Category: প্রচ্ছদ

  • আজই জানানো হবে নির্বাচনসূচি

    আজই জানানো হবে নির্বাচনসূচি

    অনলাইন ডেস্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটের তফসিল ঘোষণা করা হবে বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন জাতির উদ্দেশে ভাষণে এই তফসিল ঘোষণা করবেন, এমনটাই নিশ্চিত করেছে নির্বাচন কমিশন। সূত্র জানিয়েছে, সম্ভাব্য ভোটগ্রহণের তারিখ হিসেবে ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

    বুধবার বিকেলে সিইসির ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারের জন্য রেকর্ড করা হয়। ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, রেকর্ডিংয়ের সময় বিশেষ গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়েছে যাতে তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত কোনো তথ্য ফাঁস না হয়। তিনি বলেন, “সন্ধ্যা ৬টায় ভাষণটি প্রচার করা হবে, সেখানেই সব আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হবে।”

    ইসির ওপর নজর ছিল রাষ্ট্রপতিরও। বুধবার দুপুরে সিইসি নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধি দল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। তাঁরা ভোটার তালিকা হালনাগাদ, নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন, প্রবাসীদের ভোটাধিকার বা ওসিভি, এবং দেশের ভেতরে ডাকযোগে ভোট বা আইসিপিভির প্রস্তুতি নিয়ে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একযোগে অনুষ্ঠিত হওয়ায় দুটি আলাদা ব্যালট পেপার ব্যবহারের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়।

    ইসির এই প্রস্তুতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। আখতার আহমেদ বলেন, “রাষ্ট্রপতি সার্বিক প্রস্তুতি ও সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে যৌক্তিক বলে উল্লেখ করেছেন।” উল্লেখ্য, এবার ভোট গ্রহণ সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চালানোর সিদ্ধান্ত রয়েছে। সারাদেশে ৩০০ আসনের জন্য ৪২ হাজার ৭৬১টি কেন্দ্রে ভোট দেবেন ১২ কোটি ৭৬ লাখ ভোটার। সংসদের ব্যালট পেপার হবে সাদা আর গণভোটের জন্য গোলাপি।

    অন্যদিকে, সংসদীয় আসনের সীমা নিয়ে হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের আদেশে নির্বাচন কমিশনকে নতুন সমন্বয়ের কাজ করতে হচ্ছে। বাগেরহাটের আসনসংখ্যা ফের ৪টিতে উন্নীত করতে এবং গাজীপুরে ৫টি আসন বজায় রাখতে হবে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী নতুন গেজেট প্রকাশ না করলে ৩০০ আসনের পূর্ণ তফসিল ঘোষণা করা যাবে না। যদিও ইসির সিনিয়র সচিব জানান, “এখনও আদালতের রায় হাতে না আসায় আপাতত ৩০০ আসনেই তফসিল ঘোষণা করা হবে।” ইসির সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, গেজেট দ্রুতই প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে।

    তফসিল ঘোষণার পরই নির্বাচন আচরণবিধি পুরোপুরি কার্যকর হবে। পোস্টার-ব্যানার অপসারণ থেকে শুরু করে জনসমাবেশ নিয়ন্ত্রণ পর্যন্ত সবকিছুই পর্যবেক্ষণে রাখবে মাঠ প্রশাসন। প্রতিটি উপজেলা ও থানায় দুজন করে ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন, আর শেষ পাঁচ দিনে বাড়ানো হবে ম্যাজিস্ট্রেটের সংখ্যা। তফসিলের পর কোনো নতুন প্রকল্প অনুমোদন করবে না উপদেষ্টা পরিষদ, আর আরপিও অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের বদলিতে আসবে নিষেধাজ্ঞা।

    অন্তর্বর্তী সরকার সবাইকে আইনশৃঙ্খলা বজায় রেখে আন্দোলনমুক্ত পরিবেশে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। ডিএমপি জানিয়েছে, অনুমোদনহীন জনসমাবেশ বা বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    দেশজুড়ে এখন সব নজর থেমে আছে সন্ধ্যার দিকে, নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণাই বলে দেবে ১২ ফেব্রুয়ারির লড়াই কীভাবে সামনে এগোবে।

  • তারেক রহমান খুব শিগগিরই দেশে ফিরবেন: মির্জা ফখরুল

    তারেক রহমান খুব শিগগিরই দেশে ফিরবেন: মির্জা ফখরুল

    অনলাইন ডেস্ক: দেশ গঠনের নতুন পরিকল্পনা সামনে রেখে রাজধানীর ফার্মগেটে আয়োজিত বিএনপির বৃহৎ সমাবেশে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান খুব শিগগিরই দেশে ফিরবেন। তিনি বলেন, তারেক রহমান যেদিন বাংলাদেশের মাটিতে পা দেবেন, সেদিন যেন পুরো দেশ কেঁপে ওঠে এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপট পাল্টে যায়।

