Category: প্রচ্ছদ

  • ৭২ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে বিক্রি হলো ‘ওয়ার্নার ব্রাদার্স’

    ৭২ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে বিক্রি হলো ‘ওয়ার্নার ব্রাদার্স’

    অনলাইন ডেস্ক:    স্ট্রিমিং জগতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় চুক্তিগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি চুক্তি সম্পন্ন হলো। দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে নেটফ্লিক্সের প্রতিযোগী ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারির টিভি ও ফিল্ম স্টুডিও এবং স্ট্রিমিং বিভাগকে ৭২ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে অধিগ্রহণ করতে সম্মত হয়েছে।

    এই চুক্তির ফলে গেম অব থ্রোনস, হ্যারি পটার, ডিসি কমিকস এবং এইচবিও ম্যাক্সের মতো বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান কনটেন্ট ও ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর মালিকানা চলে যাবে নেটফ্লিক্সের হাতে। এই অধিগ্রহণ হলিউডে ক্ষমতার ভারসাম্যকে নাটকীয়ভাবে বদলে দেবে।

    এতদিন নিজস্ব কনটেন্টের মাধ্যমে আধিপত্য ধরে রাখা নেটফ্লিক্স এবার ওয়ার্নার ব্রাদার্সের এক শতাব্দীর পুরনো ক্লাসিক লাইব্রেরির সঙ্গে তাদের বিশ্বখ্যাত সিরিজ যেমন- স্কুইড গেম এবং স্ট্রেঞ্জার থিংস-এর মতো জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজগুলোকে একত্রিত করবে। নেটফ্লিক্সের কো-সিইও টেড সারান্ডোস এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য সবসময়ই বিশ্বকে বিনোদন দেওয়া। ওয়ার্নার ব্রাদার্সের অবিশ্বাস্য লাইব্রেরি-যা ‘ক্যাসাব্ল্যাঙ্কা’ থেকে শুরু করে ‘হ্যারি পটার’ এবং ‘ফ্রেন্ডস’ পর্যন্ত বিস্তৃত-তার সঙ্গে আমাদের সংস্কৃতি-নির্ধারণকারী টাইটেলগুলোকে একত্রিত করে আমরা দর্শকদের আরও ভালোভাবে বিনোদন দিতে পারব।’

    তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, এই বিশাল চুক্তির কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে অ্যান্টিট্রাস্ট স্ক্রুটিনি বা বাজার নিয়ন্ত্রণের কঠোর পর্যালোচনার মুখোমুখি হতে পারে নেটফ্লিক্স। তাদের উদ্বেগ, দুই বৃহৎ স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের সম্মিলন বাজারে প্রতিযোগিতা কমিয়ে দেবে। তা সত্ত্বেও, নেটফ্লিক্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ওয়ার্নার ব্রাদার্সের স্টুডিওর সিনেমাগুলো সিনেমা হলগুলোতেও মুক্তি দেওয়া অব্যাহত রাখবে। এদিকে, এই চুক্তির ফলে আগামী তিন বছরের মধ্যে নেটফ্লিক্স ২ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বার্ষিক খরচ সাশ্রয় করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • নারীর অংশগ্রহণে নতুন বাংলাদেশ গড়ার ওপর গুরুত্বারোপ প্রধান উপদেষ্টার

    নারীর অংশগ্রহণে নতুন বাংলাদেশ গড়ার ওপর গুরুত্বারোপ প্রধান উপদেষ্টার

    অনলাইন ডেস্ক: প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে বিশেষ করে বেগম রোকেয়ার নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে অভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

    তিনি বলেছেন, ‘আজকের নারীসমাজ গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী নারী সমাজ। একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন নারী সমাজ। তাদের হাত ধরেই নতুন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়েছে। তাঁরা কেবল নারীদের জন্য নয়, সকলের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক। নারীদের সামনে রেখেই আমাদের নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠুক। তাদেরকে আমাদের সমুন্নত রাখতে হবে।’

    আজ মঙ্গলবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত বেগম রোকেয়া দিবস ২০২৫ উদযাপন ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন ।

    প্রতি বছরের মতো এবারও নারীশিক্ষা, নারী অধিকার, মানবাধিকার এবং নারী জাগরণে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ চার বিশিষ্ট নারীকে রোকেয়া পদক প্রদান করা হয়েছে।

