Category: Uncategorized

  • বাসচালকের বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ

    বাসচালকের বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ

    টাঙ্গাইলে এক বাসচালকের বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধী এক নারী যাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা চালকের সহকারী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালত আজ শনিবার ধর্ষণের শিকার হওয়া ওই নারীকে সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব প্রান্তের বাসস্ট্যান্ডে এ ঘটনা ঘটে।

    বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নুরে আলম বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব প্রান্তে পুলিশের টহলরত সদস্যরা ওই এলাকার নৈশপ্রহরীর কাছে এ ঘটনা জানতে পারেন। পুলিশ বাসটি থেকে এক নারীকে উদ্ধার করে। ওই নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। পরে পুলিশ ওই বাসের চালকের সহকারী নাজমুলকে (২৫) আটক করে।

    গতকাল শুক্রবার এসআই নুরে আলম বাদী হয়ে বাসের চালক আলম খন্দকার (৪৫) ও চালকের সহকারী নাজমুলকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন।

    মামলায় চালক আলম খন্দকারের বিরুদ্ধে ওই নারীকে ধর্ষণ ও সহকারী নাজমুলের বিরুদ্ধে ধর্ষণে সহায়তা করার অভিযোগ আনা হয়েছে। আলম খন্দকার ভূঞাপুর উপজেলার ভূঞাপুর গ্রামের মৃত ইন্নছ আলীর ছেলে। নাজমুল একই উপজেলার যমুনা ৩ নম্বর পুনর্বাসন এলাকার আতোয়ার রহমানের ছেলে।

    শুক্রবার সন্ধ্যায় নাজমুলকে ওই মামলায় টাঙ্গাইল বিচারিক হাকিম আদালতে পাঠানো হয়। এ সময় তিনি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আদালতে জবানবন্দি দেন। জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. আশিকুজ্জামান জবানবন্দি লিপিবদ্ধ শেষে নাজমুলকে জেলে পাঠানোর আদেশ দেন।

    আদালত ও পুলিশ সূত্র জানায়, জবানবন্দিতে নাজমুল বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ১০টার পর ওই নারী টাঙ্গাইল নতুন বাস টার্মিনাল থেকে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব প্রান্তগামী বাসটিতে (যশোর-ব-৪৪২) ওঠেন। বিভিন্ন স্থানে অন্য সব যাত্রীরা নেমে যায়। সেতুর পূর্ব প্রান্তের বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছার পর ওই নারীকে একা পেয়ে চালক আলম খন্দকার ধর্ষণ করেন। এ সময় নাজমুল বাসের দরজায় দাঁড়িয়ে থেকে পাহারা দেন।

    মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার এসআই কবিরুল হক জানান, ওই নারী মানসিক প্রতিবন্ধী। তিনি শুধু নিজের নাম ও জেলার নাম বলতে পারেন। শনিবার তাঁকে টাঙ্গাইল বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির করে সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানোর আবেদন করা হয়। আদালত তাঁকে গাজীপুরের পুবাইলে সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দেন।

    এর আগে গত বছরের ২৫ আগস্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে রূপা খাতুনকে চলন্ত বাসে পরিবহনশ্রমিকেরা ধর্ষণ করেন। পরে তাঁকে হত্যা করে টাঙ্গাইলের মধুপুর বন এলাকায় ফেলে রেখে যান। পুলিশ ওই রাতেই তাঁর লাশ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্ত শেষে পরদিন বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় অরণখোলা পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে মধুপুর থানায় মামলা করেন। টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে রূপা খাতুনকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়ে আদালত গত ১২ ফেব্রুয়ারি চার আসামির মৃত্যুদণ্ড ও একজনের সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

  • দেয়াঙ পাহাড়ের জমিদারবাড়ি

    দেয়াঙ পাহাড়ের জমিদারবাড়ি

    এটি এখন কেবলই একটি পরিত্যক্ত বাড়ি। পেছনে এক দঙ্গল আগাছা। ভবনের গায়ে লতা-গুল্ম, ফাঙ্গাস।

