Category: Uncategorized

  • পপ কিংয়ের ৬০তম জন্মদিন আজ

    পপ কিংয়ের ৬০তম জন্মদিন আজ

    আজ ২৯ আগস্ট, পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের জন্মদিন। পুরো নাম মাইকেল জোসেফ জ্যাকসন।

    ১৯৫৮ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা রাজ্যের গ্যারি নামে এক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

    মাইকেল জ্যাকসন একাধারে সংগীতশিল্পী, নৃত্যশিল্পী, গীতিকার, অভিনেতা, সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী। পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সবচেয়ে বহুল বিক্রীত অ্যালবামের সংগীতশিল্পীদের অন্যতম তিনি।

    জ্যাকসন পরিবারের ৮ম সন্তান মাইকেল মাত্র ৫ বছর বয়সে ১৯৬৩ সালে পেশাদার সংগীতশিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ২০০৯ খ্রিস্টাব্দের ২৫ জুন মাইকেল জ্যাকসন মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুতে সারা বিশ্বে আলোড়ন পড়ে যায়।

    ১৯৭১ সাল থেকে মাইকেল একক শিল্পী হিসেবে গান গাইতে শুরু করেন। মাইকেলের গাওয়া পাঁচটি সংগীত অ্যালবাম বিশ্বের সর্বাধিক বিক্রীত রেকর্ডের মধ্যে রয়েছে- অফ দ্য ওয়াল (১৯৭৯), থ্রিলার (১৯৮২), ব্যাড (১৯৮৭), ডেঞ্জারাস (১৯৯১) ও হিস্টরি (১৯৯৫)।

    তাকে পপ সংগীতের রাজা (King of Pop) হিসেবে আখ্যায়িত করা হয় অথবা সংক্ষেপে তাকে এমজে(Mj) নামে অভিহিত করা হয়।

    সংগীত, নৃত্য ও ফ্যাশন জগতসহ ব্যক্তিগতজীবনের বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষাপটে চার দশকেরও অধিককাল ধরে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বৈশ্বিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছেন।

    ২০০৯ সালে তার মৃত্যুর পর থেকে প্রতি বছর আমেরিকার রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে সপ্তাহব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জ্যাকসনের জন্মদিনের উৎসব উদযাপন করা হয়।

  • ‘বরফ গলেনি’ নির্বাচন কমিশনে

    গত এক সপ্তাহ ধরে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে অন্য চার কমিশনারের আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক কোনো বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। সিইসির কক্ষে কমিশনারদের অনানুষ্ঠানিক আলাপ-আলোচনার যে রেওয়াজ সেটিও দেখা যায়নি।

    কমিশন সূত্র বলছে, গত ৭ আগস্ট থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত এই সাত দিন সিইসির সঙ্গে চার কমিশনারের কার্যত কোনো দেখা-সাক্ষাৎ হয়নি। তবে আজ মঙ্গলবার বিকেলে এই ৫ সদস্য জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আগারগাঁওয়ে কমিশন কার্যালয়ে দোয়া মাহফিলে অংশ নেন।

    নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে হলে কমিশনের কাজে সমন্বয় থাকতে হবে। অন্যথায় ভালো নির্বাচন করা সম্ভব নয়। কেননা কমিশন যদি বিতর্কিত হয় এবং তাদের ওপর যদি ভোটারদের আস্থা না থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন করা কঠিন হয়ে যাবে।

    সিইসির সঙ্গে চার কমিশনারের এই দূরত্বের শুরু গত ৭ আগস্ট থেকে। ওই দিন সাংবাদিকদের এক প্রশ্নর জবাবে সিইসি নুরুল হুদা বলেছিলেন, জাতীয় নির্বাচনে কোথাও কোনো অনিয়ম হবে না—এমন নিশ্চয়তা দেওয়ার সুযোগ নেই।

    সিইসির এই বক্তব্যে নাখোশ হন অপর চার কমিশনার মাহবুব তালুকদার, রফিকুল ইসলাম, শাহাদাত হোসনে ও কবিতা খানম। পরদিন তাঁরা গণমাধ্যমকে বলেছেন, সিইসির এই বক্তব্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। আগামী জাতীয় নির্বাচনে যারা অনিয়ম করতে চায়, এই বক্তব্য তাদের উৎসাহিত করবে। চার কমিশনার আরও বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তারা শপথ নিয়েছেন। তাই সিইসির এই বক্তব্য কোনো অবস্থাতেই কমিশনের বক্তব্য নয়।