    এ বছর নারীশিক্ষায় (গবেষণা) রুভানা রাকিব, নারী অধিকারে (শ্রম অধিকার) কল্পনা আক্তার, নারী জাগরণে (ক্রীড়া) ঋতুপর্ণা চাকমা ও মানবাধিকার ক্যাটাগরিতে নাবিলা ইদ্রিসকে বেগম রোকেয়া পদক প্রদান করা হয়।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘যে আদর্শে বেগম রোকেয়া আমাদের নিয়ে যেতে চাচ্ছিলেন, অতি চমৎকারভাবে তুলে ধরেছিলেন তাঁর বক্তব্যে, তাঁর লেখায়, আজকে যে চারজন পুরস্কার পেলেন তাঁরা রোকেয়ার সেই পথে আমাদের জাতিকে এগিয়ে দিলেন। এটি আরও একটি পুরস্কার না, এটা যুগান্তকারী পুরস্কার। তাঁরা আমাদেরকে দুনিয়ার সামনে অন্য স্তরে নিয়ে গেছেন। তাঁরা শুধু বাংলাদেশের না, তাঁরা সারা পৃথিবীর নেতৃত্ব দেয়া নারী।’

    আজকের আয়োজনে শুধু বেগম রোকেয়াকে স্মরণ নয়, বরং ব্যর্থতা খুঁজে বের করা প্রয়োজন উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা ১০০ বছর পার হলেও আরেকজন রোকেয়া সৃষ্টি করতে পারিনি। এটা আমাদের দুর্ভাগ্য। তিনি যেসব দিকনির্দেশনা দিয়ে গেছেন, যেসব স্বপ্ন দেখিয়ে গেছেন, এ স্বপ্নকে আমরা আমলে আনতে পারিনি। কথা বলেছি কিন্তু অগ্রসর হতে পারি নাই। কেন পারলাম না এটা আমাদের খুঁজে বের করতে হবে।’

    ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের সময়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা ও গ্রামীণ ব্যাংকের শুরুর দিককার স্মৃতিচারণ করে নারীদের কঠিন সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টা।

    তিনি বলেন, ‘দুর্ভিক্ষের আঘাত প্রথমে আসে নারীদের ওপর, শিশুদের ওপর।’

    তিনি বলেন, ‘আমরা দেখলাম, মেয়েরা জানে না তাদের নাম কী? সবাই চিনে, অমুকের মা, অমুকের স্ত্রী, অমুকের মেয়ে, অমুকের নাতি-নাতনি। নাম জানে না। সমাজের একটা অংশ কীভাবে সমাজ থেকে তাদের বিচ্ছিন্ন করে ফেলে এটা তার নমুনা। আমরা নাম ঠিক করে দিলাম। নাম লিখতে শেখানোর জন্য হাতে কাঠি ধরিয়ে দিলাম। দিনরাত পরিশ্রম করে, চোখের পানি ফেলে তারা নাম লেখা শিখল… এটা একশ বছর পরের অবস্থা। একশ বছর আগে রোকেয়া সেই আমলে যে স্বপ্ন দেখেছেন, সেটা বিশ্বাস করা যায় না। আজকে অনেকে বলে, ‘হ্যাঁ, সুন্দর কথা বলেছে…’ সুন্দর কথা না, রোকেয়া বিপ্লবী কথা বলেছে। সমাজকে ঝাঁকুনি দিয়ে কথা বলেছে। কিন্তু সেই ঝাঁকুনি বহন করে নিয়ে যাওয়ার মতো ব্যক্তি আর এলো না। এটাই আমাদের দুর্ভাগ্য।’

    প্রধান উপদেষ্টা আরো বলেন, ‘বেগম রোকেয়া কোনো কাজ সমাজকে বাদ দিয়ে করেননি। সবসময় সমাজকে নিয়েই সব কাজ করেছেন। একশ বছর আগে রোকেয়া লিখেছেন, নারী-কন্যাদের লেখাপড়া শেখাও যাতে সে অন্ন উপার্জন করতে পারে। সেখান থেকে আমরা শিখতে পারছি না কেন? আয়োজন করছি কিন্তু শিখতে পারছি না। আমাদের দৈনন্দিন পথে রোকেয়া সাথে থাকুক, তাহলেই অগ্রসর হতে পারব।’

    অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আমরা যখন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ি; ইকনোমিক্স অনার্সে অনেক ছেলে ছিল, মেয়ে ছিল মাত্র চার জন। কোনো কোনো বিভাগে কোনো মেয়েই ছিল না। এখন যে কোনো শিক্ষায়তনে যাও। মেয়ে শিক্ষার্থীরা উপচে পড়ছে। আমি খোঁজ নিলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছেলে-মেয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা এখন অর্ধেক-অর্ধেক। আমি জিজ্ঞেস করলাম, মেয়েদের হল কয়টা? আমাকে বলল পাঁচটা। আর ছেলেদের হল ১৩টা। এটা কেমন বিচার হলো? মেয়েদের থাকার ব্যবস্থা তো আগে করতে হবে।’

    অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়’ করার ঘোষণা দেন প্রধান উপদেষ্টা।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ।

  • ১৬ ডিসেম্বর থেকে এনইআইআর চালু শঙ্কায় স্বল্প আয়ের মানুষ

    ১৬ ডিসেম্বর থেকে এনইআইআর চালু শঙ্কায় স্বল্প আয়ের মানুষ

    অনলাইন ডেস্ক:   সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী টেলিযোগাযোগ খাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অনিবন্ধিত মোবাইল ফোনের ব্যবহার রোধ করতে আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে এনইআইআর ব্যবস্থা চালু হওয়ার কথা রয়েছে। এর ফলে দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে নিবন্ধনবিহীন, চুরি হওয়া বা অনুমোদনহীন আমদানি করা মোবাইল ফোনের ব্যবহার বন্ধ হয়ে যাবে।

    এদিকে অনিবন্ধিত ডিভাইসের দাম বাড়ার আশঙ্কায় পছন্দের ফোন কিনতে দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, প্রচলিত শুল্ক ও ভ্যাটের কারণে অফিসিয়াল ফোন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

    তাদের দাবি, ২০ হাজার টাকার একটি ফোনে ৫৭ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত হয়ে দাম হয়ে যাবে ৫০ হাজারেরও বেশি-যা ছাত্র-যুবকদের বাজেটের বাইরে।

    নির্বাচনের আগে অবৈধ ডিভাইসকেন্দ্রিক অপরাধ দমন, সুলভ দামে মোবাইল সরবরাহ, অভ্যন্তরীণ বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি এই লক্ষ্য নিয়েই ১৬ ডিসেম্বর থেকে এনইআইআর কার্যকর করার সিদ্ধান্ত সরকার নেয়।

    রোববার বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ভবন ঘেরাওয়ের পর ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) সংস্কারে সম্মত হয়েছে সংস্থাটি। এতে চলমান অবরোধ সোমবার পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করেছেন আন্দোলনরত মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা।

    রোববার রাত পৌনে ৯টার দিকে বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারীর আশ্বাসের ভিত্তিতে এ ঘোষণা দেয় মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি)।

    বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, এনইআইআর-সংক্রান্ত সব জটিলতা নিরসনে বিটিআরসিতে একটি যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে উপস্থিত থাকবেন অর্থ উপদেষ্টা, এনবিআর চেয়ারম্যান, বাণিজ্য সচিব, মোবাইল ফোন ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন ও এমবিসিবি-এর প্রতিনিধিরা।

    রোববার সকাল ১০টার দিকে এনইআইআর সংস্কারসহ কয়েকটি দাবিতে ‘এমবিসিবি’র ব্যানারে শত শত মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী আগারগাঁওয়ের বিটিআরসি ভবনের সামনে অবস্থান নেন। এতে সড়কের এক পাশের যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট ও জনদুর্ভোগ। এ সময় বিটিআরসি চেয়ারম্যানসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ভবনের ভেতর অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

    ব্যবসায়ীদের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-এনইআইআর সংস্কার, সিন্ডিকেট প্রথা বাতিল এবং মোবাইল ফোন আমদানির সুযোগ উন্মুক্ত করা। তাদের অভিযোগ, এনইআইআর বাস্তবায়ন হলে লাখো ব্যবসায়ী ও তাদের পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। নতুন এই নিয়মের ফলে একটি বিশেষ গোষ্ঠী লাভবান হবে এবং বাড়তি করের চাপে গ্রাহক পর্যায়ে মোবাইলের দাম বেড়ে যাবে।

    ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব জানান, দেশে ৭৩ শতাংশ ডিজিটাল প্রতারণায় ব্যবহৃত হয় অবৈধ স্মার্টফোন। এই অপরাধচক্র বন্ধ করতেই সরকার কঠোর হতে যাচ্ছে।

    তার দাবি, মোবাইল ফোন চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত একটি বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থে আঘাত লাগায় সরকারের উদ্যোগে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে অবৈধ ডিভাইসকেন্দ্রিক অপরাধচক্র দমন, সুলভ দামে মোবাইল সরবরাহ, অভ্যন্তরীণ বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি-এ সব লক্ষ্য নিয়েই ১৬ ডিসেম্বর থেকে এনইআইআর চালুর সিদ্ধান্তে অনড় সরকার।

    সরকারের আইসিটি বিভাগ জানিয়েছে, এনইআইআর চালুর আগের দিন পর্যন্ত নেটওয়ার্কে থাকা সব ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হবে। পরে বিদেশ থেকে কেউ ফোন নিয়ে এলে সুযোগ থাকবে অনলাইনে নিবন্ধনের।

  • জীবনে বিয়ে কেন প্রয়োজন !

    জীবনে বিয়ে কেন প্রয়োজন !

    অনলাইন ডেস্ক:     মানবসভ্যতার ইতিহাসে বিবাহ এমন এক প্রতিষ্ঠান, যা যুগে যুগে মানুষের নৈতিকতা, সমাজব্যবস্থা ও আধ্যাত্মিক ভারসাম্যের কেন্দ্রে অবস্থান করেছে। ইসলাম এই সম্পর্ককে কেবল সামাজিক চুক্তি হিসেবে বিবেচনা করেনি, বরং এটিকে মানুষের অস্তিত্ব, দায়িত্ববোধ ও শান্তিময় জীবনব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে ঘোষণা করেছে। কুরআন একে বর্ণনা করে “সাকিনাহ”, অর্থাৎ অন্তরের প্রশান্তি ও নিরাপত্তার আধার হিসেবে।

    পরম করুণাময় আল্লাহ বলেন, তিনি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদেরই জন্য সৃষ্টি করেছেন সহধর্মিণী, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও; এবং তিনি তোমাদের মধ্যে স্থাপন করেছেন মমতা ও দয়া। (সূরা রূম ২১)

    এই আয়াত শুধু একটি সম্পর্কের বর্ণনা নয়, এটি মানবজীবনের গভীর মনস্তত্ত্ব ও সৃষ্টির দর্শনকে ব্যাখ্যা করে। বিবাহ মানুষের বাস্তব জীবনকে যেমন স্থিতি দেয়, তেমনি আধ্যাত্মিক জীবনে প্রস্ফুটন আনে দয়া, মহব্বত ও নৈতিক সংযম।

    রাসুলুল্লাহ সা. বিবাহকে তার সুন্নত হিসেবে ঘোষণা করে বলেন, বিবাহ আমার সুন্নত। যে আমার সুন্নত থেকে বিমুখ হলো, সে আমার অন্তর্ভুক্ত নয়। (বুখারি, মুসলিম) এই বাণীতে নবীজির দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত স্পষ্ট বিবাহ শুধু আকাঙ্ক্ষার বৈধতা নয়, এটি মানুষের ব্যক্তিত্ব গঠন, নৈতিক শুদ্ধতা ও সমাজিক ভারসাম্যের অপরিহার্য উপাদান।

    তার আরেকটি সুপরিচিত বাণী— হে যুবসমাজ, তোমাদের মধ্যে যার সামর্থ্য আছে, সে যেন বিবাহ করে, কারণ বিবাহ চোখকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানকে পবিত্র রাখে।(বুখারি) এখানে নবীজির নির্দেশনা মূলত মানুষের স্বভাব, সমাজ এবং নৈতিক নিরাপত্তার প্রতি গভীর উপলব্ধি থেকে উৎসারিত।