    অথচ ইট-সুরকির গাঁথুনিতে পুরু দেয়ালের দ্বিতল এই বাড়িটিতে একসময় আনন্দের হিল্লোল উঠত। জমিদার, তাঁর পুত্র-কন্যা, পাইক-পেয়াদা মুখর করে রাখতেন বাড়িটি। উপমহাদেশের অনেক বিখ্যাত শিল্পী এই বাড়িতে বসে গান করেছেন।

    ‘বড় উঠান মিয়া বাড়ি’ নামে পরিচিত এ বাড়িটির প্রতিষ্ঠাতা রাজা শ্যামরায়। বাংলার নবাব শায়েস্তা খাঁ যখন চট্টগ্রাম বিজয় করেন, তখন তাঁর প্রধান সেনাপতি ছিলেন বড় ছেলে বুজুর্গ উমেদ খান। উমেদ খানের সহযোগী সেনাধ্যক্ষ ছিলেন রাজা শ্যামরায়। পরে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে দেওয়ান মনোহর আলী খান নাম নেন। পরিবারটির বয়স ৩৬০ বছরের ওপরে। এই পরিবারের ১৬তম প্রতিনিধি সাজ্জাদ আলী খান (মিঠু)। তিনি থাকেন চট্টগ্রাম শহরে। প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজ পড়তে গ্রামে যান। ৭০ থেকে ৭৫ বছর বাড়িটি পরিত্যক্ত পড়ে আছে।

    রাজা শ্যামরায়ের পরগনার নাম ছিল দেয়াঙ পরগনা। দেয়াঙ পাহাড়ের পাদদেশে এর অবস্থান। এখন জায়গাটি পড়েছে নবগঠিত কর্ণফুলী উপজেলার ২ নম্বর বড় উঠান ইউনিয়নে।

    গত ১৮ জুলাই রাস্তার পাশে গ্রামীণ বাজার, সরু সড়ক ধরে পৌঁছে যাই জমিদারবাড়িতে। বাড়ির সামনে বিরাট দিঘি। এক পাশে প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো ধবধবে সাদা ইলিয়াছ খান মসজিদ। মূল কাঠামো অবিকৃত রেখে এখন মসজিদটির সামনের দিকে বাড়ানো হচ্ছে।

    রাজা শ্যামরায় মূলত চট্টগ্রামের রাউজানের মানুষ। তাঁর সম্পর্কে একটি গল্প প্রচলিত আছে। নবাব শায়েস্তা খাঁ একদিন রাজার ক্ষমতা পরীক্ষা করার বুদ্ধি আঁটেন। শায়েস্তা খাঁ বলেন, এক রাতের মধ্যে শ্যামরায় যদি নবাবের বাড়ির সামনে একটি দিঘি খনন করে তাতে প্রস্ফুটিত পদ্ম দেখাতে পারেন, তবে তিনি আনন্দিত হবেন। সকালে নবাব দেখেন সত্যি সত্যি তাঁর বাসস্থানের সামনে এক বিস্তীর্ণ দিঘিতে প্রস্ফুটিত পদ্মফুল। কমলদহ দিঘি নামে সেটি আজও আছে চট্টগ্রাম শহরের উত্তরে।

    রাজা শ্যামরায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেও তাঁর পরিবারের আর কোনো সদস্য সধর্ম ত্যাগ করেননি। সাংবাদিক জামালউদ্দিনের লেখা দেয়াঙ পরগণার ইতিহাস বই থেকে জানা যাচ্ছে, ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর মুসলিম নারীকে বিয়ে করে নতুন জীবন শুরু করার ইচ্ছে প্রকাশ করেন শ্যামরায়। খবর পৌঁছে যায় শায়েস্তা খাঁর কাছে। অবশেষে শায়েস্তা খাঁ নিজ কন্যার সঙ্গে মনোহর আলী খানের বিয়ে দিতে সম্মত হন। এই বিয়ের মধ্য দিয়ে নবাব পরিবারভুক্ত চট্টগ্রামের জমিদারির এক-চতুর্থাংশ লাভ করেন মনোহর আলী খান ও তাঁর স্ত্রী। সেটা ১৬৬৬ সালের কথা।