    সিইসির এই বক্তব্য এবং চার কমিশনারের প্রতিক্রিয়ার পর এক সপ্তাহ কেটে গেলেও এই সময়ের মধ্যে সিইসির সঙ্গে কমিশনারদের আলাপ-আলোচনা হয়নি। কমিশনার মাহবুব তালুকদার ও শাহাদাত হোসেনর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই সময়ের মধ্যে সিইসি নুরুল হুদাও কমিশনারদের কাউকে নিজের কক্ষে আমন্ত্রণ জানাননি। কোনো বিষয়ে কথা বরার জন্য কমিশনারদের ডাকেনও নি।

    তবে কমিশনের একটি সূত্র বলছে, ১৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার কমিশনের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা আছে। সেখানে সিইসি ও চার কমিশনারের থাকার কথা রয়েছে।

    সিইসি ও চার কমিশনারের এই অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে সাবেক নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, সিইসির এই ধরনের বক্তব্য দেওয়া ঠিক হয়নি। কারণ এতে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি না তা নিয়ে জনমনে আশঙ্কা তৈরি হয়। নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য কমিশনের হাতে শক্ত আইন আছে। সুষ্ঠু না হলে নির্বাচন বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতাও কমিশনের আছে। সুতরাং সিইসি যা বলেছেন তা ঠিক নয়। ছহুল হোসাইন আরও বলেন, সিইসির বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় চার কমিশনার যা বলেছেন সেটাও ঠিক হয়নি। কারণ তাদের বক্তব্য সিইসির প্রতি অনাস্থার শামিল। কমিশন এভাবে চললে সুষ্ঠু নির্বাচন করা দুরূহ হবে। তিনি বলেন, শীতল সম্পর্কের অবসান হওয়া উচিত। জাতীয় স্বার্থে বরফ তাড়াতাড়ি গলতে হবে।

    কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অতীতে যেসব কমিশন দায়িত্ব পালন করেছেন তাদের মধ্যে কখনো এমন সমন্বয়হীনতা দেখা যায়নি। সচিবালয়ের নির্ধারিত বৈঠকের বাইরেও রেওয়াজ অনুযায়ী কমিশনারেরা নিয়মিত সিইসির কক্ষে গিয়ে আলাপ আলোচনা করেন। নির্বাচন ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে মতবিনিময় করতেন। এতে করে যে কোনো সমস্যার সমাধানে গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হতো।

    কিন্তু বর্তমান কমিশন অতীতের সেই রেওয়াজ অনুসরণ করছে না। এই কমিশন একান্ত প্রয়োজন ছাড়া কখনো কোনো বৈঠক করে না। সংবিধান অনুযায়ী সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই হিসেবে ৩১ অক্টোবর থেকে নির্বাচনের দিন গণনা শুরু হবে। কিন্তু কবে নাগাদ নির্বাচন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা এবং কবে নাগাদ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে পারে, সে বিষয়ে এখনো কমিশনের বৈঠকে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি।

    নির্বাচন কমিশনার শাহাদাত হোসেন আজ বলেছেন, নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য রুটিন অনুযায়ী কাজ এগিয়ে চলেছে। কিন্তু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার বিষয় নিয়ে এখনো কমিশনে কোনো আলোচনা হয়নি।

    ইসি সচিবালয় সূত্র জানায়, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সিইসির সঙ্গে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের বিরোধ পরিষ্কার হয়ে ওঠে। বিরোধের কারণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অনিয়ম, স্থানীয় নির্বাচনের প্রচারে নিয়ম না মেনে সাংসদদের অংশগ্রহণ, বিরোধী দলের দাবি অনুযায়ী নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন না করা ইত্যাদি। সর্বশেষ তিন সিটির নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি অনিয়মের অভিযোগ উঠে বরিশালের নির্বাচন নিয়ে। মাহবুব তালুকদার বরিশালের নির্বাচন বন্ধ করার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেই সময়ে অন্য কমিশনারেরা তাঁর পাশে দাঁড়ায়নি। তবে সিইসির সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে অন্য কমিশনারেরা তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন।

    এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মাহবুব তালুকদার প্রথম আলোকে বলেন, এ নিয়ে তিনি কোনো কথা বলতে চান না। তিনি বলেন, কমিশনের কাজে নানা বিষয়ে তার মতভেদ আছে। তবে মতবিরোধ নেই।

