Category: প্রচ্ছদ

  • নাশকতা মামলায় মির্জা আব্বাসসহ বিএনপির ৪৫ নেতাকে অব্যাহতি

    নাশকতা মামলায় মির্জা আব্বাসসহ বিএনপির ৪৫ নেতাকে অব্যাহতি

    অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর পল্টন ও শাহজাহানপুর থানায় নাশকতার দুই মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনে দলটির মনোনীত প্রার্থী মির্জা আব্বাস ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমানসহ ৪৫ জনকে অব্যাহতির আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালত এই আদেশ দেন।

    মির্জা আব্বাসের আইনজীবী আবু বকর সিদ্দিক ও মহিউদ্দিন চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেন। আইনজীবীরা বলেন, আজ পৃথক দুই থানার মামলায় চার্জগঠন শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিলো। আমরা তাদের অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করি। শুনানি শেষে আদালত এই আবেদন মঞ্জুর করেছেন।

    অব্যাহতি প্রাপ্ত উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও ঢাকা-১২ আসনের বিএনপি প্রার্থী সাইফুল আলম নিরব, বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার এনামুল হক এনাম, ঢাকা-১৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সফু, বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ঢাকা – ৯ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সেক্রেটারি হাবিবুর রশিদ হাবিব প্রমুখ।

    পল্টন থানার মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও তার অঙ্গ সংগঠনের ১ হাজার থেকে ১২শ নেতাকর্মী বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে শান্তিনগরের দিকে ২০১৩ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি অগ্রসর হয়। বিকাল ৫ টার সময় শান্তিনগর ক্রসিংয়ে এসে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, যানবাহন ভাঙচুর করতে থাকে। পুলিশ ছত্রভঙ্গ করতে চাইলে তারা আরো উগ্র হয়ে উঠে। পুলিশের কাজে বাঁধা দেয়। পুলিশের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে  পুলিশকে হত্যার উদ্দেশ্য পাঁচটি ককটেল নিক্ষেপ করে। এর ফলে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।

    এ ঘটনায় তৎকালীন সময়ের পল্টন থানার উপপরিদর্শক মেহেদী মাকসুদ বাদী মামলাটি দায়ের করেন।

    একই বছরের ২৬ মার্চ পল্টন থানার উপপরিদর্শক মো. আমিনুল ইসলাম বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। তবে এই মামলায় উচ্চ আদালত থেকে মির্জা ফখরুল ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদকে অব্যাহতি দেন।

    মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, শাহজাহানপুর থানাধীন মালিবাগ এলাকায় বিএনপির ১৫০ থেকে ২০০ নেতাকর্মী ২০১৩ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি মিছিল করে। বিকাল সাড়ে চারটার সময় উচ্ছৃঙ্খল আচরণ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে পুলিশের কাজে বাধা প্রদান করে। পুলিশ তাদের নিষেধ করলে তারা ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। ফলে ৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। এ ঘটনায় ওই দিনেই শাহজাহানপুর থানা উপপরিদর্শক মো. আশরাফ আলী মামলা মামলা করেন।

    ওই বছরের ২০ মার্চ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহজাহানপুর থানার উপপরিদর্শক মো. রুহুল আমিন মুন্সি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। তবে এই মামলায় উচ্চ আদালত থেকে মির্জা ফখরুল ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ অব্যাহতি পেয়েছেন।

  • হাবিপ্রবিতে  বিজয় দিবস উপলক্ষে ভলিবল টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত খেলা অনুষ্ঠিত

    হাবিপ্রবিতে বিজয় দিবস উপলক্ষে ভলিবল টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত খেলা অনুষ্ঠিত

    শিক্ষা ডেস্ক: জেলায় হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) এ তারুণ্যের উৎসব মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আন্তঃঅনুষদীয় ভলিবল প্রতিযোগিতা চুড়ান্ত খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    হাবিপ্রবি জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক মো. খাদেমুল ইসলাম আজ বুধবার দুপুর আড়াই টায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।তিনি বলেন,আজ দুপুর সাড়ে ১২ টায় হাবিপ্রবি  এর ক্যাম্পাসে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতার চুড়ান্ত খেলায় সমাজ বিজ্ঞান অনুষদকে পরাজিত করে বিজ্ঞান অনুষদ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।