    এই পরিবারটিকে বলা হয় চট্টগ্রামের দ্বিতীয় বৃহত্তম জমিদার পরিবার। একসময় তাঁদের জমিদারি হাতিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল। খাজনা আদায়ের সময় (পুণ্যাহ) ভারতবর্ষের সেরা শিল্পী, বাদক দল এ বাড়িতে এসে মাতিয়ে রাখত। এর বাইরে সারা বছর নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হতো।

    এই পরিবারের সদস্যরা ছিলেন ধর্মভীরু। চট্টগ্রামজুড়ে একাধিক ঐতিহাসিক মসজিদ, দিঘি, সড়ক, হাটবাজারসহ বহু জনহিতকর প্রতিষ্ঠান তাঁরা তৈরি করেছেন।

    সাজ্জাদ আলী খানের সঙ্গে কথা হলো টেলিফোনে। তিনি জানালেন, ‘শায়েস্তা খাঁর এক কন্যার সঙ্গে মনোহর আলী খানের বিয়ে হয়েছিল, সেটা সত্য। তবে সেই কন্যার নাম পরীবিবি নয়। অনেকে বলেন, তাঁর নাম ছিল নূরজাহান। তবে বিষয়টি আমরা আজ অবধি নিশ্চিত হতে পারিনি।’ পরীবিবি ছাড়া শায়েস্তা খাঁর আর কজন কন্যা ছিল তাও ঠিকঠাক জানা যায় না

  • ইলিশ পড়ছে, দাম কমছে

    ইলিশ পড়ছে, দাম কমছে

    ভাদ্র মাসের পূর্ণিমার ‘জো’তে ধরা পড়েছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। এতে জেলেদের পাশাপাশি ক্রেতাদের মুখেও হাসি। আকারভেদে ৩০০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে ইলিশের স্বাদ নিতে পারছে মানুষ।

    নগরের কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ৫০০ গ্রামের ইলিশ ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায়। এ ছাড়া আরও বড় আকারের ইলিশের দাম ৭০০ টাকা কিংবা আরেকটু বেশি। মাছের স্বাদও ভালো বলে জানিয়েছেন কয়েকজন ক্রেতা।

    গত ২৭ আগস্ট ছিল পূর্ণিমা। পূর্ণিমাকে কেন্দ্র করে চার দিন আগে থেকে জো (ইলিশ ধরার প্রাকৃতিক মৌসুম) শুরু হয়। পূর্ণিমার পরের চার দিনও জো থাকে। ভাদ্র মাসের পূর্ণিমা অমাবস্যায় সবচেয়ে বেশি ইলিশ ধরা পড়ে।

    উত্তর চট্টলা উপকূলীয় মৎস্যজীবী জলদাস সমবায় কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি লিটন দাশ বলেন, ভাদ্র মাসের পূর্ণিমার দিকে সব জেলে তাকিয়ে থাকেন। এবারও ইলিশ ধরা পড়েছে। যদিও তা অন্যবারের চেয়ে তুলনামূলক কম। তবে দাম কমেছে।

    সমুদ্র উপকূল কাট্টলী এলাকায় ছোট আকারের অর্থাৎ ৫০০ গ্রামের নিচের ইলিশগুলো প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৬০০ থেকে ৮০০ গ্রামের ইলিশের দাম ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা।

    উত্তর চট্টলা উপকূলীয় মৎস্যজীবী জলদাস সমবায় কল্যাণ ফেডারেশনের অধীনে পতেঙ্গা থেকে সীতাকুণ্ড উপকূল পর্যন্ত ৩৮টি গ্রামের প্রায় ৫২ হাজার পরিবার মৎস্য পেশার সঙ্গে যুক্ত। তারা প্রতিদিন ছোট ছোট নৌকাযোগে সমুদ্র, নদী উপকূলে মাছ ধরতে যায়। বিকেল নাগাদ মাছ নিয়ে উপকূলে ফিরে আসে। সেখানে আড়তদারদের কাছে এসব মাছ জমা দেয়। ক্ষুদ্র জেলেদের মাছ আড়তদারদের পাশাপাশি খুচরা ব্যবসায়ীরাও কিনে নেন।