    এ বিষয়ে ছহুল হোসাইন বলেন, সংবিধান বলেছে, কমিশন হলো একক সত্ত্বাবিশিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠান। এখানে কারও একক সিদ্ধান্ত বা মতের কোনো মূল্য নেই। কমিশনের বৈঠকে বসে সিদ্ধান্ত নিয়ে সেটা বাস্তবায়ন করতে হবে। তা না করে যে যার মতো বিবৃতি দিতে থাকলে সিইসির সঙ্গে কমিশনারদের দূরত্ব আরও বাড়তে। সুতরাং সিইসির দায়িত্ব হবে অন্য কমিশনার সঙ্গে নিয়ে নিয়মিত বৈঠকে বসা।

  • রাজধানীর সাত পশুর হাটের দরপত্র পাওয়া যায়নি

    তিনবার দরপত্র আহ্বান করেও ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ২২টি হাটের মধ্যে সাতটি অস্থায়ী পশুর হাটের দরপত্র পায়নি। দরপত্র পাওয়া হাটগুলোতে প্রস্তুতি চললেও অন্যান্য হাটের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়নি কর্তৃপক্ষ। তবে একটি মহল দরপত্র না হাওয়া হাটগুলোতে খাস আদায়ের মাধ্যমে পশুর হাট বসানোর চেষ্টা করছে। তবে এতে সিটি করপোরেশন রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    সিটি করপোরেশনের একাধিক কর্মকর্তা জানান, যেসব হাট নিয়ে প্রতিবছর ইজারাদারদের কাড়াকাড়ি শুরু হতো, এবছর সেসব হাট কেউ নিতে চায় না। যারা নিতে চায় তারাও ন্যায্য মূল্যের দরপত্র দিচ্ছে না। ফলে সংস্থার রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না।

    দফায় দফায় টেন্ডার আহ্বান করেও কাঙ্ক্ষিত দর মেলেনি রাজধানীর হাটগুলোতে। গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রায় সব কয়টি হাটেরই দর কম পড়েছে। বরাবরের মতো এবারো ইজারা সিন্ডিকেটের কারসাজির কারণে সিটি করপোরেশন অনেকটা বাধ্য হয়েই কম দরে হাট ইজারা দিচ্ছে। ফলে দুই সিটি করপোরেশন গত বছরের তুলনায় কমপক্ষে ১৫ কোটি টাকা রাজস্ব হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। এবার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৩টি অস্থায়ী হাটের ইজারামূল্য ধরা হয়েছে ১২ কোটি ১৮ লাখ ৩৭ হাজার ৬৭৫ টাকা এবং ডিএনসিসির ৭টি পশুর হাটের সরকারি ইজারামূল্য ধরা হয়েছে ১২ কোটি ৮৫ লাখ ৫৩ হাজার ৭৭ টাকা। গতবছর ডিএসসিসি অস্থায়ী পশুর হাট বাবদ রাজস্ব আয় ধরা হয়েছিল ১০ কোটি এক লাখ টাকা। আদায় হয় সাত কোটি ৮৬ লাখ টাকা। তবে চলতি অর্থবছরে (২০১৮-১৯) অর্থবছরে হাট বাবদ রাজস্ব আয় আট কোটি ৫০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু এ পর্যন্ত সংস্থাটির সাতটি হাট থেকে রাজস্ব আয় হয়েছে মাত্র তিন কোটি ৩৯ লাখ টাকা।

    অভিযোগ আছে, সাধারণ ব্যবসায়ীরা টেন্ডার প্রক্রিয়ার ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারেনি। ফলে সাতটি হাটে দরপত্র পাওয়া যায়নি। ঈদের আগমুহূর্তে হাটগুলো সিটি করপোরেশন থেকে খাস আদায়ের অনুমোদন নেয়ার জন্য মরিয়া হয়ে পড়েছেন একটি মহল।

    সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, এবছর রাজধানীতে দুই সিটি করপোরেশন ২২টি হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এর মধ্যে ডিএসসিসি ১৩টি ও ডিএনসিসি ৯টি স্থায়ী পশুর হাট রয়েছে। ডিএসসিসি ১৩টি হাটের ইজারা আহ্বান করলেও সাতটি হাটের ইজারা চূড়ান্ত হয়েছে। এদিকে ডিএনসিসিরও নয়টি অস্থায়ী হাটের মধ্যে একটির দরপত্র পাওয়া যায়নি।

