Category: প্রচ্ছদ

  • জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় বিএনপির তীব্র নিন্দা

    জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় বিএনপির তীব্র নিন্দা

    নিজস্ব প্রতিনিধি : জাতীয় পার্টির কাকরাইলস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কিছু উচ্ছৃঙ্খল মানুষের হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি।

    শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই নিন্দা জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে এহেন হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণের প্রত্যাশা পূরণে জনমনে বিভ্রান্তি ও হতাশা সৃষ্টি করবে। এটি গণতন্ত্র ও জুলাই চেতনার সাথে সাংঘর্ষিক। ভিন্নমত থাকতে পারে, কিন্তু শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে বাধা দেয়া স্বৈরাচারী মনোভাবেরই বহিঃপ্রকাশ।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রকৃত গণতন্ত্রে বহুদলের অস্তিত্ব অনিবার্য। কোনো রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক তৎপরতা অব্যাহত থাকবে কিনা বা সেই রাজনৈতিক দলটির টিকে থাকা নির্ভর করে জনগণের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর। এখানে হুমকি, হামলা বা হিংসাত্মক আচরণের দ্বারা ভয়-ভীতি সৃষ্টি করে কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যক্রমকে থামিয়ে দেওয়া সর্বজনীন বহুদলীয় গণতান্ত্রিক নীতির সাথে মোটেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিএনপি জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কিছু উচ্ছৃঙ্খল মানুষের হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

  • আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)

    আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)

    ধর্ম ও জীবন ডেস্ক: মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাত দিবস আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর)। মুসলমানদের কাছে এই দিনটি ‘ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)’ নামে পরিচিত। আজ সারা দেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে দিনটি।  ‘ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)’ উপলক্ষে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

    ইসলামি ঐতিহ্য অনুযায়ী, মহানবী (সা.)-কে অনুসরণ করলেই মানবকল্যাণ সম্ভব। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য তাঁর জীবনাদর্শকে সম্পূর্ণভাবে গ্রহণ করতে হবে। খণ্ডিতভাবে অনুসরণ করলে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন সম্ভব নয় এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি ব্যতীত জান্নাতে প্রবেশের সুযোগও নেই।

    ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে সরকার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। দেশের বিভিন্ন মসজিদে কোরআনখানি, মিলাদ, দোয়া মাহফিল এবং মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

    রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে মাসব্যাপী ইসলামী বইমেলার আয়োজন করা হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশও দোয়া মাহফিল, সেমিনার ও বিশেষ আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

    দিবসটি উপলক্ষে মসজিদে মসজিদে বিশেষ মোনাজাতে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হচ্ছে।

  • উপদেষ্টা পরিষদে তিনটি নীতিমালার খসড়া অনুমোদন

    উপদেষ্টা পরিষদে তিনটি নীতিমালার খসড়া অনুমোদন

    অনলাইন ডেস্ক: প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদ বিভাগের ৪১তম সভায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালার খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে। এই সভায় অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সভাপতিত্ব করেন। প্রেস উইং ও তথ্য বিবরণী থেকে জানা গেছে, খসড়া নীতিমালা তিনটি বিভাগে প্রযোজ্য।

    বিদ্যুৎ বিভাগের খসড়া নীতিমালা ‘বেসরকারি অংশগ্রহণে নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ উৎপাদন/বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন নীতিমালা, ২০২৫’ অনুমোদন পেয়েছে। এটি বেসরকারি খাতকে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের ক্ষেত্রে নীতিমূলক নির্দেশনা দেবে।

    ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের খসড়া নীতিমালা ‘টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক ও লাইসেন্সিং নীতিমালা, ২০২৫’ও অনুমোদন পেয়েছে। এই নীতিমালা দেশের টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়ন, নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়ার মানসম্মত রূপায়ণে সহায়ক হবে।

    আইন ও বিচার বিভাগের খসড়া নীতিমালা ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) (তৃতীয় সংশোধনী) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমের যথাযথ সংস্কার ও সম্প্রসারণ সম্ভব হবে।

    এই তিনটি খসড়া নীতিমালা চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সম্পন্ন করবে।