    প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এনামউল্যা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম সিকদার এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর কবির। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

    টুর্নামেন্ট জুড়ে বিজ্ঞান অনুষদের ভলিবল দল ধারাবাহিক সাফল্যের মাধ্যমে ফাইনালে উঠে। ফাইনাল ম্যাচে দলটির খেলোয়াড়দের সমন্বিত আক্রমণ, দৃঢ় রক্ষণ ভাগ ও কৌশলী খেলায় দর্শকরা মুগ্ধ হন। উত্তেজনাপূর্ণ এই ম্যাচে সমাজ বিজ্ঞান অনুষদকে হারিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে বিজ্ঞান অনুষদ।

    বিজয়ী দলের অধিনায়ক নোবেল অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘ভলিবল টিমের ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্বটা সহজ ছিল না। অসংখ্য অনুশীলন, ঘাম আর ধৈর্যের পর আজ সেই পরিশ্রম সার্থক—আমরা চ্যাম্পিয়ন। এই জয় আমার একার নয়, পুরো দলের।’

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হাবিপ্রবি’র ভিসি তার বক্তব্যে মহান বিজয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, ক্রীড়া চর্চা শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও দলগত চেতনা গড়ে তোলে।

    পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। বিজয়ী ও রানার্স-আপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি ও পদক তুলে দেন ভিসিসহ অন্যান্য অতিথিরা।

  • জুলাইযোদ্ধাদের নিরাপত্তা নিজেদেরই নিশ্চিত করতে হবে, সরকারের ওপর ভরসা নয়: নাহিদ ইসলাম

    জুলাইযোদ্ধাদের নিরাপত্তা নিজেদেরই নিশ্চিত করতে হবে, সরকারের ওপর ভরসা নয়: নাহিদ ইসলাম

    অনলাইন ডেস্ক:    সরকার ও পুলিশের ওপর নির্ভর করে জুলাইযোদ্ধাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তাঁর ভাষায়, সামনে যে বাস্তবতা তৈরি হচ্ছে, তাতে নিজেদের নিরাপত্তা নিজেদেরই নিশ্চিত করতে হবে, আর সে জন্য জনগণের মধ্যেই শক্ত সংগঠন গড়ে তোলা জরুরি।

    মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, “৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে যখন কোনো সরকার ছিল না, পুলিশ ছিল না, তখন আমরা নিজেরাই আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিলাম। বাংলাদেশ আবার সেই পরিস্থিতির দিকেই যাচ্ছে।”

    নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর করে জুলাইযোদ্ধাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে না। তাই জনগণকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, সংগঠিত জনগণই পারে এই সংকট মোকাবিলা করতে।

    আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, এই নির্বাচন হবে গণভোটের মতো। সংস্কারের পক্ষে গণজোয়ার তৈরি হবে বলেই তারা প্রত্যাশা করছেন। তিনি জানান, এনসিপির প্রার্থীরা সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোটের বার্তা নিয়ে শাপলা কলি প্রতীকসহ জনগণের দ্বারে দ্বারে যাবেন। “আমরা বাংলাদেশকে সংস্কারের পথে এগিয়ে নেবো। কখনোই আর ৫ আগস্টের আগের জায়গায় ফিরে যাবো না,” বলেন তিনি।

    বিজয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। সেই স্বাধীনতা এসেছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের স্বপ্ন নিয়ে। কিন্তু স্বাধীনতার পরের ৫৪ বছরের ইতিহাসে বারবার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    তিনি বলেন, স্বাধীন ভূখণ্ড পাওয়া গেলেও সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা হয়নি। বরং দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করা হয়েছিল। সেই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধেই ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ও গণবিপ্লব সংগঠিত হয়। “৪৭ থেকে ৭১, ৭১ থেকে ২৪, এই ভূখণ্ডের মানুষের দীর্ঘ লড়াইয়ের উত্তরসূরি আমরা,” বলেন নাহিদ ইসলাম।

    বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এনসিপির এই নেতা বলেন, পতিত ও ফ্যাসিস্ট শক্তি বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে এবং নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তাঁর ভাষায়, “বাংলাদেশের মানুষ এখন স্থিতিশীলতা আর স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা চায়।” তিনি অভিযোগ করেন, ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় এখনো জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি সরকার।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, একাত্তর ও চব্বিশের দালালদের বিরুদ্ধে দেশের তরুণ সমাজ ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি। সামনের বাংলাদেশে আমাদের বিজয় আসবে।” নতুন বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং ভবিষ্যৎমুখী রাজনীতির প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।