    সূত্র জানায়, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দরপত্র জমা না পড়া হাটগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্রাদার্স ইউনিয়নের বালুর মাঠসংলগ্ন (গোপীবাগ-কমলাপুর) খালি জায়গা ও কমলাপুর স্টেডিয়ামের রাস্তার পূর্ব পাশে খালি জায়গা, আরমানিটোলা খেলার মাঠসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, ধূপখোলার ইস্ট অ্যান্ড ক্লাব মাঠসংলগ্ন খালি জায়গা, দনিয়া কলেজ মাঠসংলগ্ন খালি জায়গা ও সাদেক হোসেন খোকা মাঠের পাশে ধোলাইখাল ট্রাক টার্মিনালসংলগ্ন খালি জায়গা। অন্যদিকে, উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় উত্তর খান হাটটির ইজারা এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানা যায়।

    ডিএসসির দরপত্র চূড়ান্ত হওয়া অন্যান্য হাটের মধ্যে রয়েছে মেরাদিয়া বাজারসংলগ্ন খালি জায়গা, উত্তর শাহজাহানপুর খিলগাঁও রেলগেট বাজারের মৈত্রী সংঘের মাঠসংলগ্ন খালি জায়গা, ঝিগাতলার হাজারীবাগ মাঠসংলগ্ন খালি জায়গা, রহমতগঞ্জ খেলার মাঠসংলগ্ন খালি জায়গা, কামরাঙ্গীর চর ইসলাম চেয়ারম্যানের বাড়ির মোড় থেকে দক্ষিণ দিকে বুড়িগঙ্গা নদীর বাঁধসংলগ্ন খালি জায়গা, পোস্তাগোলা শ্মশানঘাটসংলগ্ন খালি জায়গা ও শ্যামপুরসংলগ্ন খালি জায়গা।

    রাজধানীর বিভিন্ন হাট ঘুরে দেখা গেছে, দরপত্র পাওয়া হাটগুলোর প্রস্তুতি চলছে। তবে দরপত্র না পাওয়া হাটগুলোর মধ্যে ব্রাদার্স ইউনিয়নের বালুর মাঠসংলগ্ন (গোপীবাগ-কমলাপুর) খালি জায়গা ও কমলাপুর স্টেডিয়ামের রাস্তার পূর্ব পাশে খালি জায়গা ঘুরে দেখা গেছে, চলছে হাটের প্রস্তুতি।

    এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলাল জানান, আমরা এরই মধ্যে সাতটি হাটের ইজারাপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি। ঈদের দিনসহ চার দিনের জন্য হাটের অনুমোদন দেওয়া হয়। যারা হাটের অনুমোদন পেয়েছে, তারা ঈদের ছয়-সাত দিন আগে হাট প্রস্তুতির কাজ শুরু করতে পারে। তবে যেসব হাটগুলোতে দরপত্র পাওয়া যায়নি সেগুলোতে তো কেউ কাজ শুরু করতে পারে না।

  • কোটা সংস্কার বিলম্বিত করার চেষ্টায় সরকার

    কোটা সংস্কার বিলম্বিত করার চেষ্টায় সরকার

    কোটার যৌক্তিক সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন কোটা সংস্কারের আন্দোলনকারীরা। কোটা সংস্কার দীর্ঘায়িত করার জন্য সরকার আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছে বলে মনে করছে কোটা আন্দোলনের সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। সংগঠনটি মনে করে, কোটা সংস্কারের নামে এটি প্রহসন।

    কোটা সংস্কার নিয়ে আজ সোমবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও ওই কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেছেন, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার, বাতিল ও পর্যালোচনায় গঠিত সরকারি কমিটির প্রাথমিক সুপারিশে কোটা প্রায় পুরোটাই উঠিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি মেধাকে প্রাধান্য দেওয়ারও সুপারিশ এসেছে। তবে মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন প্রথম আলোকে বলেন, ‘সরকার কোটা সংস্কারের কার্যক্রমকে দীর্ঘায়িত করতে চাইছে। আমাদের সঙ্গে প্রহসনের জন্য এটা করা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘সরকার থেকে আমাদের কাছে প্রস্তাব এসেছিল, কোটা তুলে দেওয়া হবে। কিন্তু আমরা কোটা পুরোপুরি তুলে দেওয়ার পক্ষে নই। মুক্তিযোদ্ধা, নারী, আদিবাসী, জেলা কোটাসহ যে ৫৬ শতাংশ কোটা আছে, তা কমিয়ে ১০ থেকে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হোক। আমরা চাই সবাই সমান সুযোগ পাক। এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নাতি-নাতনির যে কোটা আছে, তা যৌক্তিক নয়। আদালতের রায়েও এটি বলা হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘কোটার যৌক্তিক সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