  • রাষ্ট্রপতির সঙ্গে নতুন নিয়োগ পাওয়া ২৫ বিচারপতির সাক্ষাৎ

    রাষ্ট্রপতির সঙ্গে নতুন নিয়োগ পাওয়া ২৫ বিচারপতির সাক্ষাৎ

    অনলাইন ডেস্ক: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন হাইকোর্টে নতুন নিয়োগ পাওয়া ২৫ জন বিচারপতি। বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে তাদের মধ্যে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

    সাক্ষাতে হাইকোর্টের নতুন বিচারপতিদের অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্টপতি বলেন, নতুন বিচারপতি নিয়োগের ফলে দেশের উচ্চতর আদালতে বিচারিক কার্যক্রম আরও ত্বরান্বিত হবে এবং বিচারপ্রার্থীরা উপকৃত হবেন। বিচারপতিদের সেবার মানোন্নয়নে আত্মোনিয়োগ করতে হবে। বিচারপতিরা দক্ষতা ও মেধা কাজে লাগিয়ে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি করতে সক্ষম হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

    এ সময় বিচারপতিরা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সবসময় সচেতন থাকবেন বলে রাষ্ট্রপতিকে জানান।

    উল্লেখ্য, গত ২৫ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি পদে ২৫ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়। পরদিন তাদের শপথ পাঠ করান প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ।

    নতুন নিয়োগ পাওয়া বিচারপতিরা হলেন- সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আনোয়ারুল ইসলাম (শাহীন), আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইফুল ইসলাম, চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ মো. নুরুল ইসলাম, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব শেখ আবু তাহের, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল আজিজ আহমদ ভূঞা, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রাজিউদ্দিন আহমেদ ও ফয়সাল হাসান আরিফ, আইন ও বিচার বিভাগের যুগ্ম সচিব এস এম সাইফুল ইসলাম, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আসিফ হাসান ও মো. জিয়াউল হক, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল দিহিদার মাসুম কবীর, হবিগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ জেসমিন আরা বেগম, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের সচিব মুরাদ–এ–মাওলা সোহেল, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. জাকির হোসেন, সলিসিটর (সিনিয়র জেলা জজ) মো. রাফিজুল ইসলাম, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মনজুর আলম, মো. লুৎফর রহমান ও রেজাউল করিম, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফাতেমা আনোয়ার, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাহমুদ হাসান, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবদুর রহমান, সৈয়দ হাসান যুবাইর, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ এফ এম সাইফুল করিম, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী উর্মি রহমান এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদ।

  • জাতীয় নির্বাচনের আগে দুই হাজার এএসআই নিয়োগ দেবে পুলিশ

    জাতীয় নির্বাচনের আগে দুই হাজার এএসআই নিয়োগ দেবে পুলিশ

    অনলাইন ডেস্ক: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে পুলিশ বাহিনীতে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) পদে বড় ধরনের নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চার হাজার নতুন এএসআই নিয়োগের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হচ্ছে, যার মধ্যে দুই হাজার জনকে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হবে এবং বাকি দুই হাজার জনকে পদোন্নতির মাধ্যমে এ পদে আনা হবে।

    বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোখলেস উর রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। তিনি বলেন, “জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শক্তিশালী করতেই এএসআই পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন শিক্ষাগত যোগ্যতা হবে এইচএসসি পাস।”
    আইজিপি জানান, নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে এবং মাঠ পর্যায়ে পুলিশি কার্যক্রম জোরদার করার অংশ হিসেবেই এ নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
    বৈঠকে উপস্থিত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোখলেস উর রহমান বলেন, “আগামী নির্বাচনকে রোল মডেল হিসেবে আয়োজন করতে সরকার বদ্ধপরিকর। এ বিষয়ে মাঠ প্রশাসনকে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, “নির্বাচনে কারও বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ উঠলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
    এএসআই পদে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হলে বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণীর জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে পুলিশের উপস্থিতি বাড়ায় নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
  • শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামানের নির্দেশে জুলাই গণহত্যা : সাবেক আইজিপি

    শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামানের নির্দেশে জুলাই গণহত্যা : সাবেক আইজিপি

    অনলাইন ডেস্ক: চব্বিশের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান দমনে সরাসরি লেথাল উইপন (মারণাস্ত্র) ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ শেখ হাসিনাসহ তিন জনের বিরুদ্ধে মামলায় গতকাল রাজসাক্ষী হিসেবে দেয়া জবানবন্দিতে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন এ কথা বলেন।

    চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সঙ্গে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকেও আসামি করা হয়। গত ১০ জুলাই তিনি এ মামলায় দোষ স্বীকার করে নিয়ে অ্যাপ্রুভার (রাজসাক্ষী) হওয়ার আবেদন করেন ট্রাইব্যুনালে। তার আবেদন মঞ্জুর করা হয়।  মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে দেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর এই প্রথম কোনো আসামি অপরাধ স্বীকার করে ‘অ্যাপ্রুভার’ (রাজসাক্ষী) হিসেবে জবানবন্দি দেন।

    জবানবন্দিতে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের মাধ্যমে গত বছরের ১৮ জুলাই শেখ হাসিনার ওই নির্দেশনা পেয়েছিলেন তিনি। সেদিন থেকেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহার শুরু হয়েছিল। শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের নির্দেশে গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে।

    গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ শুরু হলে সাক্ষীরা যেখানে জবানবন্দি দেন, সেখানে তাকে নেওয়া হয়। এরপর তিনি জবানবন্দি দেওয়া শুরু করেন।

    ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে আন্দোলন নির্মূলে আসা নির্দেশের বিষয়টি জবানবন্দিতে তুলে ধরেন চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। তিনি বলেন, গত বছরের ১৮ জুলাই তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান তাকে ফোন করে জানান, আন্দোলন দমনে সরাসরি ‘লেথাল উইপন’ ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছেন শেখ হাসিনা। তখন তিনি পুলিশ সদর দপ্তরে ছিলেন। ওই সময় তার সামনে উপস্থিত থাকা পুলিশ কর্মকর্তাদের নামও উল্লেখ করেন সাক্ষ্যে। ওই দিন থেকেই মারণাস্ত্র ব্যবহার শুরু হয়।

    জবানবন্দিতে চৌধুরী মামুন বলেন, মারণাস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে অতি উৎসাহী ছিলেন ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর ও ডিএমপির সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের নির্দেশ ছিল, যেকোনো মূল্যে আন্দোলন দমন করতে হবে।

    সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট সকালে তিনি পুলিশ সদর দপ্তরের নিজ কার্যালয়ে যান। ইতোমধ্যে উত্তরা, যাত্রাবাড়ী এবং বিভিন্ন পথ দিয়ে স্রোতের মতো ছাত্র-জনতা ঢাকা শহরে প্রবেশ করতে শুরু করে। সেদিন দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যে তিনি জানতে পারেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছেড়ে দেবেন।

    ক্ষমতা ছেড়ে শেখ হাসিনা কোথায় যাবেন, তা জানতেন না বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন তিনি।

    তিনি আরো বলেন, চব্বিশের ৫ আগস্ট বিকেলে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার এসে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে তাদের প্রথম তেজগাঁও বিমানবন্দরে এবং সেখান থেকে ক্যান্টনমেন্টের অফিসার্স মেসে নিয়ে যায়। এ সময় তার সঙ্গে হেলিকপ্টারে করে ক্যান্টনমেন্টে যান তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার, এসবির প্রধান ও আমেনা বেগম (তৎকালীন ডিআইজি)। তার পরের পালায় তৎকালীন অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, অতিরিক্ত ডিআইজি লুৎফুল কবিরসহ অন্যদেরও ক্যান্টনমেন্টে নেওয়া হয় হেলিকপ্টারে করে। পরে গত বছরের ৬ আগস্ট আইজিপি হিসেবে তার চুক্তি বাতিল করা হয় বলে জানান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।

    তিনি বলেন, ক্যান্টনমেন্টে অবস্থানকালীন তাকে গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার করা হয়।

    জবানবন্দিতে চৌধুরী মামুন বলেন, সমন্বয়কদের আটকের দায়িত্ব পান ডিবির হারুন। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই থেকে প্রায় প্রতি রাতে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের ধানমন্ডির বাসায় ‘কোর’ কমিটির বৈঠক হতো। বৈঠকে আন্দোলন দমনসহ সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হতো। কমিটির একটি বৈঠকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের আটক করার সিদ্ধান্ত হয়। ডিজিএফআই এই প্রস্তাব দেয়। তিনি এর বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে তিনি রাজি হন। আটকের দায়িত্ব তৎকালীন ডিবিপ্রধান হারুনকে দেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত মোতাবেক ডিজিএফআই ও ডিবি তাদের আটক করে ডিবি হেফাজতে নিয়ে আসে।

