Category: প্রচ্ছদ

  • গণতন্ত্র ও সুশাসন নিশ্চিত না হলে চাপের শঙ্কা বাংলাদেশের !

    গণতন্ত্র ও সুশাসন নিশ্চিত না হলে চাপের শঙ্কা বাংলাদেশের !

    নিউজ ডেস্ক: ফের ট্রাম্প জামানায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর যে মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, তাও প্রত্যাশিত, চমক নেই খুব একটা। ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠজনরাই মূলত দায়িত্বশীল পদে। অনেকেই বলছেন, কয় বছর আগেও মোস্ট আনপ্রেডিক্টেবল ট্রাম্প এখন মোস্ট প্রেডিক্টেবল। ভোটের আগের ও পরের কথা আর কাজে দারুণ মিল তার।

    যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বাংলাদেশ খুব গুরুত্বপূর্ণ না হলেও মার্কিন নীতি দারুণভাবে প্রভাবিত করে ঢাকাকে। সেইসাথে চীন ও ভারত নিয়ে ট্রাম্পের ভাবনা আর পদক্ষেপে প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশেও।

    বিশ্লেষকরা শঙ্কা করছেন, গণতন্ত্র ও সুশাসন নিশ্চিত করতে না পারলে ট্রাম্প প্রশাসনের চাপের মুখে পড়তে পারে বাংলাদেশ। এতে করে বাংলাদেশে মার্কিন সহায়তাও কমতে পারে।

    তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র্রের চীন নীতি, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা খাতে প্রভাব ফেলার শঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না। আর চীন ও ভারত— দুই প্রতিবেশির সাথে আগের মতো ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক রাখাও কঠিন হতে পারে বলে ধারণা তাদের। সেক্ষেত্রে কোনো একটি পক্ষ বেছে নেয়ার চাপও বাড়তে পারে ঢাকার ওপর।

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক শাহাব এনাম খান বলেন, যেসব জায়গায় অর্থনৈতিক সুবিধা থাকবে সেইসব দেশের সাথে এক ধরনের জোরালো সম্পর্কের সৃষ্টি হবে। চীনের ক্ষেত্রে তার একটা ব্যতিক্রম হওয়ার সম্ভাবনা আছে। ভারতের সাথেও ব্যতিক্রম হওয়ার সম্ভাবনা এবং দুটোই বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বাংলাদেশের স্থিতিশীলতার সাথে জড়িত। চীন-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে বাংলাদেশের ফরেন পলিসির গতিপ্রকৃতি কী হবে, এইটা আগের মতো যেটা আমরা বলতাম ব্যালেন্সিং, এইটা খুব সম্ভবত থাকবে না। সুতরাং সেখানে এক ধরনের অ্যালায়েন্স পলিটিকসের মতো টিল তৈরি হতে পারে, সেটা নিয়ে আমাদের প্রস্তুতি থাকা দরকার।

    সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহফুজুর রহমান বললেন, গণতন্ত্রের জন্য আমাদের যে সংগ্রাম, সেখানে বাংলাদেশ যদি দ্রুত একটা সুশাসন প্রতিষ্ঠিত করতে না পারে, যে ফর্মেই হোক অথবা যে ধরনের সরকারের মাধ্যমেই হোক তাহলে আমরা সম্ভবত আরও একটা বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে যাচ্ছি। রিপাবলিকানরা ঢালাওভাবে যে অর্থ সাহায্য বা প্রকল্প সাহায্য যেটা করে সেটা অবশ্যই স্থিমিত হয়ে আসবে, মানে কমে যাবে।

    বাংলাদেশের এককভাবে সবচে বড় রফতানি বাজার যুক্তরাষ্ট্র। খুব স্বাভাবিক কারণেই ট্রাম্পের ট্যাক্স নীতি ভাবাচ্ছে বিশ্লেষকদের। এর বাইরে জলবায়ু ও স্বাস্থ্য খাত কিংবা রোহিঙ্গাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বরাদ্দ কমতে পারে বলে ধারণা।

    তাই ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্ক জোরদার এবং নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় বরাদ্দ বাড়াতে মিশনকে আরও সক্রিয় হওয়ার তাগিদ দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা। পাশাপাশি উন্নতি করতে হবে অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির।

    অধ্যাপক শাহাব এনাম খান বলেন, বাংলাদেশের ওয়াশিংটন দূতাবাসকে সর্ম্পূর্ণ ঢেলে সাজানো, অনেক বেশি আর্থিক দিকটাও চিন্তা করতে হবে। কারণ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসনের লবির কিন্তু একটা বড় রকমের ভূমিকা থাকবে আগামী চার বছর। সুতরাং সেই জায়াগাতে আমাদেরকে এখন মনোযোগ দিতে হবে।

