Category: প্রচ্ছদ

  • রাতের খাবারের পর ঘুমিয়ে পড়া শরীরের জন্য ক্ষতির কারণ

    রাতের খাবারের পর ঘুমিয়ে পড়া শরীরের জন্য ক্ষতির কারণ

    অনলাইন ডেস্ক:  রাতের খাবার খেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়া শরীরের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। ধীরে ধীরে এতে নানা জটিল অসুখ দেখা দিতে পারে। বদহজম, বুকজ্বালা, অ্যাসিডিটি, অতিরিক্ত ওজন এমনকি স্ট্রোকের ঝুঁকিও বাড়ে। তাই রাতে খাওয়া ও ঘুমের মাঝে ঠিক কতটা বিরতি রাখা প্রয়োজন, তা জানা খুবই জরুরি।

    হজমে সমস্যা:

    খাওয়ার পরই শুয়ে পড়লে প্রথমেই ক্ষতি হয় হজমশক্তির। ঘুমের সময় খাবার ঠিকমতো ভাঙতে শরীরকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। নিউট্রিশনিস্ট রূপালী দত্তের মতে, খেয়ে সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে গেলে খাবার ধীরে হজম হয় এবং অন্ত্রে সঠিকভাবে পৌঁছাতে পারে না। ফলে গ্যাস, অ্যাসিডিটি, বুকজ্বালা দেখা দেয়। আবার ঘুমও ঠিকমতো হয় না, আর ঘুম কম হলে ওজন বাড়তে থাকে।

    ঘুমে ব্যাঘাত:

    ঘুমানোর কিছুক্ষণ আগে খাবার খেলে ঘুমের মান নষ্ট হয়। বিশেষ করে মিষ্টি জাতীয় খাবার খেলে শরীরে বাড়তি এনার্জি তৈরি হয়, যা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়।

    ওজন বৃদ্ধি:

    ধীর হজম ও খারাপ ঘুম— দুটিই ওজন বাড়ার প্রধান কারণ। দিনের শেষে মেটাবলিজম ধীরে চলে, ফলে তখন খাওয়া ক্যালরি সহজে বার্ন হয় না। শরীর সূর্যের কার্যক্রমের ছন্দে কাজ করে, তাই তাড়াতাড়ি খেলে পুষ্টিগুণ ভালোভাবে শোষিত হয়। কিন্তু দেরি করে খেলে সেই পুষ্টিগুণ ঠিকমতো না মেটাবলাইজ হয়ে শরীরে চর্বি হিসেবে জমে।

    বুকজ্বালা ও অ্যাসিডিটি:

    খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়লে বুকজ্বালা আরও বেড়ে যায়। পেটে চাপ পড়ার ফলে অস্বস্তি ও অ্যাসিডিটি বাড়ে।

    গবেষণাগুলোতে দেখা গেছে, অ্যাসিডিটি থেকে স্লিপ অ্যাপনিয়া হতে পারে, যা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। বদহজম থেকে কোলেস্টেরল ও রক্তচাপও বেড়ে যায়— যা হার্টের জন্য ক্ষতিকর।

    খাওয়া ও ঘুমের মধ্যে কতক্ষণ বিরতি রাখা উচিত?

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাতের খাবার ও ঘুমের মধ্যে অন্তত ৩ ঘণ্টা বিরতি রাখা ভালো। এতে বদহজম, বুকজ্বালা এবং ঘুমের সমস্যা কমে। ভরা পেটে ঘুমালে মেটাবলিজম শ্লথ হয়ে যায়, ফলে ওজন বাড়া ও স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ে।

  • মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি আয়েশা গ্রেফতার

    মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি আয়েশা গ্রেফতার

    অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মা ও মেয়েকে হত্যার ঘটনায় মূল আসামি গৃহকর্মী আয়েশাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঝালকাঠির নলছিটি এলাকা থেকে তাকে বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সকাল/দুপুরে ধরে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। পুলিশ ও ডিএমপির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    ঘটনা ঘটে সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সকালে শাহজাহান রোডের ১৪ তলা আবাসিক ভবনের সপ্তম তলায়। নিহতরা হলেন মা লায়লা আফরোজ (৪৮) ও তার মেয়ে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজ (১৫)। নিহতদের স্বামী ও পিতার অভিযোগে, সকালে স্কুলে যাওয়ার পর বাড়িতে ফিরে স্ত্রীর মোবাইলে একাধিকবার ফোন করার চেষ্টা করলেও যোগাযোগ হয় না। পরে বাসায় এসে তিনি মা-মেয়ের রক্তে ভেজা লাশ পান।

    ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, আয়েশা সকাল ৭টা ৫১ মিনিটে বোরকা পরে বাসায় ঢুকেন এবং ৯টা ৩৫ মিনিটে নাফিসার স্কুলড্রেস পরে বেরিয়ে যান। এ সময় তার সঙ্গে একটি মোবাইল ফোন, একটি ল্যাপটপ, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশ ধারণা করছে, মা-মেয়েকে হত্যা করতে তিনি ছুরি বা ধারালো অন্য কোনো অস্ত্র ব্যবহার করেছেন। লায়লার শরীরে প্রায় ৩০টি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে, নাফিসার শরীরে চারটি।