    কোটা আন্দোলনের কারণে যাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁদের মুক্তি দাবি করে হাসান আল মামুন বলেন, ‘যাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁরা কেউ রাজনৈতিক কারণে গ্রেপ্তার হননি। আন্দোলনের কারণে তাঁদের বন্দী করে রাখা হয়েছে। আমি সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ করব, ঈদের আগেই তাঁদের মুক্তি দেওয়া হোক।’

  • শোক দিবসে বন্ধ থাকতে পারে যেসব সড়ক

    শোক দিবসে বন্ধ থাকতে পারে যেসব সড়ক

    আগামী ১৫ আগস্ট বুধবার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদাত বার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবসে উপল‌ক্ষেÿধানমন্ডি-৩২ এর চারদিকে রাস্তায় যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

    ১৫ আগস্ট ভোরবেলা হতে অনুষ্ঠান শেষ না হওয়া পর্যন্ত ধানমন্ডি ২৭ নম্বর পূর্ব মাথা হতে রাসেল স্কয়ার ও কলাবাগান হয়ে ধানমন্ডি ২নং রোড ক্রসিং পর্যন্ত (মিরপুর রোড) বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া প্রয়োজনে গাবতলীর দিক থেকে মিরপুর রোড হয়ে আগত পরিবহন সমূহ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ বামে মোড় নিয়ে ফার্মগেটের দিকে, নিউমার্কেটমুখী গাড়িসমূহকে ধানমন্ডি-২৭ নম্বর পূর্ব মাথা হতে ২৭ নম্বর রোড পশ্চিম মাথা হয়ে সাত মসজিদ রোড- ধানমন্ডি ২নং রোড, সিটি কলেজ হয়ে সায়েন্স ল্যাবরেটরির দিকে ডাইভারশন দেওয়া হতে পারে।

    শাহবাগ/নিউমার্কেট হতে সায়েন্স ল্যাবরেটরির দিকে আগত গাবতলী ও এয়ারপোর্ট গামী গণপরিবহন সমূহ ধানমন্ডি ২নং রোড হয়ে জিগাতলা-সাত মসজিদ রোড- ধানমন্ডি ২৭ নম্বর রোড পশ্চিম মাথা হয়ে ২৭ নম্বর রোড পূর্ব মাথা হয়ে যাবে। পান্থপথ ক্রসিং হতে রাসেল স্কয়ারের দিকে গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকবে।

    রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ শেষে ভেন্যু ত্যাগ করার পর সাধারণ জনগণ শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আসবেন। এ সময় সাধারণ জনসাধারণের গাড়িসমূহ রাসেল স্কয়ার হতে ধানমন্ডি ৬নং রোডের উভয় পার্শ্বে এক লাইনে এবং রাসেল স্কয়ার হতে পান্থপথ ক্রসিং পর্যন্ত উত্তর লেনে এক লাইনে গাড়ি পার্কিং করতে পারবেন।

  • রাজধানীতে ২ লাখ ৬ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ, আটক ৪

     