    ইসলামের চার ইমাম ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালিক, ইমাম শাফেয়ী এবং ইমাম আহমদ রহ. সবাই একমত যে বিবাহ মানবসমাজের নৈতিক কাঠামোকে সুদৃঢ় করতে অপরিহার্য। ইমাম গাজ্জালি “ইহইয়াউ উলূমিদ্দীন”-এ বিবাহকে আধ্যাত্মিক শুদ্ধির অনুশীলন হিসেবে উল্লেখ করেন, যেখানে মানুষ দায়িত্ব, ধৈর্য, বিশ্বস্ততা ও আত্মসংযমের উৎকৃষ্ট শিক্ষা লাভ করে। কুরআন পরিবারকে “মিসাকান গালীয” অত্যন্ত দৃঢ় চুক্তি বলে অভিহিত করেছে। (সূরা নিসা ২১)

    এই শব্দবন্ধে পরিবারকে একটি পবিত্র আমানত, আর দাম্পত্যকে নৈতিক ও আধ্যাত্মিক বন্ধনের দৃঢ়তম বিন্যাস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইসলাম স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, পরিবারের ভিত্তি ভেঙে গেলে সমাজের ভিত্তিও নড়বড়ে হয়ে যায়।

    পরিবার কেবল দুই ব্যক্তির মিলন নয়, এটি আগামী প্রজন্মের চরিত্র ও মানবিকতার কারখানা।

    নবী করীম (সা.) বলেন, “তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল, এবং তোমাদের প্রত্যেকেই তার অধীনস্তদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে।”(বুখারি) এই বাণী পরিবারকে নৈতিক নেতৃত্বের প্রথম প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। ইসলাম বিবাহকে ব্যাখ্যা করে পরস্পরকে “আবরণ” “তোমরা একে অপরের জন্য আচ্ছাদন।”(সূরা বাকারা ১৮৭) এটি কেবল কাব্যিক উপমা নয়, বরং দাম্পত্য সম্পর্কের গভীরতম অর্থ একজন আরেকজনের দুর্বলতা ঢেকে রাখা, প্রয়োজনীয়তা পূরণ করা এবং পরস্পরের মর্যাদাকে সম্মানে আবৃত করা।

    আজকের দ্রুতগতির পৃথিবীতে, যখন পরিবার ব্যবস্থার ওপর নানা চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, তখন ইসলামের বিবাহ–দর্শন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—নৈতিক সমাজ, জবাবদিহিমূলক নাগরিকতা, শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবন এবং মানসিক প্রশান্তি—সবকিছুর কেন্দ্রেই রয়েছে পরিবার। আর সেই পরিবারের প্রথম ইট হচ্ছে বিবাহ, যা ইসলাম শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানবতার জন্য আশীর্বাদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

    বিবাহ তাই ইসলামি দৃষ্টিতে কেবল দাম্পত্য–অনুমতি নয়, এটি মানুষের স্বভাব, রুচি, নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ, ঈমান ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা একটি পূর্ণাঙ্গ, পরিপূর্ণ ও করুণাময় প্রতিষ্ঠান। সমাজ যদি টিকে থাকতে চায়, পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে চাইলে—এই সুন্নত, এই পবিত্র বন্ধনকে সঠিক মর্যাদা দিতেই হবে।

    লেখক: শিক্ষার্থী, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, কায়রো, মিশর

  • মৌসুমের প্রথম মৃদু শৈত্যপ্রবাহ ‘পরশ’ আসছে

    মৌসুমের প্রথম মৃদু শৈত্যপ্রবাহ ‘পরশ’ আসছে

    অনলাইন ডেস্ক:     ডিসেম্বরে মৌসুমের প্রথম মৃদু শৈত্যপ্রবাহ ‘পরশ’ আসছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি)। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এ তথ্য জানায় বিডব্লিউওটি।পোস্টে বিডব্লিউওটি জানায়, ধেয়ে আসছে শৈত্যপ্রবাহ পরশ। এটি এ মৌসুমের প্রথম মৃদু শৈত্যপ্রবাহ।