    বিজয়ের মাস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন বিভাগের সহস্রাধিক নেতা অংশ নেন। সমাবেশের শুরু থেকেই উত্তেজনা ও প্রত্যাশায় ভরপুর পরিবেশ তৈরি হয়, বিশেষত যে ঘোষণার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন তারেক রহমান।

    মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির বিরুদ্ধে নানা প্রচারণা চলছে, আরও চলবে। তবু দলকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হবে। তার ভাষায়, বিএনপি কখনও পরাজিত হয়নি, পরাজিত হবেও না। কারণ বিএনপি জনগণের দল, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী দল। তিনি বলেন, দলকে সামনে এগিয়ে নিতে ইস্পাতের মতো ঐক্যই বিএনপিকে শক্তি দেবে।

    অনুষ্ঠানে তিনি উল্লেখ করেন, বৃহস্পতিবারই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং এই নির্বাচন নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টির সুযোগ তৈরি করবে। প্রতিনিধিত্বশীল সংসদ গঠনের সুযোগ এসেছে, আর সেই পরিবর্তনের নেতৃত্বে থাকবেন তারেক রহমান।

    বিএনপির মহাসচিব বলেন, আগামী নির্বাচন আওয়ামী লীগ আমলের নির্বাচন নয়। এই নির্বাচন হতে হবে সত্যিকার অর্থে নিরপেক্ষ। আর সেই নির্বাচনে জিততে হলে জনগণের ভালোবাসা অর্জন করতে হবে। মানুষের মন জয় করে ভোটকেন্দ্রে আনতে হবে। তিনি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, মনোনয়ন কে পেল বা পেল না তা এখন ভাবার সময় নয়, বরং জনগণ বিএনপির কাছ থেকে কী প্রত্যাশা করে, সেটি তাদের সামনে তুলে ধরা জরুরি।

    মির্জা ফখরুল নানা প্রেক্ষাপটে বিএনপির অতীত ভূমিকা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা ও মুক্ত গণমাধ্যম নিশ্চিত করেন। আর খালেদা জিয়ার শাসনামলে নারীর শিক্ষা, যুবকের কর্মসংস্থান, অর্থনীতির আধুনিকায়নসহ বহু সংস্কার করা হয়।

    এ সময় তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, কর্মসংস্থানসহ আটটি বিষয়ে বড় ধরনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এসব পরিকল্পনা তুলে ধরতেই ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত ধারাবাহিক কর্মশালার আয়োজন চলছে।

    তিনি সতর্ক করেন, ধর্মকে ব্যবহার করে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করা এবং নতুনভাবে বিভেদ তৈরি করার চেষ্টা চলছে। এই অপশক্তিকে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং সঞ্চালনা করেন যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। উপস্থিত ছিলেন দলের উপদেষ্টা মাহদী আমিন, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হকসহ আরও অনেকে।

  • সৌদিজুড়ে চলছে প্রবল ঝড়-বৃষ্টি, বন্যার শঙ্কা

    সৌদিজুড়ে চলছে প্রবল ঝড়-বৃষ্টি, বন্যার শঙ্কা

    অনলাইন ডেস্ক:   সৌদি আরবের অধিকাংশ এলাকায় ঝড়ো হাওয়াসহ মাঝারি ও ভারি বর্ষণ শুরু হয়েছে। শিগগিরই যদি আবহওয়া পরিস্থিতির উন্নতি না ঘটে, সেক্ষেত্রে অনেক এলাকায় আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে দেশটির জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর (এনসিএম)।

    গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদির মক্কা, মদিনায়, কাসিম, রিয়াদ, পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ এবং উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এছাড়া মৃদু থেকে মাঝারি বর্ষণ চলছে হাইল, তাবুক, আল জৌফ এবং দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলীয় অঞ্চলে। অনেক অঞ্চলে মাঝারি বর্ষণের সঙ্গে চলছে ব্যাপক কুয়াশা।

    মরু আবহাওয়ার দেশ সৌদিতে ঝড়-বৃষ্টি বেশ বিরল। গত দু’তিন বছরে অবশ্য বেশ কয়েকবার ঝড় ও ভারি বর্ষণ হয়েছে দেশটিতে।

    এনসিএমের তথ্য অনুসারে, সৌদির এমন আবহাওয়া পরিস্থিতির জন্য দায়ী লোহিত সাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপ। এক বিবৃতিতে এনসিএম জানিয়েছে, লোহিত সাগর থেকে সৌদির বিভিন্ন এলাকায় ১৮ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিতে বয়ে যাচ্ছে ঝেড়ো হওয়া। বাতাসের এই গতি ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।