    মোহাম্মদপুর থানা ওসি মেজবাহ উদ্দিন জানান, গ্রেফতারকৃত আয়েশা আগের দিনগুলোতে ওই বাসায় কাজ করতেন। তিনি নিজেকে আয়েশা বলে পরিচয় দিয়েছেন। হত্যার আগে এবং পরে ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ, বাসার আলামত ও রক্তের দাগ বিশ্লেষণ করে পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে। বাসার দারোয়ান ও অন্যান্য সাক্ষীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

    নিহতদের স্বামী আজিজুল ইসলাম জানান, “বাসায় কাজের মহিলা দরকার ছিল। চার দিন আগে বোরকা পরে একটি মেয়ে আসে। প্রথম দুদিন নিয়মিত আসে। তারপর সোমবার কি হয়েছে, সেটা বলার অবস্থা নেই।” তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের পর তার মেয়ে স্কুল ড্রেস পরে বের হয়ে যায়।

    নিহত লায়লা ও নাফিসার মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে নাটোরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

  • বিএনপির যে প্রার্থীর বিপক্ষে লড়বেন এনসিপির নাহিদ ইসলাম

    বিএনপির যে প্রার্থীর বিপক্ষে লড়বেন এনসিপির নাহিদ ইসলাম

    অনলাইন ডেস্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে ১২৫টি আসনের প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বাংলামটর কার্যালয়ে দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেন এই তালিকা ঘোষণা করেন। তালিকা অনুযায়ী, ঢাকা-১১ আসন থেকে লড়বেন এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম।

    ঢাকা-১১ আসনটি বাড্ডা, ভাটারা ও রামপুরা এলাকা নিয়ে গঠিত। এই আসনের বিএনপির প্রার্থী এম এ কাইয়ুম। গত ৩ নভেম্বর বিএনপি এই আসনে প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছিল। এনসিপি সূত্র জানায়, নাহিদ ইসলাম শাপলা কলি প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেবেন।

    এ ছাড়া দলের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আসনে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। ঢাকা-১৮ আসনে লড়বেন মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, পঞ্চগড়-১ আসনে উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, কুমিল্লা-৪ আসনে দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। রংপুর-৪ আসনে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন সদস্য সচিব আখতার হোসেন। ঢাকা-৯ আসনে ডা. তাসনিম জারা, ঢাকা-১ আসনে মো. রাসেল আহমেদ, ঢাকা-৪ আসনে ডা. জাহিদুল ইসলাম, ঢাকা-৫ আসনে এস এম শাহরিয়ার, ঢাকা-৭ আসনে তারেক আহম্মেদ আদেল, ঢাকা-১২ আসনে নাহিদা সারওয়ার নিভা, ঢাকা-১৩ আসনে আকরাম হুসাইন, ঢাকা-১৫ আসনে অবসরপ্রাপ্ত মেজর মুহাম্মদ আলমগীর ফেরদৌস, ঢাকা-১৬ আসনে আরিফুল ইসলাম আদীব, ঢাকা-১৭ আসনে ডা. তাজনূভা জাবীন, ঢাকা-১৯ আসনে ফয়সাল মাহমুদ শান্ত ও ঢাকা-২০ আসনে ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ।

    এ প্রসঙ্গে আখতার হোসেন বলেন, “আমরা দলের প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে জনগণের কাছে আমাদের ভাবমূর্তি ও প্রস্তাবনা পৌঁছে দিতে চাই। আমাদের লক্ষ্য সুষ্ঠু প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিশ্চিত করা।”

    জাতীয় নাগরিক পার্টি এবার ঢাকা এবং দেশের অন্যান্য নির্বাচনী কেন্দ্রগুলোতে শক্তিশালী অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিজেদের প্রমাণের চেষ্টা করছে।

  • আজই পদত্যাগের ঘোষণা দিতে পারেন দুই ছাত্র উপদেষ্টা

    আজই পদত্যাগের ঘোষণা দিতে পারেন দুই ছাত্র উপদেষ্টা

    অনলাইন ডেস্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে অন্তর্বর্তী সরকারের দুই ছাত্র প্রতিনিধি উপদেষ্টা আজ বুধবার (১০ ডিসেম্বর) পদত্যাগের ঘোষণা দিতে পারেন বলে সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এবং স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া আজকেই সিদ্ধান্ত জানাতে পারেন। সূত্রগুলো বলছে, এ দুজন গতকাল মঙ্গলবার বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্টদের অবহিত করেছেন।

    এ দিন বিকেল তিনটায় সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন আসিফ মাহমুদ। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিনের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি সমসাময়িক বিষয় নিয়ে কথা বলবেন। তবে আসিফ মাহমুদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা বলছেন, সংবাদ সম্মেলনেই পদত্যাগের ঘোষণা আসতে পারে।