    মাহফুজুর রহমান বললেন, মার্কিন পররাষ্ট্র নীতিতে চীন নীতিটা যখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে, তখন হয়তো আমাদের প্রতিরক্ষা নীতিতেও কিছুটা প্রভাব ফেলবে। যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কতগুলো প্রস্তাব অনেকদিন থেকেই ঘুরাঘুরি করছে, ঝুলে আছে, এইগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে নতুন ধরনের কোনো ব্যবস্থার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে চাপ আসতে পারে। এগুলো মোকাবেলার জন্য আমাদের একটা বিশ্বাসযোগ্য ও জনপ্রিয় সরকার দরকার। একইসাথে সুশাসনও দরকার।

    ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অগ্রাধিকার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থরক্ষা, সেটি মাথায় রেখেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কাজ করার পরামর্শ দিলেন এই দুই বিশ্লেষক।

    সূত্র যমুনা টিভি

  • বাংলাদেশের হাটঘাট থেকে ইজারা প্রথা বাতিল করতে হবে

    বাংলাদেশের হাটঘাট থেকে ইজারা প্রথা বাতিল করতে হবে

    জেলা প্রতিনিধি: বাংলাদেশের হাটঘাটে ইজারা প্রথা বাতিল করতে হবে। যে কৃষকের শ্রমে ঘামে ফসল উৎপন্ন হয় সেই কৃষকের জন্য কালা আইন বীজ বিপনন ও কৃষি বীজ আইন ২০১৮ বাতিল করতে হবে। সরকার কৃষকের নামে প্রতি বছর ভর্তুকী হিসেবে ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করে আমার কৃষককে না দিয়ে, বিদেশী করপোরেশন বিভাগকে দেয়।

    যেখানে আমার কৃষককে মাত্র ৫০০ টাকা ঋণের জন্য আইন শৃংখলা বাহিনী কোমড়ে দড়ি বেঁধে নিয়ে যায়। রবিবার দুপুরে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার জোড়গাছ বাজার সংলগ্ন ব্রহ্মপূত্র নদ তীরবর্তী শফিউল আলম রাজা স্টেডিয়াম মাঠে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক এডভোকেট হাসনাত কাইয়ূম। তিনি আরো বলেন, ‘সবচাইতে বেশী খাজনা তোলা হয় খেটে খাওয়া মানুষের কাছ থেকে অদৃশ্য খাজনা হিসেবে। প্রত্যেকটা প্রয়োজনীয় জিনিষ থেকে সরকার প্রতি বছর ৮ লক্ষ কোটি টাকা খাজনা তুলে নেয়। এই খাজনা তুলে নিয়ে উপদেষ্টারা এখন নাকি হেলিকপ্টারে চড়ে বেড়ায়।

    কৃষকের খাজনার টাকা দিয়ে আফিসারদের গাড়ি কিনে দেয়া হয়। তারা গাড়ি চালায়, তাদেরকে তেল কিনে দেয়া হয়। ঢাকা শহরে দুইতলা তিনতলা রাস্তা নির্মানে যোগান দেয়া হয় বলে জানান তিনি। মহাসমাবেশে উত্তরবঙ্গ কৃষক মহাসমাবেশ কমিটির আহবায়ক নাহিদ হাসান নলেজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, নগর পরিকল্পনাবিদ নিয়াজ রহমান, শিক্ষা ও শিশু সুরক্ষা আইন (শিশির) এর আহবায়ক রাখাল রাহা, অর্থনীতিবিদ দিদারুল ভূইয়া, অনুষ্ঠানের সদর্স্য সচীব আমিনুল ইসলাম বীর, চিলমারী প্রেসক্লাবের সভাপতি নজরুল ইসলাম সাবু, প্রেসক্লাব চিলমারীর সভাপতি মনিরুল আলম লিটু, চিলমারী সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি সাওরাত হোসেন সোহেল প্রমূখ। বক্তারা বলেন, দেশ ভাগের পর বিভিন্ন আন্দোলনে কৃষকরা প্রাণ দিলেও সেই কৃষককে কোন সরকার মর্যাদা দেয় নাই।

