিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্প্রসারিত পরিবারের অংশ। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের পাশে তাকে কবরস্থ করে বিশ্ববিদ্যালয় তার সন্তানকে বুকে নিয়েছে।”

    এর আগে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বেলা পৌনে ১১টার দিকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে হাদির মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। সেখান থেকে মরদেহ জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। গোসল শেষে দুপুর ২টার দিকে মরদেহ নেওয়া হয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়।

    ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর)। সেদিন রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগের সময় চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে গুলিবিদ্ধ হন ওসমান হাদি। মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের পর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

    পরদিন শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৩ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে। সন্ধ্যা ৫টা ৪৮ মিনিটে ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

  • মানিক মিয়ায় জনসমুদ্র, শহীদ হাদির জানাজায় লাখো মানুষের উপস্থিতি

    মানিক মিয়ায় জনসমুদ্র, শহীদ হাদির জানাজায় লাখো মানুষের উপস্থিতি

    অনলাইন ডেস্ক: শহীদ শরিফ ওসমান হাদির শেষ বিদায়কে ঘিরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় নেমেছে মানুষের ঢল। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত এই নেতার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায়। জানাজার নামাজ পড়াবেন তার বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক।

    ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে গোসল করানো হয়। সেখান থেকে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুর সোয়া ১টার দিকে জানাজার উদ্দেশে মরদেহ নেওয়া হয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়। জানাজার সময় যত ঘনিয়ে আসছে, মানুষের উপস্থিতিও তত বাড়ছে। খামারবাড়ি থেকে আসাদ গেট পর্যন্ত পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে।

    শনিবার সকাল থেকেই জানাজায় অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ জড়ো হতে শুরু করেন। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাধারণ জনতার জন্য দক্ষিণ প্লাজায় প্রবেশের অনুমতি দেয়। ভিড় সামাল দিতে চীন থেকে আনা আটটি আর্চওয়ে গেট বসানো হয়। পুরো এলাকায় নেয়া হয় কড়াকড়ি নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

    ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের চিকিৎসক ও ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্সের সদস্য সচিব ডা. মো. আব্দুল আহাদ বলেন, “শহীদ ওসমান হাদির জানাজার নামাজ তার বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক পড়াবেন। জানাজা শেষে তাকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশেই দাফন করা হবে।”

    জানাজায় অংশ নিতে আসা মানুষের আবেগ ছুঁয়ে যাচ্ছে আশপাশের পরিবেশকেও। ধানমন্ডি থেকে আসা এনামুর রহমান বলেন, তিনি জীবনে এত মানুষের জমায়েত দেখেননি। আবার যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী এসএম নজরুল ইসলাম বলেন, “হাদির মতো মানুষ হাজার বছরে একবার জন্ম নেয়। এমন একজন মানুষের জন্য কয়েক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকা সৌভাগ্যের।”

    এর আগে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বেলা পৌনে ১১টার দিকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে হাদির মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ভোর থেকেই তাকে শেষবারের মতো দেখতে হাসপাতালে ভিড় করেন অসংখ্য মানুষ।

    ঘটনার পেছনের প্রেক্ষাপটে জানা যায়, শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগের সময় চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে গুলিবিদ্ধ হন ওসমান হাদি। মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের পর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

    শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৩ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে। সন্ধ্যা ৫টা ৪৮ মিনিটে ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

    ওসমান হাদির মৃত্যুতে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দেশে এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হচ্ছে। এ উপলক্ষে সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারি ও বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।

  • জানাজায় অংশ নিতে লন্ডন থেকে ঢাকায় জামায়াত আমির

    জানাজায় অংশ নিতে লন্ডন থেকে ঢাকায় জামায়াত আমির

    অনলাইন ডেস্ক: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির জানাজায় অংশ নিতে লন্ডন সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

    ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শনিবার সকালে তিনি পৌঁছান।

    এরপর সেখানে থেকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমাগারে রাখা শহীদ হাদির মরদেহ দেখতে যান।

    এ বিষয়ে জামায়াতের অফিসিয়াল ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, সকালে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান লন্ডন সফর সংক্ষিপ্ত করে ঢাকায় ফিরেছেন। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমাগারে রাখা শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মরদেহ দেখতে যান।