    মঙ্গলবার যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাদের নিয়মিত বৈঠকে দুই উপদেষ্টার পদত্যাগের প্রসঙ্গ ওঠে। দায়িত্বশীল সরকারি সূত্র জানায়, আলোচনার পরই সরকার নিশ্চিত হয় যে দুই ছাত্র প্রতিনিধি বুধবারই পদত্যাগ করছেন। নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসায় উপদেষ্টা পরিষদের অনেকেই মনে করছেন, তফসিল ঘোষণার পর তাদের দায়িত্বে থাকা উচিত হবে না। তাই তারা নির্বাচন করুন বা না করুন, সরে দাঁড়ানোই তাদের জন্য উপযুক্ত পথ।

    এর আগে গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকেই দুই উপদেষ্টাকে পদত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। যদিও তারা তখন আরও সময় চান। মাহফুজ আলম সরকারের শেষ সময় পর্যন্ত দায়িত্বে থাকতে আগ্রহী ছিলেন। এমনকি সে ক্ষেত্রে তিনি নির্বাচন করবেন না, সেটিও জানিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে গত মাসের মাঝামাঝি আবারও তাদের সরে দাঁড়ানোর জন্য তাগাদা আসে।

    রাজনৈতিক অঙ্গনে দুই উপদেষ্টাকে নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে। আসিফ মাহমুদ গত ৯ নভেম্বর ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন করে ধানমন্ডিতে ভোটার হন। পরে ঢাকার ১০ নম্বর আসন, অর্থাৎ ধানমন্ডি, কলাবাগান, নিউমার্কেট ও হাজারীবাগ এলাকায় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে জোর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা করে বা স্বতন্ত্র হিসেবেও তিনি মাঠে নামতে পারেন কিনা, সেটি এখনো অনিশ্চিত।

    অন্যদিকে মাহফুজ আলমকে লক্ষ্মীপুর ১ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছিল। তবে বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর এই আসনে তাকেই দলটির মনোনয়ন দেওয়ার ঘোষণা আসে। ফলে ওই আসন থেকে মাহফুজের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই ক্ষীণ হয়ে যায়।

    গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর ৮ আগস্ট মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে তিনজন উপদেষ্টা পরিষদে জায়গা পান। নাহিদ ইসলাম পরে পদত্যাগ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক হলে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান মাহফুজ আলম। আসিফ মাহমুদ প্রথমে শ্রম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেও পরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় পান। যদিও দুজনের কারও এনসিপিতে আনুষ্ঠানিক পদ নেই, তবু তাদের প্রভাব রয়েছে।

    জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর জোট গঠনের প্রচেষ্টাও জোরদার হয়েছে। রোববার এনসিপি, এবি পার্টি ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ে নতুন জোট ঘোষণার পর বহু আসনে মনোনয়ন প্রক্রিয়া চলছে। দুই ছাত্র উপদেষ্টা এনসিপির মনোনয়ন নেন কি না, তা নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে নজর রয়েছে।

  • যাত্রাবাড়ি খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল

    যাত্রাবাড়ি খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল

  • অনুমোদনহীন সমাবেশ নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর বার্তা

    অনুমোদনহীন সমাবেশ নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর বার্তা

    অনলাইন ডেস্ক:     আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল সামনে রেখে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সবাইকে সতর্ক বার্তা দিয়েছে। তারা বলছে, তফসিল ঘোষণার পর যে কোনো বেআইনি ও অনুমোদনহীন জনসমাবেশ বা আন্দোলন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) রাজধানীতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

    বৈঠক শেষে জানানো হয়, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং উৎসবমুখর রাখতে সরকারের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি চলছে। নির্বাচনী পরিবেশ সুরক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় নয় লাখ সদস্য মাঠে থাকবে, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নিয়োগ। সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার লক্ষ্যে দেড় লাখ পুলিশ সদস্যকে ইতোমধ্যেই বিশেষ নির্বাচনী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

    সরকার স্পষ্টভাবে জানায়, তফসিল ঘোষণার পর থেকে ভোটের দিন পর্যন্ত কোনো ধরনের অনুমোদনহীন জনসমাবেশ, রাস্তা অবরোধ বা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে এমন কর্মকাণ্ডকে সহ্য করা হবে না। বেআইনিভাবে সভা সমাবেশে অংশ নিলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বৈঠকে জানানো হয়।

    স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, গত দেড় বছরে দুই হাজারের বেশি আন্দোলন ও বিক্ষোভ সংঘটিত হয়েছে, যেখানে আন্দোলনকারীরা তাদের নানা দাবি উপস্থাপন করেছেন। তিনি বলেন, “সরকার সবসময় ন্যায্য দাবিতে সাড়া দিয়েছে, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজেছে।” তবে এখন দেশের মূল লক্ষ্য নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা।

    তিনি আরও বলেন, “আমরা এখন নির্বাচনমুখী সময়ে আছি। তাই যার যার দাবি নির্বাচন পরবর্তী সরকারের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানাচ্ছি। কেউ যেন অযথা উত্তেজনা সৃষ্টি বা স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্ন না করেন।”

    নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা বা অনিশ্চয়তা যেন না বাড়ে, সেই লক্ষ্যেই সরকারের এই কড়া অবস্থান বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।