    তাদের রক্ত চুষে সরকাররা বিদেশী কোম্পনাী গুলোকে সুবিধা দিলেও আমাদের কৃষককে সব সময় বঞ্চিত থাকতে হয়েছে। বিভিন্ন কোম্পানী গুলো এখন সার-বীজ-কীটনাশকের ব্যবসা করে জমির উর্ভরতা নষ্ট করলেও সরকার তাদের বিরুদ্ধে কোন আইনী পদক্ষেপ নেয় নাই। এখানকার তাঁতী-জেলে-কৃষক সমাজ মহাজনদের হাতে জিম্মি হয়ে আছেন। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে, দেশকে বাঁচাতে হলে আমাদের ১২দফা দাবী মেনে নিতে হবে। তাহলে অন্তর্বতী সরকারের যে সংস্কার আইন পরিকল্পনা রয়েছে তা বাস্তবায়ন হবে। কখনোই কৃষককে বাদ দিয়ে সংস্কার আইন আমরা মেনে নিবো না, মেনে নিতে পারি না। দাবি বাস্তবায়নে উত্তরবঙ্গ মহাসমাবেশ হাওর-বাওরসহ সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়া হবে বলে জানান তারা।

  • মধুপুরে ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে দোযা মাহফিল ও জনসভা অনুষ্ঠিত

    মধুপুরে ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে দোযা মাহফিল ও জনসভা অনুষ্ঠিত

    জেলা প্রতিনিধি:টাঙ্গাইলের মধুপুরে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে নিহতের স্মরণে মাকফেরাত কামনা ও আহতদের সুস্থতা কামনায় বিএনপি সমাবেশ করেছে। অরণখোলা ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
    রবিবার (২৬ জানুয়ারী)উপজেলার কাকরাইদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অরণখোলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব ফকির মাহবুব আনাম স্বপন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মধুপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকার।

    উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি এম রতন হায়দার এর সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন
    পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি আনোয়ারা খন্দকার লিলি,সাংগঠনিক সম্পাদক প্রভাষক ফরহাদ হোসেন তরফদার, নাসিম সরকার,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম ওবায়দুল্লাহ মাস্টার,পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান রবিন ,শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক চাঁন মিয়া,উপজেলা যুব দলের আহবায়ক হযরত আলী শেখ, সদস্য সচিব শাহাদত হোসেন ফকির,উপজেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব আবু সাইদ প্রমুখ।

    সমাবেশে বিএনপি, কৃষক দল, যুবদল,ছাত্র দল, শ্রমিকদল,মহিলাদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

    দুপুর থেকে উপজেলার অরণখোলা ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে শ্লোগানে শ্লোগানে বিএনপি সহ সর্বস্তরের জনগণ মিছিল নিয়ে সমবেত হতে থাকে। পরে সমাবেশ স্হলটি এক জনসমুদ্রে পরিনত হয়।

  • বর্তমান পুলিশের শতকরা ৮০ জনই আওয়ামী আমলের; আসিফ নজরুল

    বর্তমান পুলিশের শতকরা ৮০ জনই আওয়ামী আমলের; আসিফ নজরুল

    নিউজ ডেস্ক: বর্তমান পুলিশের শতকরা ৮০ জনই আওয়ামী আমলের; যাদের হৃদয়ে ছাত্রলীগ। তারা এ সরকারের জন্য কাজ করছে না— এমন মন্তব্য করেছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।

    রোববার (২৬ জানুয়ারি) জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে ৪টি বইয়ে প্রকাশনা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে এ মন্তব্য করেন তিনি।

    আইন উপদেষ্টা বলেন, বিপ্লব পরবর্তী কিছু সমস্যা থাকে। তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে সরকার। গণঅভ্যুত্থান নিয়ে সকলের মধ্যে যে ঐক্য ছিল, সেই ঐক্য আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলেও আশাপ্রকাশ করেন আসিফ নজরুল।

  • পাচারকৃত অর্থ ফেরাতে যা করা দরকার এই সরকার সব করছে ; প্রেস সচিব শফিকুল আলম

    পাচারকৃত অর্থ ফেরাতে যা করা দরকার এই সরকার সব করছে ; প্রেস সচিব শফিকুল আলম

    নিউজ ডেস্ক: পাচারকৃত অর্থ ফেরাতে যা করা দরকার এই সরকার সব করছে। টপ কনসালটেন্সি এজেন্সিগুলোর সাথেও আলাপ চলছে। প্রধান উপদেষ্টার এই সফরের আলোচনায় অন্যতম বিষয় ছিলো পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

    রোববার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে ফরেন সার্ভিস একাডেমির মিলনায়তনে এক বিফ্রিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।এ সময় প্রধান উপদেষ্টা উপ প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ, অপূর্ব জাহাঙ্গীর উপস্থিত ছিলেন।