    ঝড়ো আবহাওয়া শুরু হয়েছে পারস্য উপসাগরেও। বর্তমানে সেখান থেকে সৌদির দক্ষিণাঞ্চলে ১০ থেকে ৩৫ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হওয়া বয়ে যাচ্ছে।

  • রাতভর অভিযান, এখনো উদ্ধার হয়নি শিশু সাজিদ

    রাতভর অভিযান, এখনো উদ্ধার হয়নি শিশু সাজিদ

    স্টাফ রির্পোটার:    রাজশাহীর তানোর উপজেলায় শিশু সাজিদকে রাতভর অভিযানেও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুর ২টার দিকে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। এখনো চলছে উদ্ধার অভিযান। সারারাত ফায়ার সার্ভিসের ৫ ইউনিট ৩টি স্কেভেটর দিয়ে সাজিদকে উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে। রাত পেরিয়ে সকাল হলেও তার কোনো হদিস এখনো মেলেনি। ঘটনাস্থলে সাজিদের পরিবার ও এলাকাবাসী অবস্থান করছেন। রাতে ঘটনাস্থলে যান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনে জামায়াত মনোনীত এমপি প্রার্থী অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এবং দলটির রাজশাহী জেলা আমির অধ্যাপক আব্দুল খালেকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। তারা সাজিদকে ফিরে পাওয়ার জন্য সেখানে অশ্রুসিক্ত নয়নে দোয়া ও মোনাজাত করেন।

    এছাড়া আসনটিতে বিএনপি মনোনীত এমপি প্রার্থী মেজর জেনারেল (অবঃ) শরিফ উদ্দীনও সেখানে যান। এ সময় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের সহযোগিতা করছিলেন। ফায়ার সার্ভিসের রাজশাহীর উপ-পরিচালক দিদারুল আলম জানান, তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। অভিযান শেষে ব্রিফিং করে সামগ্রিক বিষয়ে জানানো হবে। এর আগে বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে মায়ের সঙ্গে মাঠে গেছিল দুবছরের শিশু সাজিদ। প্রথমে মায়ের কোলে থাকলেও পরে কোল থেকে নামে এবং হাঁটছিল।

    মা রুনা খাতুন হঠাৎ দেখেন তার শিশু সন্তান গর্তে তলিয়ে গেছে। এ সময় মা মা বলেছিল শেষ চিৎকার দেয় সাজিদ। তার বাবার নাম রাকিব। তিনি ঢাকায় একটি কোম্পানিতে কাজ করতেন। ঘটনার পরই ঢাকা থেকে তিনি রওনা দেন এবং সন্ধ্যা নাগাদ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাদের বাসা তানোর উপজেলার কলমা ইউনিয়নের কোয়েলের হাট এলাকায়।

  • মধ্যরাতে পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে দুই দফা ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল সিলেট অঞ্চল

    মধ্যরাতে পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে দুই দফা ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল সিলেট অঞ্চল

    নিজস্ব প্রতিবিদক:    মধ্যরাতে মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে সিলেট ও আশপাশের এলাকায় দুই দফা মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে প্রথম কম্পনের মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৫, দ্বিতীয়টির ছিল ৩ দশমিক ৩। উভয় ভূমিকম্পই দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে রাতের নীরবতা ভেঙে মুহূর্তের জন্য দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দেয়।

    বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ২টা ৫০ মিনিট ৩১ সেকেন্ডে প্রথম ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, এর উৎপত্তিস্থল ছিল সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলা। ঢাকার আগারগাঁও ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে এর দূরত্ব ছিল ২১৬ কিলোমিটার। ঠিক পাঁচ মিনিট পর রাত ২টা ৫৫ মিনিট ১৪ সেকেন্ডে দ্বিতীয়বার কম্পন হয়, যার মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৩ এবং উৎপত্তিস্থল ছিল মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা।

    ইউরোপীয় ভূমধ্যসাগরীয় ভূমিকম্প কেন্দ্র ও ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি উভয় প্রতিষ্ঠানই কম্পন দুটি নিশ্চিত করেছে। তারা জানায়, দ্বিতীয় কম্পনটির গভীরতা ছিল প্রায় ৩০ কিলোমিটার। এসব কম্পন সিলেটের জকিগঞ্জ থেকে শুরু করে সীমান্তবর্তী এলাকাতেও অনুভূত হয়।

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা বলেন, “দুটি ভূমিকম্পই ছিল স্বল্পমাত্রার, উৎপত্তিস্থলও ছিল সিলেট অঞ্চলেই।” একইভাবে সিলেট আবহাওয়া কার্যালয়ের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজীব হোসেনও বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবাইয়াত কবির জানালেন, এ ধরনের মৃদু মাত্রার ভূমিকম্প সিলেট অঞ্চলে প্রায় প্রতি মাসেই হয়ে থাকে। তিনি বলেন, “এই কম্পনগুলো নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, কারণ এসব এলাকা ভূমিকম্পপ্রবণ এবং স্বল্পমাত্রার কম্পন নিয়মিতই দেখা যায়।”