    পোস্টে আরও বলা হয়েছে, আগামী ১৪ থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে সক্রিয় থাকতে পারে শৈত্যপ্রবাহ পরশ। এটি সক্রিয় থাকার সময় রংপুর, রাজশাহী, খুলনা এবং সিলেট বিভাগের কিছু কিছু স্থানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নামতে পারে ৮ থেকে ১০ ডিগ্রির মধ্যে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে এ পর্যন্ত সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়, ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ ছাড়া মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ১১ ডিগ্রি, কুমিল্লা, নওগাঁর বদলগাছী, গোপালগঞ্জ ও কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ১২ দশমিক ৫, যশোর ও চুয়াডাঙ্গায় ১২ দশমিক ৪ এবং রাজশাহী, কুষ্টিয়ার কুমারখালী ও পাবনার ঈশ্বরদীতে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

    পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশের বেশিরভাগ স্থানে রাতের তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে থাকায় শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে। সাধারণত তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি বা তার নিচে নামলেই শৈত্যপ্রবাহ শুরু হিসেবে গণ্য হয়। তাপমাত্রা ৮-১০ ডিগ্রি হলে মৃদু, ৬-৮ ডিগ্রি হলে মাঝারি, ৪-৬ ডিগ্রি হলে তীব্র এবং ৪ ডিগ্রির নিচে নামলে অতিতীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে বিবেচিত হয়।

    পূর্বাভাস অনুসারে, চলতি মাসেই এক থেকে দুটি শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিতে পারে, যার প্রকৃতি হবে মৃদু থেকে মাঝারি। অর্থাৎ তাপমাত্রা কমে ১০ থেকে প্রায় ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে আসতে পারে।

  • বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনীতি করে না: ডা. শফিকুর রহমান

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনীতি করে না: ডা. শফিকুর রহমান

    অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনীতি করে না বলে জানিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ঢাকাস্থ দূতাবাসে ৮ দেশের দূতদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে একথা বলেন তিনি।

    জামায়াত আমির বলেন, জামায়াত ধর্মের ব্যবহার করে না, ধর্মকে নিয়ে ব্যবসা করে না। যারা নির্বাচনের সময় এলে তসবিহ নিয়ে ঘুরে তারাই ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করে। নির্বাচন পেছালে দেশ গভীর সংকটে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচন পেছানো জামায়াতের কাম্য না। কোনো কারণে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন পেছালে দেশ গভীর সংকটে পড়বে।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ক্ষমতায় গেলে আমরা ইনক্লুসিভ বাংলাদেশ গড়বো। আমরা কোনও দলকেই বাদ দেবো না। দেশের স্বার্থে দারুণভাবে আমোরা অনুভব করি, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে অন্তত আগামী ৫ বছর দেশের স্থিতিশীলতা, অর্থনিতী ফিরিয়ে আনা, সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা পাবে।

    দুইটি জিনিস অনুরোধ করবো প্রথমত, নিজে দুর্নীতি করবেন না এমনকি বিষয়টাকে প্রশ্রয় দিবেন না। দ্বিতীয়ত, সকলের জন্য সমান বিচার নিশ্চিত করা, এ বিষয়ে রাজনৈতিকভাব হস্তক্ষেপ করা যাবে না। যারা অন্তত এই দুইটি বিষয়ে একমত হবেন আমরা তাদের নিয়ে সরকার গঠন করতে আগ্রহী।

    খালেদা জিয়ার অসুস্থতায় রাজনীতিতে কোনও সংকট দেখছেন কী না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সুস্থতা অসুস্থতা আল্লাহর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। দেশবাসী তার সুস্থতায় শ্রদ্ধা নিবেদন করে দোয়া করছে। সবাইকে বিদায় নিতে হবে। এর সঙ্গে সমাজের চাকা চলা বা অচল হওয়া উচিত নয়।

    ৮ দেশের রাষ্ট্রদূতরা নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে কোনো শঙ্কা প্রকাশ করেছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একই দিনে দুই ভোট নিয়ে শঙ্কা আছে। এ সময় আলাদা আলাদা দিনে নির্বাচন করার কথাও জানান তিনি।

    তিনি আরও জানান, ফেব্রুয়ারির নির্বাচন খুবই প্রয়োজন। এর সামান্য নড়চড় হলে দেশ গভীর সংকটে পড়বে। এ সময় দেশের স্বার্থে আগামীর স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান জামায়াতের আমির।