  • বিজয় দিবসে তেজগাঁওয়ের আকাশে নজরকাড়া এয়ার শো

    বিজয় দিবসে তেজগাঁওয়ের আকাশে নজরকাড়া এয়ার শো

    অনলাইন ডেস্ক:      মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ঢাকার তেজগাঁওয়ের পুরোনো বিমানবন্দর এলাকায় আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ এয়ার শো। সামরিক উড়োজাহাজ ও হেলিকপ্টারের চোখধাঁধানো কসরতে আকাশ রঙিন হয়ে উঠেছে, আর মাটিতে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

    মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) দুপুরের দিকে শুরু হওয়া এই এয়ার শোতে একসঙ্গে উড়ছে একাধিক উড়োজাহাজ। উড়োজাহাজগুলো আকাশে নানান কসরত দেখানোর সময় বিভিন্ন রঙ ছড়িয়ে দেয়, যা দর্শনার্থীদের মধ্যে বাড়তি উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করে। এ সময় হেলিকপ্টারগুলোতে জাতীয় পতাকা ও সশস্ত্র বাহিনীর পতাকা উড়িয়ে নিতে দেখা যায়।

    এই আয়োজনকে ঘিরে সকাল থেকেই তেজগাঁওয়ের পুরোনো বিমানবন্দরমুখী মানুষের স্রোত দেখা যায়। আগারগাঁও-সংলগ্ন ফটকে সকাল পৌনে ১০টার দিকে দর্শনার্থীদের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। নিরাপত্তা তল্লাশি শেষে একে একে সবাইকে ভেতরে প্রবেশ করানো হয়। এর মধ্যেই শত শত পরিবার, শিশু ও উৎসুক মানুষ বিমানবন্দর এলাকায় ভিড় জমায়।

    দর্শনার্থীদের অনেকের হাতেই ছিল জাতীয় পতাকা। কারও কপালে বাঁধা ছিল লাল-সবুজের ফিতা, কারও পরনে বিজয় দিবস লেখা পোশাক। পরিবার নিয়ে অনেকে লাল-সবুজের সাজে হাজির হন এই বিশেষ প্রদর্শনী উপভোগ করতে।

    সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে এই এয়ার শো সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তার স্বার্থে তেজগাঁও পুরোনো বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় ড্রোন না ওড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    বিজয়ের ৫৪তম বছর উপলক্ষে এয়ার শোতে যুক্ত হয়েছে ব্যতিক্রমী আয়োজন। ৫৪ জন প্যারাট্রুপার বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা নিয়ে প্যারাট্রুপিং করে একটি বিশ্ব রেকর্ড গড়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে শেষ ৬ জন প্যারাট্রুপার পোশাকে নিজেদের নেমপ্লেটের পরিবর্তে সুদানের ইউএন ঘাঁটিতে নিহত ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর নাম সংবলিত নেমপ্লেট পরে শ্রদ্ধা জানাবেন।

    এই প্যারাট্রুপারদের একজন আশিক চৌধুরী। তিনি বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান। আশিক চৌধুরী শরিফ ওসমান বিন হাদির ছবি আঁকা হেলমেট পরে প্যারাট্রুপিংয়ে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

    বিজয় দিবসের এই এয়ার শো শুধু আকাশের প্রদর্শনী নয়, বরং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও দেশের প্রতি গর্বের অনুভূতিকে নতুন করে উজ্জীবিত করেছে দর্শনার্থীদের মনে।

  • সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা

    সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা

    অনলাইন ডেস্ক:      মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আজ (১৬ ডিসেম্বর) জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

    মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় বাংলাদেশ টেলিভিশন, বিটিভি নিউজ ও বাংলাদেশ বেতার ভাষণটি একযোগে সম্প্রচার করবে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    এদিন মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ভোর ৬টা ৫৬ মিনিটে জাতীয় স্মৃতিসৌধে জাতির সূর্য সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে এ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি।