    নগরের প্রধান মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র হচ্ছে ফিশারি ঘাট। গতকাল ফিশারি ঘাট বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, ঠেলাগাড়ি, পিকআপযোগে নগর ও বিভিন্ন স্থান থেকে ইলিশ আসছে আড়তে। ইলিশ নামিয়ে টুকরিতে ভরে রাখা হয়েছে। এরপর আকার অনুযায়ী নিলামে উঠছে ইলিশ। খুচরা ব্যবসায়ীরা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন বিভিন্ন কাঁচাবাজারে।

    পাইকারিতে ৫০০ গ্রামের ইলিশ প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৭০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকায়।

    খুচরা বাজারেও কমে গেছে দাম। নগরের সিরাজউদ্দৌলা সড়কের কাঁচাবাজারে গতকাল শাহাবুদ্দিন নামের এক ব্যক্তি ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেনেন ৬০০ টাকা কেজি দরে।

    অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে প্রজনন মৌসুমের কারণে ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দেবে মৎস্য দপ্তর। এর আগে আরও দুটি জো পাবেন জেলেরা।

    মৎস্য দপ্তর জানায়, গতবার সারা দেশে প্রায় পাঁচ লাখ টন ইলিশ পাওয়া গিয়েছিল। এবারও লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী মাছ ধরা পড়ছে।

  • চলন্ত বাস থেকে ফেলে যাত্রী হত্যার ঘটনায় সেই সহকারী গ্রেপ্তার

    চলন্ত বাস থেকে ফেলে যাত্রী হত্যার ঘটনায় সেই সহকারী গ্রেপ্তার

    বাস থেকে ফেলে রেজাউল করিমকে হত্যার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করেন এলাকাবাসী। গতকাল বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের সিটি গেট এলাকার কালিরহাটে। প্রথম আলো ফাইল ছবি চট্টগ্রামে যাত্রীকে চলন্ত বাস থেকে ফেলে হত্যার ঘটনায় বাসের সেই সহকারী মো. মানিক সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ শনিবার ভোররাত চারটার দিকে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার নিজ বাড়ি থেকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্যরা তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

    পিবিআই সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার হাজিরহাট হাসমত হাওলাদারের বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    গত ২৭ আগস্ট চট্টগ্রাম শহরতলির সিটি গেট এলাকায় চলন্ত বাস থেকে রেজাউল করিমকে (৩৫) ফেলে দেওয়া হয়। মুহূর্তের মধ্যে বাসের চাকায় পিষ্ট হন তিনি। মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত পান রেজাউল। হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁকে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে রেজাউলের শরীরের আঘাতের কথা উল্লেখ রয়েছে।

    রেজাউলকে চলন্ত বাস থেকে ফেলে হত্যার ঘটনায় চট্টগ্রাম নগরের আকবর শাহ থানায় পরদিন ২৮ আগস্ট দণ্ডবিধির ৪০২, ৩২৫ ও ৩৪ ধারায় মামলা হয়। নিহত রেজাউলের মামা আহমেদুর রহমান মামলাটি করেন।

    পিবিআই চট্টগ্রাম মহানগর এলাকার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মাঈন উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ ভোররাতে লক্ষ্মীপুরের গ্রামের বাড়ি থেকে মানিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে চট্টগ্রামে আনা হচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে। তাই তাঁকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।

    পুলিশ সূত্র জানায়, ২৭ আগস্ট বেলা ১টা ৪০ মিনিটের দিকে নগরের প্রবেশমুখ সিটি গেটের পাশে গ্ল্যাক্সো কার্যালয়ের সামনে রেজাউল করিমকে লুসাই পরিবহন লিমিটেড নামের একটি বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে হত্যা করা হয়। বাসের সহকারী মানিকের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডার সূত্র ধরে তাঁকে চলন্ত বাস থেকে ফেলে দেওয়া হয় বলে সহযাত্রী ও স্বজনদের অভিযোগ।