    গত কয়েক মাসে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বারবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এর মধ্যে ২১ নভেম্বরের ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পটি ছিল সবচেয়ে বড়, যা ঢাকাসহ সারা দেশে আতঙ্ক ছড়ায়। আরও কয়েকটি কম্পনের উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদী, গাজীপুর, শিবপুরের মতো ঢাকার আশপাশের এলাকা। এসব ঘটনায় কোথাও কোথাও ক্ষয়ক্ষতি হলেও সর্বশেষ সিলেট অঞ্চলের মৃদু কম্পনে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

  • সকালে খালি পেটে ফল খেলে কি হয় !

    সকালে খালি পেটে ফল খেলে কি হয় !

    অনলাইন ডেস্ক:    ফল খাওয়ার সঠিক সময় কোনটি, তা নিয়ে নানা মত-দ্বিমত আছেই। কেউ কেউ জোর দিয়ে বলেন যে সকালে প্রথমে ফল খাওয়া সুস্বাস্থ্যের চাবিকাঠি, আবার কেউ কেউ সতর্ক করে দেন যে এই অভ্যাস অ্যাসিডিটি, পেট ফাঁপা বা হজমকে ধীর করে দেয়ার মতো সমস্যা তৈরি করতে পারে।

    এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে আমাদের বেশিরভাগেরই কোন নিয়ম অনুসরণ করা উচিত তা সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই। ফল পানি, ভিটামিন, ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। ফলের পুষ্টিমান নিয়ে কোনো সমস্যা নেই, সমস্যা হলো, ফল দিনের একেক বেলায় হজমে একেক রকমের প্রভাব ফেলতে পারে।

    যদিও অনেকে বিশ্বাস করেন যে সকালে সাবধানতার সঙ্গে ফল খাওয়া উচিত, কিছু বিশেষজ্ঞ ভিন্নভাবে চিন্তা করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, আপনি খালি পেটে বা খাবারের পরে ফল খেতে পারেন। ফল সব সময়েই স্বাস্থ্যকর। ফল দ্রুত হজম হয়, এটি প্রাকৃতিকভাবে হাইড্রেট করে এবং পেটের ওপর চাপ না ফেলে শক্তি প্রদান করে।

    অনেকের কাছে, সকালে ফল খেলে তা শরীরকে আরও সতেজ করে তোলে, বিশেষ করে যখন শরীর সারা রাতের না খাওয়া থেকে বেরিয়ে আসে। বিশেষজ্ঞের মতে, যদি আপনি এমন কেউ হন যিনি খালি পেটে ফল খাওয়ার পরে হালকা, উদ্যমী এবং আরামদায়ক বোধ করেন, তাহলে বিরত থাকার কোনো কারণ নেই।

    যদিও কেউ কেউ খালি পেটে ফল সহজেই হজম করতে পারে, তবে অনেকে আবার অস্বস্তি বোধ করতে পারে। খালি পেটে ফল খাওয়া আসলে ভুল নয়, তবে হজমের ক্ষেত্রে সময় গুরুত্বপূর্ণ। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কিছু ফল, বিশেষ করে সাইট্রাস জাতের ফল এড়ানো উচিত। বিশেষ করে যারা ঠান্ডা বা তীব্র অ্যাসিডিটিতে ভুগছেন তাদের খালি পেটে সাইট্রাস ফল এড়িয়ে চলা উচিত।

    কমলা, আনারস ইত্যাদি সাইট্রাস ফল এবং পেয়ারা এবং নাশপাতির মতো উচ্চ ফাইবারযুক্ত ফল খালি পেটে খেলে অ্যাসিডিটি এবং অস্বস্তি হতে পারে। সমস্যাটি সাধারণ ফলের সঙ্গে নয়, বরং ব্যক্তিগত সহনশীলতা এবং প্রাকৃতিকভাবে বেশি অ্যাসিডিক বা তন্তুযুক্ত নির্দিষ্ট ফলের সঙ্গে। কঠোর নিয়মের পরিবর্তে, আপনার শরীরের জন্য কী সঠিক মনে হয় তার ওপর মনোযোগ দিন।

    যদি কেবল ফল খেলে তা আপনাকে ক্ষুধার্ত করে তোলে, তাহলে বাদাম, বীজ বা দইয়ের সাথে মিশিয়ে নিন। ভারী নাস্তা পছন্দ করেন? খাবারের মধ্যে ফল খান। পুষ্টিবিদরা একমত, ফল যেকোনো সময় কাজ করে, যতক্ষণ না আপনি ধারাবাহিক থাকেন।