    এ সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত একটি চৌকস দল প্রধান উপদেষ্টাকে রাষ্ট্রীয় অভিবাদন জানায়। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূস মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানাতে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে প্রধান উপদেষ্টা স্মৃতিসৌধে সংরক্ষিত দর্শনার্থী বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

    এ সময় প্রধান বিচারপতি, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাবৃন্দ, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, মুক্তিযোদ্ধা, কূটনীতিকসহ পদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • বিজয় দিবসে মোদি ও রাহুলের পোস্ট, মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে অনুপস্থিত বাংলাদেশের নাম

    বিজয় দিবসে মোদি ও রাহুলের পোস্ট, মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে অনুপস্থিত বাংলাদেশের নাম

    অনলাইন ডেস্ক:       মহান বিজয় দিবসে ভারতের শীর্ষ দুই রাজনৈতিক নেতার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী আলাদা আলাদা বার্তায় ১৯৭১ সালের যুদ্ধকে ভারতের বিজয় হিসেবে উল্লেখ করলেও, কোথাও বাংলাদেশের নাম বা স্বাধীনতার মূল প্রেক্ষাপট উঠে আসেনি।

    ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করে বাংলাদেশ। যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে যোগ দেয় ভারতীয় সেনাবাহিনী। সেই কারণেই ভারতও দিনটিকে নিজেদের ‘বিজয় দিবস’ হিসেবে পালন করে থাকে। তবে ঐতিহাসিকভাবে এই দিনটির মূল বিজয় ছিল বাংলাদেশের, কারণ এই দিনেই জন্ম নেয় স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশ।

    বিজয় দিবস উপলক্ষে ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে নরেন্দ্র মোদি লেখেন, “বিজয় দিবসে আমরা আমাদের সেই সাহসী সেনাদের স্মরণ করছি, যাদের সাহসিকতা ও আত্মত্যাগ ১৯৭১ সালে ভারতের এক ঐতিহাসিক বিজয় নিশ্চিত করেছিল।” তিনি আরও বলেন, তাদের দৃঢ় মনোবল ও নিঃস্বার্থ সেবা ভারতের ইতিহাসে একটি গৌরবময় অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে এবং এই বীরত্ব প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে। পুরো বার্তায় একবারও বাংলাদেশের নাম উল্লেখ করেননি তিনি।

    একই দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও ১৯৭১ সালের যুদ্ধ প্রসঙ্গে কথা বলেন। তিনি লেখেন, “বিজয় দিবসে আমি আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই, যারা ১৯৭১ সালের যুদ্ধে ভারতের সীমান্ত রক্ষার সময় বীরত্ব, নিষ্ঠা ও অটল সংকল্পের মাধ্যমে ইতিহাস গড়েছিলেন।” তাঁর বক্তব্যেও যুদ্ধটি কোথায় বা কার সঙ্গে হয়েছিল, সে বিষয়ে কোনো উল্লেখ ছিল না।

    এর আগে ভারতের সেনাবাহিনীও আলাদা এক পোস্টে বিজয় দিবস পালন করে। সেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ভারতীয় সেনারা লড়াই করেছিল এবং এই যুদ্ধ দক্ষিণ এশিয়ার মানচিত্র বদলে দিয়ে নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশ-এর জন্ম দেয়। তবে রাজনৈতিক নেতৃত্বের সাম্প্রতিক পোস্টগুলোতে সেই প্রেক্ষাপট অনুপস্থিত থাকায় বিষয়টি নতুন করে নজরে এসেছে।

    ইতিহাস অনুযায়ী, পাকিস্তানি বাহিনী ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বাংলাদেশের জনগণের ওপর বর্বর হামলা চালানোর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা করে। দীর্ঘ নয় মাস মুক্তিযোদ্ধারাই মূলত যুদ্ধ পরিচালনা করেন। ভারত ৩ ডিসেম্বর যৌথ বাহিনী হিসেবে যুদ্ধে যুক্ত হয় এবং আত্মসমর্পণের দলিলেও পাকিস্তানি বাহিনী ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ বাহিনীর কাছেই আত্মসমর্পণ করে। এই বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে বিজয় দিবসের পোস্টে বাংলাদেশের নাম না থাকাকে অনেকেই ইতিহাসের অসম্পূর্ণ উপস্থাপন হিসেবে দেখছেন।