    তিনি বলেন, যে টাকা চুরি হয়েছে তা দেশের মানুষের খেটে খাওয়া টাকা। অনেক উন্নত দেশে এই টাকা চলে গেছে। ড. ইউনূস আন্তর্জাতিক নেতাদের সাথে বারবার এই প্রসঙ্গটি তুলছেন। এ বিষয়ে সুইজারল্যান্ডের মন্ত্রীর সাথে আলাপ হয়েছে। তিনি বাংলাদেশে আসার কথাও বলেছেন। তবে এটি ধীরগতির প্রক্রিয়া বলে জানান তিনি।

    পোশাক শিল্প নিয়ে শফিকুল আলম জানান, গার্মেন্টসের এক্সপোর্ট কমেনি। ফ্যাক্টরি বন্ধ হবে, খুলবে। তবে সরকার দেখে যে দেশের এক্সপোর্ট বাড়ছে কিনা। বাংলাদেশের এক্সপোর্ট সেপ্টেম্বরে বেড়েছে ৭ শতাংশ, অক্টোবরে ১৬/১৮ শতাংশ, নভেম্বরে প্রায় ২২ শতাংশ। ডিসেম্বরে ১৮ শতাংশের মতো বলেও জানান তিনি।

    তিনি বলেন, যেসব ফ্যাক্টরির মালিক পালিয়ে গেছে, তাদের পুরো চাপটা সরকারের ওপর দিয়ে গেছেন। ব্যাংকগুলো থেকে চুরি করে যা যা ছিল সব নিয়ে পালিয়ে গেছে। শ্রমিকদের বেতন না দিয়ে তারা মজা দেখছেন। এক্সপোর্ট বাড়া মানে জব তৈরি হওয়া। ওভার অল এক্সপোর্ট আমাদের বাড়ছে। আমরা এক্সপোর্টের ফিগারের ব্যাপারে কোনো গড়মিল করছি না। শেখ হাসিনার আমলে এর গড়মিল হয়েছে।

    প্রেস সচিব জানান, আসিয়ান ফোরামে বক্তব্য দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। এ সময় বাংলাদেশ আসিয়ানের সদস্য হতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন তিনি। আসিয়ানের সাথে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে কথা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের নিয়ে বড় কনফারেন্স হবে। জাতিসংঘ এবং বাংলাদেশ মিলে এটি করবে। ৭০টির বেশি দেশ এবং এজেন্সি এতে অংশ নিবে বলেও জানান তিনি।

    তিনি আরও জানান, জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধান উপদেষ্টা। এর মধ্য দিয়ে ইউরোপের দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের নতুন বাণিজ্যিক দুয়ার উন্মোচিত হবে। বৈঠকে ওলাফ শলৎস স্ব-উদ্যোগে বাংলাদেশে বিজনেস ডেলিগেশন, স্পেশাল ডেলিগেশন পাঠানোর কথা জানিয়েছেন। তারা এসে নীতি-নির্ধারক ও দেশের বাণিজ্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলবেন।

  • ঠাকুরগাঁওয়ে রুহিয়ার বৃদ্ধা নাজু ঘরবাড়ি ভেঙ্গে ভিটা ছাড়া করেছে দুষ্কৃতরা !

    ঠাকুরগাঁওয়ে রুহিয়ার বৃদ্ধা নাজু ঘরবাড়ি ভেঙ্গে ভিটা ছাড়া করেছে দুষ্কৃতরা !

    জেলা প্রতিনিধি:ভাঙা ঘড়ির কাঁটা থেমে রয়েছে সোয়া ৬টার ঘরে। পড়ার টেবিলের বইগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে যত্রতত্র, কোরআন শরিফটিও পড়ে রয়েছে ভাঙা শোকেসের ওপরের এক কোনায়। আর বাড়ির মালিক গালে হাত রেখে বসে রয়েছেন ভাঙা চালের বারান্দায়।

    বৈষম্য বিরোধী ছাত্র ও জনতার আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগষ্টে সৈরাচার সরকারের পতন হয়েছে। সেই সাথে পতন হয়েছে সৈরাচার সরকারের অনুসারী ও মদত দাতাদেরও। গত ৫ আগষ্টের পর সারাদেশে বিরাজমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে ঘটেছে রাজনৈতিক দখল ও লুটপাটের মত ঘটনা। আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করেছে একটি স্বার্থান্বেষী মহল। ঠাকুরগাঁও রুহিয়ার বৃদ্ধা নাজুর সাথেও ঘটেছে ঠিক তাই। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাকে কাজে লাগিয়ে গত ২৪ আগষ্ট আওয়ামী লীগ সমর্থক তকমা লাগিয়ে তার বাড়ি এবং ভিটা লুটপাট, ভাঙচুড় ও দখল করে তাকে করা হয় ভিটে ছাড়া । জানা যায়, ঠাকুরগাঁও রুহিয়া থানার ১ নং রুহিয়া ইউনিয়নের বেকামি গ্রামের মৃত মজিবরের স্ত্রী বৃদ্ধা নাজু বেগমের সাথে একই গ্রামের খলিল রহমান ও তার ছেলে রুহুল আমিনের সাথে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল।