    এ সময় ডা. শফিকুর রহমান শহীদ ওসমান হাদির বড় দুই ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সান্ত্বনা দেন। পরে সবাইকে নিয়ে মাগফিরাত কামনা এবং দোয়া করেন জামায়াত আমির।

    তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো. মোবারক হোসাইন এবং ঢাকা-১৭ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত এমপি পদপ্রার্থী ডা. এস এম খালিদুজ্জামানসহ আরও অনেকে।

    এদিকে, দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শহীদ ওসমান হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

  • ওসমান হাদির মৃত্যুতে পালিত হচ্ছে এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক

    ওসমান হাদির মৃত্যুতে পালিত হচ্ছে এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক

    অনলাইন ডেস্ক: জুলাই গণআন্দোলনের পরিচিত মুখ ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে দেশে এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হচ্ছে। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সরকারি থেকে বেসরকারি সব ভবন এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। শোকের আবহে একই দিনে রাজধানীতে তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

    রাষ্ট্রীয় শোক পালনের সিদ্ধান্ত আসে বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে। সেদিন জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ওসমান হাদির মৃত্যুতে শনিবার রাষ্ট্রীয় শোক পালনের ঘোষণা দেন। এরপর একই রাতে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখভাগের এই যোদ্ধার মৃত্যুতে সরকার গভীরভাবে শোকাহত।

    রাষ্ট্রীয় শোকের অংশ হিসেবে শনিবার দেশের সব সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন হলেও সচিবালয়ের নতুন নির্মিত এক নম্বর ভবনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে পতাকা অর্ধনমিত দেখা গেছে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতেও একই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

    ওসমান হাদির আত্মার মাগফিরাত কামনায় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) দেশের মসজিদগুলোতে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়েও তার আত্মার শান্তির জন্য বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।

    চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে মারা যান শরীফ ওসমান হাদি। এর আগে শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে দুর্বৃত্তদের গুলিতে তিনি মাথায় গুরুতর আহত হন। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়েছিল।

    শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় তার মরদেহ দেশে আনা হয়। মরদেহ রাখা হয়েছে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমঘরে। পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী, শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ওসমান হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নেওয়া হবে এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে তাকে দাফন করা হবে।

  • এনসিপি নেত্রী জান্নাত আরা রুমীর  মৃত্যুর নেপথ্যে কারণ কী?

    এনসিপি নেত্রী জান্নাত আরা রুমীর মৃত্যুর নেপথ্যে কারণ কী?

    অনলাইন ডেস্ক:   রাজধানীর হাজারীবাগ থানাধীন একটি ছাত্রী হোস্টেল থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী জান্নাত আরা রুমীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সকালে জিগাতলা পুরাতন কাঁচাবাজার রোড এলাকায় অবস্থিত জান্নাতী ছাত্রী হোস্টেলের পঞ্চম তলা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জান্নাত আরা রুমী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা মহানগর দক্ষিণ (ধানমন্ডি থানা) সমন্বয় কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী ছিলেন।

    ‎হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, ঝিগাতলা পুরান কাঁচা বাজার এর পাশে একটি ছাত্রী হোস্টেল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    জানা গেছে, শেখ হাসিনার ফাঁসির রায়ের দিন দুপুরে ধানমন্ডিতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে এক নারীকে মারধরের ঘটনায় রুমীর নাম আলোচনায় আসে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ির সামনে ‘জয় বাংলা’ বলে স্লোগান দেওয়ায় ওই নারীকে মারধর করা হয়। পরে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

    এ ঘটনার পর থেকেই জান্নাত আরা রুমী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি ও ধমকির শিকার হচ্ছিলেন বলে দাবি করেছেন এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব তারেক রেজা। ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘কিভাবে লিখবো বুঝতেছি না। আমার হাত কাঁপতেছে। আপনাদের মনে থাকার কথা, গত মাসে শেখ হাসিনার ফাঁসির রায়ের দিন ধানমন্ডি ৩২-এ ফ্যাসিস্ট ও খুনি আওয়ামীলীগাররা কী সিন ক্রিয়েট করেছিলো। সেখানে একজন জেন-জি নারীকে আপনারা দেখেছিলেন এক আওয়ামীলীগারকে (যে জিয়ার কবর খুড়তে চাইছিলো) পিটায়ে পুলিশের কাছে ধরায়ে দিতে।’