    নিহত রেজাউল সিটি গেট এলাকার কালিরহাটের ওয়ালি উল্লাহর ছেলে। এই ঘটনার প্রতিবাদে ২৭ আগস্ট সিটি গেট এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এক ঘণ্টা অবরোধ করেছিলেন এলাকাবাসী। চট্টগ্রামসহ সারা দেশে এই ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।

    চট্টগ্রাম নগরের চার নম্বর যাত্রাপথের লুসাই পরিবহন লিমিটেড নামের বাসটির মালিক মো. শাহাবুদ্দিন। তিনি পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। বাসটির কাগজপত্রের মেয়াদ আগামী বছরের ২৯ জুলাই পর্যন্ত রয়েছে।

    বাসের সহকারী মো. মানিক সরকার নগরের কৈবল্যধাম আবাসিক এলাকার ফিরোজ শাহ কলোনিতে বাস করতেন। যাত্রীকে বাস থেকে ফেলে দেওয়ার পর তিনি এবং চালক গা ঢাকা দেন। এই ঘটনায় চালক এখনো গ্রেপ্তার হননি।

  • খুলে দেওয়া চোখ আবার বন্ধ

    নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকেও বলা হচ্ছিল, শিক্ষার্থীরা চোখ খুলে দিয়েছে। ঈদযাত্রায় সড়কে মৃত্যুর মিছিল এবং সাম্প্রতিক সড়ক-নৈরাজ্য দেখে মনে হচ্ছে, রাজপথে নেমে শিক্ষার্থীরা যে চোখ খুলে দিয়েছিল, তা আবার বন্ধ হয়ে গেছে।

    গতকাল শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে আলোচকেরা এসব কথা বলেন। ঈদুল আজহার সময় সংঘটিত সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ বিশ্লেষণ করে দুর্ঘটনার প্রতিবেদন তৈরি করেছে সমিতি। লিখিত বক্তব্য দেন সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

    বক্তব্যে বলা হয়, এবার ১৬ থেকে ২৮ আগস্ট ১৩ দিন ঈদযাত্রা বলে ধরা হয়েছে। এই সময়ে সড়ক, রেল ও নৌপথে মোট ২৭০টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হয়েছে ২৭৮ জন। দুর্ঘটনার বেশির ভাগই ঘটেছে সড়কপথে। ২৩৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ২৫৯ জন। আহত হয়েছে ৯৬০ জন। আর রেলপথে ১৯টি দুর্ঘটনায় ১৫ এবং নৌপথে ১৪টি দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত হয়েছে। নৌ-দুর্ঘটনায় ৮ জন এখনো নিখোঁজ। তাঁদের নিহত ব্যক্তিদের তালিকায় ধরা হয়নি। সড়ক দুর্ঘটনার বেশির ভাগই ঘটেছে বাসে, ২৯ দশমিক ১৮ শতাংশ। কাভার্ড ভ্যান ও ট্রাক দুর্ঘটনা ২৩ দশমিক ৬ শতাংশ। আর মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ১৬ দশমিক ৭২ শতাংশ।

    সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ফিটনেসবিহীন গাড়ি, বেপরোয়া গতি, পণ্যবাহী পরিবহনে যাত্রীবহন, অদক্ষ চালক, বিরতিহীন গাড়ি চালানো, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মহাসড়কে নছিমন-করিমনজাতীয় ছোট যানের চলাচলের কারণে দুর্ঘটনাগুলো ঘটেছে।

    গত ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। সেদিন থেকে নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় নেমে আসে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেয়।

    সরকারের প্রতিশ্রুতির পরও সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামছে না। ঈদযাত্রায় সড়কে নিহত ব্যক্তিদের সংখ্যা এবং চট্টগ্রামে বাস থেকে ফেলে যাত্রী হত্যা, কুষ্টিয়ায় বাসের ধাক্কায় মায়ের কোলে থাকা শিশুর মৃত্যুর মতো সাম্প্রতিক নৈরাজ্য দেখে হতাশা প্রকাশ করেন আলোচকেরা। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর সড়ক নিরাপদ করতে সরকার নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে পরিস্থিতি বদলাচ্ছে না বলে তাঁরা মনে করেন।

    সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও নিরাপদ সড়কের জন্য গঠিত জোট ‘সেভ রোড অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট অ্যালায়েন্স’ (স্রোতা)-এর আহ্বায়ক হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয় বা নেওয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু জবাবদিহির জায়গাটি কখনোই নিশ্চিত করা হয় না।

    সরকারের দুজন মন্ত্রীর পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সমিতির নেতৃত্বে থাকার বিষয়ে ইঙ্গিত করে হোসেন জিল্লুর বলেন, ‘যিনি নীতিনির্ধারণ করছেন, তিনি বা তাঁরা একাধারে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিত্বও করছেন। সুতরাং জবাবদিহির জোরালো দাবি যখন আসে, তখন অবধারিতভাবে তাঁরা তাঁদের বিষয়টা তুলে ধরার চেষ্টা করেন।’ তিনি মনে করেন, নীতিনির্ধারণী ক্ষেত্রে জবাবদিহি তৈরির যে জায়গা, সে জায়গাটা দুর্বল করে ফেলছে এই স্বার্থের দ্বন্দ্ব।

    পরিবহন খাতের সার্বিক উন্নয়ন ছাড়া সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামানো যাবে না বলে মনে করেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সাবেক চেয়ারম্যান আয়ুবুর রহমান। তিনি বলেন, ৫০ থেকে ৬০টি দিক পরীক্ষা করে একটি গাড়ির ফিটনেস দিতে হয়। পৃথিবীর কোথাও চোখে দেখে যানবাহনের ফিটনেস দেওয়া হয় না। ডিজিটাল ভেহিকল ইনস্পেকশন সেন্টার চালু করতে হবে।

    নতুন সড়ক নিরাপত্তা আইন পাস হলেই দুর্ঘটনা কমবে বলে মনে করেন না আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। তাঁর মতে, দেশে আইন মানার চর্চা নেই। আইনের বাস্তবায়ন নিয়ে সবার কথা বলতে হবে। নিজ নিজ জায়গা থেকে নীতিনির্ধারকদের ওপর চাপ তৈরি করতে হবে।

    সড়কে দুর্ঘটনা রোধে যাত্রী কল্যাণ সমিতি বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরেছে। এর মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা ইউনিট গঠন করে নিয়মিত দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান, প্রশিক্ষিত চালক গড়ে তুলতে সরকারি চালক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু, মহাসড়কে নছিমন-করিমন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বন্ধে সরকারের সিদ্ধান্ত শতভাগ বাস্তবায়ন, ভাঙাচোরা সড়ক সংস্কার এবং ফিটনেসবিহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন চলাচল বন্ধ করতে হবে।

    বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সড়ক গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মোয়াজ্জেম হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধে আইনের প্রয়োগ জোরদার করতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনার কারণে দেশের জিডিপির বড় অংশ হারাচ্ছে। এই ক্ষতি কমাতে সড়ক ব্যবস্থাপনায় সঠিক পরিকল্পনা, বিনিয়োগ ও বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

  • আওয়ামী লীগের কৌশল হচ্ছে কঠোর অবস্থান ধরে রেখে নির্বাচনের পথে হাঁটা

    আওয়ামী লীগের কৌশল হচ্ছে কঠোর অবস্থান ধরে রেখে নির্বাচনের পথে হাঁটা

    • আওয়ামী লীগের কৌশল হচ্ছে কঠোর অবস্থান ধরে রেখে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পথে হাঁটা।
    • বিএনপির একটা অংশকে ভোটে আনতে চায় সরকার।
    • বিএনপি মাঠে নামলে ধরপাকড়ের পরিকল্পনা
    • অক্টোবরে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন
    • ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভোট

    রাজনীতির মাঠ, আদালত ও সংসদ-এই তিন অঙ্গন ঘিরেই সেপ্টেম্বর হতে পারে ঘটনাবহুল মাস। সরকার ও সরকারি দল আওয়ামী লীগের কৌশল হচ্ছে কঠোর অবস্থান ধরে রেখে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পথে হাঁটা। আর বিরোধী দল বিএনপির লক্ষ্য জোট ভারী করে একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সরকারকে সমঝোতায় রাজি করানো। দুই পক্ষই ভোট সামনে রেখে এ মাস থেকেই মাঠ দখলে রাখা বা নেওয়ার লড়াইয়ে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

    নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, আগামী ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অক্টোবরে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন হতে পারে বলে সরকারি মহলে আলোচনা আছে। গতবারের মতো এবারও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন সরকার হবে, তবে মন্ত্রিসভার আকার ছোট হবে। তবে এতে বিএনপিসহ সংসদে প্রতিনিধিত্ব নেই এমন কোনো দলকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না বলে ইতিমধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

    এরই মধ্যে আগামী নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) চালু নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। ব্যালটের পাশাপাশি ইভিএম ব্যবহারের সুযোগ রেখে নির্বাচনসংক্রান্ত আইন গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ (আরপিও) সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে ইসি। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সূত্র জানায়, ইভিএম নিয়ে তাদের বাড়তি কোনো উচ্ছ্বাস নেই। তবে বিএনপিকে ইভিএমের পেছনে ব্যস্ত রাখতে পারলে লাভ।

    ৯ সেপ্টেম্বর দশম জাতীয় সংসদের ২২ তম অধিবেশন বসছে। এটাই শেষ অধিবেশন হতে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। সাধারণত শেষ অধিবেশন সংক্ষিপ্ত হয়। তবে এই অধিবেশন লম্বা না সংক্ষিপ্ত হবে, সেটা এখনো পরিষ্কার নয়। অধিবেশন শুরুর আগ দিয়ে সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটি বৈঠক করে অধিবেশনের মেয়াদ নির্ধারণ করে থাকে।

    বিএনপির সূত্র বলছে, যেকোনো মূল্যে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে দলটির মধ্যে জোরালো অবস্থান আছে। তারা সরকারবিরোধী অন্য রাজনৈতিক দল নিয়ে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলা এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি ও খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি।

    তবে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্র বলছে, বিএনপি মাঠে নামার চেষ্টা করলে ধরপাকড় শুরু করার পরিকল্পনা আছে। একই সঙ্গে বিএনপিতে বিভক্তি আসে কি না, সেদিকেও সরকারি দলের দৃষ্টি আছে। সরকারবিরোধীরা যাতে ঐক্যবদ্ধ না হতে পারে, সেই চেষ্টাও আছে আওয়ামী লীগের।

    আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান প্রথম আলোকে বলেন, বিভিন্ন দলের জোট গঠনের তৎপরতা, সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ-সব মিলিয়ে সবাই নির্বাচনের মুডে (মেজাজ) চলে গেছে। সেপ্টেম্বরে তা আরও বাড়বে। সংসদে প্রতিনিধিত্ব আছে এমন রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে একটি নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের যে রূপরেখা ২০১৩ সালে চালু হয়েছে, এবারও তা-ই করা হবে। অক্টোবরেই এই সরকার হতে পারে।

    সরকার ও আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ের সূত্র বলছে, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নিয়ন্ত্রণহীন ও দুর্বল বিএনপিকে ভোটে আনতে চায় সরকার। সরকারি দলের একটি অংশ ভাবছে, সুষ্ঠু নির্বাচনের নিশ্চয়তা না পেয়ে বিএনপি এবারও নির্বাচন বর্জন করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে বিএনপির একটা অংশকে নির্বাচনে আনা সহজ হবে। তবে ‘দুর্বল বিএনপি’ ভোটে এলে সংলাপের একটা সম্ভাবনা থাকবে।

    তবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রথম আলোকে বলেন, নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া ও বর্তমান সংসদ কার্যকর রেখে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে না। সরকারের দায়িত্ব এই অচলাবস্থা নিরসনে উদ্যোগ নেওয়া, সংলাপ শুরু করা।