    এ সংক্রান্ত একটি মামলাও আদালতে চলমান রয়েছে। বিরোধীয় জমির ওপরে আদালতের ১৪৪ ধারা জারি থাকলেও ৫ আগষ্টের পর রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গত ২৪ আগষ্ট সে জমি এবং বৃদ্ধা নাজুর বাড়িটিও দখল করে নেয় অভিযুক্ত রুহুল আমিন। আর এ কাজে তিনি নাজু বেগমের পরিবারকে আওয়ামী লীগ সমর্থকের তকমা লাগিয়ে দখলে ব্যবহার করেন ভারাটে ছেলেপেলে সহ বিএনপির কিছু সমর্থকদের। সে সময় মারপিটে আহত করা হয় নাজু ও তার বিবাহযোগ্যা কন্যাকে এবং কৃষি কাজ করা একমাত্র ছেলেকে। তাদের বের করে দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয় তাদের বাড়িতে ঢোকার একমাত্র প্রবেশ পথটিও। এর পর থেকেই সন্তানদের নিয়ে অন্যে বাড়িতে আশ্রিত রয়েছেন বৃদ্ধা নাজু।

    নাজু জানান, আমাদের সাথে একটি জমি নিয়ে খলিল ও তার ছেলে রুহুলের ঝামেলা হয়েছিল। মামলাও চলছে বিষয়টি নিয়ে। আদালত যা রায় দিবে আমরা তাই মাথা পেতে নেব। তা না করে এবং আদালতের রায়ের অপেক্ষা না করে তারা আমাকে আর আমার সন্তানদের বের করে দেয়। আমি সন্তানদের নিয়ে এ বয়সে অন্যের বাসায় আশ্রিত রয়েছি। বাড়িতে ঢুকতে গেলে তারা বাধা দেয় প্রতিবারই এবং বাড়িতে ঢোকার রাস্তাটিও বন্ধ করে দেয়। তালাবদ্ধ ঘরের নানা আসবাবপত্র চুরি হয়ে যাচ্ছে। লোকমুখে শুনছি আমি এবং আমার ছেলে-মেয়ে বাসায় গেলে তারা আমাদের মারপিট করবে। আমার শুধু তাকিয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার নেই। নাজুর ছেলে রাজু হোসেন জানান, বাবা মারা যাবার পর আমাকে সংসারের হাল ধরতে কৃষিকাজ করতে হচ্ছে। আমি আর পরিারকে আওয়ামী লীগ সমর্থক বানিয়ে তারা আমাদের বাড়ি ও ভিটা জবরদখল করে আমার মা বোনের গায়ে হাত তুলে বের করে দেয়। আমিও প্রাণের ভয়ে সে এলাকায় আর যেতে পারিনা।

    জানিনা আমরা কিভাবে আবার নিজেদের বাড়িতে যেতে পারব। নাজু বেগমের প্রতিবেশিরা জানান, দখল করতে তারা এত বেশি লোকজন নিয়ে আসছিলো যে আমাদের নিরব দর্শক হয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিলোনা। নাজু আর তার পরিবারের ওপর তারা যে অত্যাচার করেছে তা অন্যায়। আদালত যদি নাজু আর তার পরিবারকে উচ্ছেদের নির্দেশ দিতো, তখন না হয় তাদের বাড়ি থেকে বের করে দিতো। নাজুর বাড়ির রাস্তাটিও বন্ধ করে দেয়ায় তারা আর বাড়িতেও ঢুকতে পারেনা। এটা অমানবিক । আমরা প্রতিবেশিরা আশা করছি সকল সমস্যা কাটিয়ে নাজু তার পরিবার নিয়ে আবারও নিজ বাড়িতে বসবাস করবে। অভিযুক্ত রুহুল আমিনের বাবা খলিল রহমান বলেন, নাজু বেগমরা একসময় আমাদের জমিতেই আশ্রিত ছিল। তারাই আমাদের জমি দখল করে এতদিন ছিলো। তবে বাড়ি ভিটা জবর দখল এবং নাজু ও তার পরিবারের ওপর হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্ত্বোর দিতে পারেননি।

    রুহিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ কে এম নাজমুল কাদের জানান, এ বিষয়ে মামলা হয়েছে। তবে নতুন করে বাসার মালামাল লুট বা চুরির বিষয়ে জানিনা। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।