    বিশেষ প্রতিনিধি: রাজধানীর পূর্বাচল এলাকায় গত মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে একটি কাভার্ড ভ্যান ও একটি ট্রাসহ ২ লাখ ৬ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এ সময় কাভার্ড ভ্যানের চালক মো. মানিক মিয়া (২৭) ও হেলপার মো. আরিফ (২২) এবং ট্রাকের চালক মো.মাসুম মিয়া (৪০) ও হেলপার মো. আবদুল খালেককে (২৮) আটক করা হয়। পরে গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে পশুর চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যবহৃত লবণবহনকারী ট্রাকগুলোকে ইয়াবা পরিবহনে টার্গেট করেছে মাদক ব্যবসায়ীরা। এমন তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব গোয়েন্দা নজরদারী বাড়ায়। এরই প্রেক্ষিতে পূর্বাচল এলাকায় অভিযান চালিয়ে লবণবোঝাই একটি কাভার্ড ভ্যান ( ঢাকা মেট্রো-ট-২২-২৯২৭) ও একটি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট-২২-০২৮০) আটক করে র‌্যাব-১। তিনি জানান, পরে কাভার্ড ভ্যান থেকে ১ লাখ ৯৬ হাজার পিস এবং ট্রাকের অতিরিক্ত চাকার ভেতর থেকে ১০ হাজার পিস ইয়াবাসহ সর্বমোট ২ লাখ ছয় হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৭ কোটি ২১ লাখ টাকা। র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ইয়াবাগুলো সমুদ্র পথে মিয়ানমার থেকে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মহেশখালী হয়ে চকোরিয়ায় নিয়ে আসা হয়। সেখান থেকে ট্রাক চালক মাসুম এসব ইয়াবা চকোরিয়ার সিন্ডিকেট থেকে গ্রহণ করেন। সিন্ডকেটটি গত ২৮ জুলাই টেকনাফ থেকে লবণ লোড করে অপেক্ষা ও সুযোগ খুঁজতে থাকে। চলতি মাসের ৩ তারিখে টেকনাফ থেকে ঢাকায় রওনা হয় এবং রফিক নামের এক দালালের ছক অনুযায়ী চকোরিয়ায় গাড়ি মেরামতের অজুহাতে পূর্ব নির্ধারিত একটি ওয়ার্কশপে যাত্রা বিরতি করে। ওই সময় কাভার্ড ভ্যানে বিশেষ গোপনীয়তায় চালানটি রাখা হয়। এ ছাড়া ট্রাকের অতিরিক্ত চাকার ভেতর আরও ১০ হাজার পিস ইয়াবা লুকানো হয়। মুফতি মাহমুদ খান বলেন, ইয়াবা সংরক্ষণ শেষে প্রথমে ট্রাক নিয়ে মাসুম ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন, এর তিন-চার ঘণ্টা পর মানিক কাভার্ড ভ্যান নিয়ে এগোতে থাকেন। পরিকল্পনা ছিল সামনের ট্রাক ধরা পড়লেও পেছনের কাভার্ড ভ্যানে রক্ষিত বড় চালানটি যেন রক্ষা পায়। তিনি বলেন, আটক চারজনই গাড়ি চালাতে জানলেও তাদের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক লাইসেন্স নেই। এ চক্রটির সদস্য ১৫ থেকে ২০ জন। তারা গাড়ি চালানোর ছদ্মবেশে মাদকের ব্যবসা করতো। গত ১ বছর ধরে আটকরা এ চক্রের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এর আগে তারা আটটি চালান পাচার করে। এ চক্রটির মাদক পরিবহনের বিষয়টি নিযন্ত্রণ করে টেকনাফের দালাল রফিক। আটকরা জানান, পরিবহন সেক্টরে এ ধরনের আরও বেশকিছু সিন্ডিকেট রয়েছে। কক্সবাজারের স্থানীয় কিছু দালাল মাদক ডিলারদের যোগসাজশে পণ্যবাহী পরিবহনের চালক ও সহকারীদের মোটা অঙ্কের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের গাড়িতে ইয়াবা রাখার জন্য প্রলুব্ধ করে। মুফতি মাহমুদ বলেন, কেরানীগঞ্জে লবণ নামানোর পর বসিলা এলাকায় কাভার্ড ভ্যান থেকে বিশেষভাবে রাখা ইয়াবাগুলো বের করে তিনজনের সহায়তায় বিভিন্ন স্থানে পাঁচ মাদক ব্যবসায়ীর কাছে হস্তান্তর করারা টার্গেট ছিলো তাদের। তিনি বলেন, গত ২৫ জুলাই টেকনাফের র‌্যাবের অতিরিক্ত পাঁচটি ক্যাম্প স্থাপনের ফলে মিয়ানমার থেকে টেকনাফ হয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ইয়াবা সরবরাহ কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা নিত্য নতুন রাস্তায় ইয়াবা সরবরাহ করার পরিকল্পনা করে। সমুদ্রপথে মহেশখালী হয়ে চকোরিয়াসহ বিভিন্ন ল্যান্ডিং স্টেশন দিয়ে ইয়াবা চালানের নতুন রুট তৈরি করেছে। বিভিন্ন ল্যান্ডিং স্টেশন সম্পর্কে আমাদের কাছে তথ্য আছে এবং নজরদারির ফলে ধরাও পড়ছে। এক প্রশ্নের জবাবে মুফতি মাহমুদ বলেন, ইয়াবা চালান ল্যান্ডরুটে অনেকটা কন্ট্রোল হলেও সি-রুটে তা হয়নি। সেখানে হাজার হাজার ফিশিং ট্রলার রয়েছে, ওখানকার ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে সমুদ্র অনুকূল-প্রতিকূল বলে কিছু নেই। তবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের ব্যাপারে সোচ্চার রয়েছে। মাদকের গড ফাদারসহ সব পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।