    জোট-মহাজোটের নানা হিসাব
    আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল প্রায় এক যুগ পার করেছে। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের ভিত্তিও অনেক দিন আগের। এখন সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জোট-মহাজোট গঠনের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এরই মধ্যে গত মঙ্গলবার রাতে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের বাসায় বৈঠক করেন সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীসহ যুক্তফ্রন্টের নেতারা। তাঁরা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বৃহত্তর ঐক্য গঠনে কাজ করতে একমত হয়েছেন। যুক্তফ্রন্টে রয়েছে বিকল্পধারা বাংলাদেশ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) ও নাগরিক ঐক্য। এর বাইরে গত ১৮ জুলাই বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিসহ (সিপিবি) আটটি বাম দলের সমন্বয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটে। এই দুই জোট ঐক্যবদ্ধভাবে সরকারি বা বিরোধী যেকোনো জোটে যাবে, নাকি আলাদা তৃতীয় কোনো জোট করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। অবশ্য সরকারি দল আওয়ামী লীগ ইতিমধ্যে কামাল হোসেন ও বি. চৌধুরীকে নানাভাবে বিতর্কিত করার কৌশল নিয়েছে।

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রথম আলোকে বলেন, বৃহত্তর ঐক্যের বিষয়ে কাজ চলছে। প্রতিটি দল-জোট নিজেদের হিসাব-নিকাশ করছে। একটা অভিন্ন ইস্যু ধরে এগোনোর চেষ্টা চলছে।

    গত বছর মে মাসে দুটি দল ও দুটি রাজনৈতিক জোটের সমন্বয়ে সম্মিলিত জাতীয় জোট (ইউএনএ) নামের একটি ‘বৃহত্তর জোট’ গঠনের ঘোষণা দেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। অধিকাংশ অখ্যাত দল নিয়ে গড়া এই জোটের কোনো তৎপরতা চোখে পড়ে না। গত ১৮ জুলাই বিএনপির সাবেক মন্ত্রী নাজমুল হুদার বিএনএসহ অপরিচিত ৯টি দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটের সঙ্গে মতবিনিময় করে সরকারের শরিক হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

    জাতীয় পার্টি-জামায়াতের ভূমিকা কী হবে
    জোট-মহাজোট যা-ই হোক না কেন, ভোটের মাঠে এইচ এম এরশাদের জাতীয় পার্টিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে আওয়ামী লীগ। এ জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ যেকোনো নির্বাচনে জাপাকে পাশে চায় দলটি। ইতিমধ্যে এরশাদ আওয়ামী লীগকে এ বিষয়ে নিশ্চয়তা দিয়েছেন। তবে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী সূত্র বলছে, এরশাদ যা-ই বলুন না কেন, তাঁর অবস্থান ঠিক হবে পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে।

    বিএনপি ভোটের মাঠে জামায়াতকে শক্তি মনে করে। কিন্তু দলটির সঙ্গে গাঁটছড়া বিএনপিকে সমালোচনায় ফেলছে। বিএনপির একটি অংশ জামায়াতকে ত্যাগ করার পক্ষে। খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর তাদের মধ্যে দূরত্বও বেড়েছে। বিএনপির অনুরোধ উপেক্ষা করে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী দেয় জামায়াত। যদিও জামানত হারিয়েছে দলটির প্রার্থী। জামায়াতের নিবন্ধন নেই। তারপরও দলটিও ভেতরে-ভেতরে বিভিন্ন আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

    সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামাল প্রথম আলোকে বলেন, গত নির্বাচনের আগে যে পরিবেশ ছিল, এর পরিবর্তন এখনো দেখা যাচ্ছে না। এরপরও তাঁর বিশ্বাস, নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, দলগুলোর মধ্যে দায়বদ্ধতার বোধ তৈরি হবে। তখন জনগণের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তাঁরা দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হবেন। এর আগে জনগণকে ভূমিকা পালন করার পরিবেশটা রাজনীতিবিদদেরই তৈরি করে দিতে হবে। এর জন্য যতটা আন্তরিক ও সহযোগিতার মনোভাব দেখানো দরকার, তা রাজনীতিকেরা করবেন বলে তিনি মনে করেন।