    স্ট্যাটাসে তিনি আরও লেখেন, ‘সেই জেন-জি নারী গত এক মাস ধরে আওয়ামীলীগের ক্রমাগত সাইবার বুলিং, হ/ত্যা ও রেপ থ্রেটে অতিষ্ঠ হয়ে আজ রাতে আত্মহত্যা করেছে। ধানমন্ডির ভাইব্রাদারদের সাথে কথা হলো। তারা গত এক মাসে সাধ্যমতো চেষ্টা করেছে তার পাশে থাকার। কিন্তু সাইবার বুলিং আর ফোনকলে সারাদিন থ্রেট পাওয়ার পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সাহায্য পাওয়া যায়নি। তবে কারোর কল্পনাতেও ছিলো না, বুলিংয়ের মাত্রা এত তীব্র যে সে আত্মহননের পথ বেছে নেবে।’

    তারেক রেজা আরও লেখেন, ‘এটাকে আমরা আত্মহত্যা হিসেবে দেখতে রাজি নই। এটা খুন। যারা আমার বোনের জীবনকে তছনছ করে দিয়েছে, তাদের জীবন আমরা শান্তিতে কাটাতে দেবো না। আমার বোনের রক্তের শপথ!’এদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা বলেই ধারণা করা হচ্ছে। রুমি পারিবারিকভাবে মানসিক চাপে ছিলেন বলেও প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে পুলিশ।হাজারীবাগ থানার উপপরিদর্শক এসআই কামরুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জান্নাত আরা রুমিকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়।

    তিনি জানান, সকালে হোস্টেলের কাজের বুয়া রুমের দরজায় ধাক্কা দিলে দরজা খুলে যায়। ভেতরে ঢুকে তাকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখা যায়। পরে হোস্টেল কর্তৃপক্ষ থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

    এসআই কামরুজ্জামান আরও বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত নারী জীবনে দুইবার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। প্রথম স্বামীর ঘরে তার একটি মেয়ে এবং দ্বিতীয় স্বামীর ঘরে একটি ছেলে রয়েছে। বর্তমানে তিনি কোনো স্বামীর সঙ্গে বসবাস করছিলেন না। তার সন্তানরা নওগাঁয়ে থাকলেও তিনি ঢাকায় একাই হোস্টেলে বসবাস করতেন।ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম চালাচ্ছে।

    নিহত জান্নাত আরা রুমি নওগাঁ জেলার পত্নীতলা থানার নাজিরপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার বাসিন্দা। তার পিতা মো.জাকির হোসেন ও মাতা নুরজাহান বেগম।নিহতের সাবেক স্বামী মো. বিপ্লব সরকার জানান, তার সঙ্গে চার–পাঁচ মাস আগে জান্নাত আরা রুমির ডিভোর্স হয়। এর আগে তার আরেকজন স্বামী ছিলেন এবং সেখানেও ডিভোর্স হয়েছিল।

    তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে বিয়ের পর আমরা নওগাঁর নজিপুর এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে থাকতাম। তার প্রথম স্বামীর ঘরে আট বছরের একটি মেয়ে রয়েছে, নাম মুনতাহা। আর আমার সঙ্গে সংসারে তার সাড়ে তিন বছরের একটি ছেলে রয়েছে, নাম আয়মান। একদিন সে আমাকে বলে—তুমি ঘর থেকে বের হয়ে যাও, তোমাকে আমার দরকার নেই। এরপর গত তিন–চার মাস ধরে তার সঙ্গে আমার কোনো যোগাযোগ ছিল না।’

    তিনি আরও জানান, জান্নাত আরা রুমি আগে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নার্স হিসেবে চাকরি করতেন। পরে ৫ আগস্টের আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন এবং পরবর্তীতে এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন।

    বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে পুলিশ ফোন করে তাকে আত্মহত্যার খবর জানায় বলে তিনি দাবি করেন।নিহতের খালাতো ভাই সোয়েইব হোসেন জানান, জান্নাত আরা রুমি ঢাকায় ওই ছাত্রী হোস্টেলে একাই থাকতেন। তার দুইটি সন্তান রয়েছে—একটি ছেলে ও একটি মেয়ে। তারা দু’জনই নওগাঁয়ের গ্রামের বাড়িতে বসবাস করে। তিনি বলেন, ‘ঢাকায় সে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নার্স হিসেবে চাকরি করত। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়। পরে এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়।’