    জবানবন্দিতে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, সমন্বয়কদের ডিবি হেফাজতে এনে আন্দোলনের বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আপস করার জন্য চাপ দেওয়া হয়। তাদের আত্মীয়স্বজনকেও ডিবিতে এনে চাপ দেওয়া হয়। সমন্বয়কদের আন্দোলন প্রত্যাহার করে টেলিভিশনে বিবৃতি দিতে বাধ্য করা হয়। এ ব্যাপারে তৎকালীন ডিবিপ্রধান হারুন অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ডিবির তৎকালীন প্রধান হারুনকে ‘জিন’ বলে ডাকতেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    জবানবন্দিতে গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত অপরাধের দায় স্বীকার করেন সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। প্রত্যেক শহীদের পরিবার, আহত ব্যক্তি, দেশবাসী ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কাছে ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেন, ‘আমাকে দয়া করে ক্ষমা করে দেবেন।’

    জবানবন্দিতে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, তিনি সাড়ে ৩৬ বছর পুলিশে চাকরি করেছেন। সব সময় পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে। কিন্তু তার চাকরিজীবনে কখনো কোনো অভিযোগ আসেনি। চাকরিজীবনের শেষ পর্যায়ে তার দায়িত্বকালে এত বড় গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে। এর দায় তিনি স্বীকার করছেন। তিনি বলেন, ‘আমার এই সত্য ও পূর্ণ বর্ণনার মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটিত হলে আল্লাহ যদি আমাকে আরও হায়াত দান করেন, বাকিটা জীবন কিছুটা হলেও অপরাধবোধ থেকে মুক্তি পাব।’

    বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ুএ গতকাল সাক্ষ্য দিয়েছেন চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    জবানবন্দির পর ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, সিদ্ধান্তগুলো রাষ্ট্রের কোন জায়গা থেকে, কীভাবে এসেছে, নির্দেশনা আসার পদ্ধতিগুলো কী ছিল, বাস্তবায়ন ধাপে ধাপে কীভাবে হয়েছে, কোন ‘কমান্ড স্ট্রাকচার’ কীভাবে কাজ করেছে-এসব তথ্য সাবেক আইজিপি ট্রাইব্যুনালে তুলে ধরেছেন।

    চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, এটি একটি অকাট্য ও অপ্রতিরোধ্য সাক্ষ্য। চব্বিশের জুলাই-আগস্ট শুধু নয়, গত ১৫-১৬ বছরে দেশে গুম-খুনসহ যেসব মানবতাবিরোধী অপরাধ হয়েছে, সে বিষয়ে একটি অকাট্য দলিল তিনি ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেছেন।

    ট্রাইব্যুনালে এই মামলায় প্রসিকিউসন পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এসএইচ তামিম শুনানি করেন। একসময় অপর প্রসিকিউটররা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে এই মামলায় পলাতক শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন। আর এই মামলায় গ্রেফতার হয়ে পরে রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ।

    মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে গত ১০ জুলাই অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। একপর্যায়ে এই মামলায় দোষ স্বীকার করে ঘটনার সত্যতা উদঘাটনে (অ্যাপ্রোভার) রাজসাক্ষী হতে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের আবেদন মঞ্জুর করেন ট্র্যাইব্যুনাল।

    এ মামলায় গতকাল ১১ তম দিনে মামুন ৩৬ তম সাক্ষীর সাক্ষ্য দেন। এর আগে আরও ৩৫ জনের সাক্ষ্য ও জেরা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    এটি ছাড়াও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আরও দুটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় আওয়ামী লীগের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে গুম-খুনের ঘটনায় তাকে আসামি করা হয়েছে। অন্য মামলাটি হয়েছে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়।

    গত বছরের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান দমনে আওয়ামী লীগ সরকার, এর দলীয় ক্যাডার ও সরকারের অনুগত প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি অংশ গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করে বলে একের পর এক অভিযোগ জমা পড়ে। দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এসব অপরাধের বিচার কাজ এখন চলছে।